মহৌষধ আদা খাওয়ার নিয়ম

আদার ভেষজ গুন সম্পর্কে তেমন একটা ধারনা ছিল না আমার। তখনো চঞ্চলতায় আমার শরীর মন একেবারে শীর্ষে অবস্থান করছে। হোমিওপ্যাথি ডাক্তার- ডা. নাসির মাহমুদ মিয়াজী সাহেবের দোকানে পত্রিকা পড়তে গেলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো আদা নিয়ে দু লাইনের সুন্দর একটি ছন্দ- আরোগ্য লাভ হয় আধা, নিয়মিত খেলে আদা। লাইন দুটি আমার মস্তিষ্কের ভিতরে খেলা করতে লাগল। আদা এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়েও আমাদের কাছে এতো অবহেলিত? শুরু করলাম আদা নিয়ে পড়াশুনা। মনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হল, পাচ্ছিলাম না সঠিক উত্তর। আদার উপকারিতা কি?  আদা খাওয়ার নিয়ম কানুন কি? আদাতে কি কি উপাদান থাকে  ইত্যাদি।

সেই থেকে আদার প্রতি আমার আধা ভালোবাসা। আসলেই আমরা এই মহৌষধী আদার কদর যেমন জানি না, তেমনি আদা খাওয়ার নিয়ম কানুনও জানি না। অবশ্য আমরা ব্যধি চরমে না উঠলে এসব জানতে আগ্রহী হইও না। কিন্তু পৃথীবির সফল এবং স্বাস্থ্যবান মানুষেরা ঠিকই মশলা জাতীয় এই ফসলের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। এই উপলব্ধি থেকে আদার উপকারীতা এবং আদা খাওয়ার নিয়ম নিয়ে অনেক গবেষনা, পড়াশোনা এবং স্বাস্থ্য নিবন্ধ রচিত হয়েছে। তাই আজকে আপনাদের জন্য আদার উপকারীতা নিয়ে না লিখে আদা খাওয়ার নিয়ম নিয়ে লিখবো। মনে রাখবেন সুস্থতাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য হলেও এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার দৈনন্দিন জীবনে আদা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।


Related: ওজন কমাতে কী খাবেন- পুষ্টিবিদ ডাঃ নুসরাত জাহানের পরামর্শ


বাংলাদেশ সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আদার উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব অঞ্চলে আদা পর্যাপ্ত পরিমানে থাকার কারনে আমরা কাঁচা আদার ব্যবহার বেশি দেখতে পাই। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে আদার অপ্রতুলতার কারনে শুষ্ক বা গুড়ো আদাও পাওয়া যায়। তাই শুষ্ক আদার এবং গুড়ো আদা খাওয়ার নিয়ম ভিন্ন।

সাধারনত আমরা চায়ের সাথে, মাংসের সাথে এবং বিভিন্ন তরকারীর সাথে আদা ব্যবহার করে থাকি। চায়ের সাথে আদা খাওয়ার নিয়ম খুব সহজ। শুধু আদা কেটে কুচি করে চায়ের সাথে দিয়ে দিলেই হলো। আবার কেউ যদি আদার গুড়ো পাউডার ব্যবহার করেন তাহলে সেটা পরিমান মত দিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে চা আপনি কখন খাচ্ছেন। কেননা আদার শত উপকারের পাশাপাশি কিছু অপকারও দেখা দেয়ার ঘটনা রয়েছে যদি আপনি আদার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করেন। তাই সতর্ক থাকুন অতিরিক্ত আদার ব্যবহার থেকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে একটুকরো আদা খাওয়ার নিয়ম বা অভ্যাস থাকে অনেকের। কিন্তু এক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। কারন খালি পেটে আদা খেলে আপনার গ্যাস্ট্রিকের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। আদা খাওয়ার নিয়ম জানিনা বলেই আমরা উপকারি এই আদার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকি। যদি সঠিক প্রক্রিয়া আর পরিমাণমত আদা গ্রহন করতে পারতাম তাহলে আরো আধিক পরিমাণে উপকৃত হতাম। তাই খালি পেটে আদা না খেয়ে হালকা কিছু খেয়ে আদা খেতে পারেন। তবে খালি পেটে খেলে যদি আপনার সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে আপনি খালি পেটেও খেতে পারেন।

যদি চা খাওয়ার অভ্যাস আপনার না থাকে তাহলে এক গ্লাস গরম পানিতে আদার জুস বানিয়ে ফেলুন। আদা কুচি করে কেটে তিন চার মিনিট রেখে সে পানি পান করুন। প্রতিদিন এক গ্লাস আদার জুস খাওয়ার অভ্যাস আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে আরো শক্তিশালি করবে। তাই আদা খাওয়ার নিয়ম মেনে প্রদিদিন এক গ্লাস আদার তৈরি জুস খাওয়ার অভ্যাস করুন।

দ্যা ইউনাইটেড স্টেসস ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) একটি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তারা কিছু আদা খাওয়ার নিয়ম বাতলে দিয়েছেন। তাছাড়া দৈনন্দিন কিছু ছোট খাটো স্বাস্থ্য সমস্যা যেমনঃ হজম, বমি বমি ভাব, শীত কালিন সমস্যা, ব্যাথা বেদনা দূরে, কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে প্রদাহ হলে আমরা আদার ব্যবহার করতে পারি। তাছাড়া পেট ব্যাথা বা ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন কয়েকটুকরো চিবিয়ে আদা খাওয়ার নিয়ম করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা গুড়ো-কাঁচা মিলিয়ে আদা প্রতিদিন ৪ গ্রামের বেশি গ্রহন যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন। আর গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে দৈনিক ১ গ্রাম আদা খাওয়ার নিয়ম করাই যথেষ্ট বলে মনে করেন তারা।


Related: ওজন কমাতে কী খাবেন- পুষ্টিবিদ ডাঃ নুসরাত জাহানের পরামর্শ


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন

Add a Comment