কিভাবে অন্যের সমালোচনা করবেন

সমালোচনা সত্যিকারের লাভ তখনই হয় যদি তা ভালোর জন্য করা হয়। যদি আপনার উদ্দেশ্যই হয় অপরের দোষ ত্রুটির ফিরিস্তি দেওয়া অন্যের সমালোচনা করা , জ্ঞান দেওয়া বাঁ তাকে ছোট করা তা হলে মনের ঝাল হয়তো আপনি মিটিয়ে নিতে পারবেন, কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হবে না।বরং খামাখা শত্রু তৈরি করবেন, কেননা দোষ ধরিয়ে দেয়া কেউই পছন্দ করে না। তবে কাউকে সংশোধন করে দেওয়াটাই যদি আপনার আসল উদ্দেশ্য হয়, অনেক ভালো ফল পাবেন, যদি সাতটা নিয়ম মেনে চলেন আপনি।

সমালোচনা করবেন একদম গোপনেঃ

জনসম্মুখে কাউকে এমনকি নিজের শুত্রুকেও অপমান বা সমালোচনা করবেন না। কারও সমালোচনা করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে অন্য কেউ এসব কথা যাতে না শোনে। গলা নামিয়ে খুব আস্তে করে, মৃদু স্বরে কথা বলুন। কোনও ভাবেও এসব কথা যাতে অন্য কেউ না শোনে সে বিষয়ে সজাগ থাকুন।

ভালো দিক দিয়ে শুরু করুনঃ

সমালোচনার আগে পরিবেশটা নিজের মত করে নিবেন। যার সমালোচনা করবেন তাকে একটু ইজি করে নিলে ধাক্কাটা সহনীয় মাত্রায় থাকবে। বিষয়টা কে এভাবে বলা চলে – মারিতে মারিতে মিষ্ট কহিবে উপনিষদ।

সমালোচনা নৈর্বক্তিক হওয়া চাইঃ

সমালোচনা করার সময় আপনার সাথে তার সম্পর্কের ধরন অনুযায়ি কোন কথা বলবেন না বা তার সাথে আপনার সম্পর্কের অবস্থার ভিত্তিতে প্রভাবিত হয়ে কোন কথা বলবেন না। খেয়াল রাখতে হবে আপনি লোকটার নয়, তার কাজের সমালোচনা করবেন।

রাস্তা দেখাবেন আপনিইঃ

আপনি একজন লোকের সমালোচনা করলেন, তার কাছে আপনি অনেক ভালো সাজলেন বা নিজের পান্ডিত্য জাহির করলেন, কিন্তু তাকে সমাধানের কোন পথই দেখালেন না, এটা হতে পারে না। ভুল ধরলে তার সঠিকটা ধরিয়ে দেওয়া দায়িত্ব ও আপনার।

একটি কাজের সমালোচনা একবারঃ

সারা দিন যদি এক গানই গান সেটা আপনার বউয়ের ও ভএল লাগবে না। তেমনি সারা দিন ঘ্যানর ঘ্যানর করাটা ও কেউ ভাল চোখে দেখে না। তাই যে বিষয়ের সমালোচনাই করুন না, তা একবারই করবেন।

শেষ করুন বন্ধু হয়েঃ

শেষে আপনার ভাবটা যেন এমন হয়, “আর আমাদের মধ্যে কোন ও সমস্যা নেই। এখন আমরা বন্ধু, আসুন আমরা পরস্পরের সাহায্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি”। কোনও মতেই যেন সুরটা একরকম না হয়, “ আমার যা বলার বলে দিলাম, এবার তুমি তোমার মামলা সাম্লাও”। মনে রাখবেন এই পোস্টে যা নিয়ম বলা আছে এর মধ্যে এই শেষেরটাই সব চেয়ে দামি।