ওজন কমাতে কী খাবেন- পুষ্টিবিদ ডাঃ নুসরাত জাহানের পরামর্শ

ওবেসিটি বা স্থুলতা বর্তমানে একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। যদি কোন ব্যক্তির উচ্চতা অনুযায়ি ওজন, তাঁর কাম্য ওজনের ছেয়ে দশ ভাগ বেশি হয়ে থাকে তাহলে তাকে স্থুল হিসেবে গন্য করা হয়। আমাদের দেশে বর্তমানে এ সমস্যাটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর  এই সমস্যার কারনে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা যেমন কিডনি ডিজিজ, লিভার ডিজিজ, ডায়াবেটিকস এবং কার্ডিয়াক প্রবলেম সমূহ। তাই ওজন কমাতে কী খাবেন এই ধারনা থাকা খুবই জরুরি।

এই ওবেসিটি নিয়ন্ত্রনের মূলমন্ত্র হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রন করা। ওবেসিটি আসলে পুরোপুরি ডিপেন্ড করে একজন মানুষের লাইফস্টাইল মোডিফিকেশন, ফুড হ্যাবিট, এক্সসারসাইজ, সময় মত খাওয়া, সময় মত ঘুমানো ইত্যাদি। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মূল কথাই হচ্ছে খাদ্য নিয়ন্ত্রন করা। ওজন নিয়ন্ত্রন করার ক্ষেত্রে আমাদের একটা ব্যালেন্স ডায়েট ফলো করা খুবই জরুরি। আর ব্যালেন্স ডায়েট ফলো না করলে  বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি,মিনারেলের ঘাটতি থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।


Related Post: দম সাধনার সহজ পদ্ধতি


অনেকের ধারনা হচ্ছে ওজন কমানো মানেই না খেয়ে থাকা, কিন্তু এ ধারনাটি একেবারেই ভুল। মনে রাখতে হবে, আমাদেরকে ওজন কমাতে হবে খেয়ে, না খেয়ে নয়। তাই আমরা সারাদিনের জন্য যে খাদ্য তালিকা তৈরি করবো সেখানে অবশ্যই পরিমানমত কার্বোহাইড্রেট থাকতে হবে, প্রোটিন থাকতে হবে, ফ্রুটস থাকতে হবে, ভেজিটেবলস থাকতে হবে, আর এই জিনিস গুলো যদি আমরা সঠিকভাবে মেইন্টেইন না করি তাহলে মাথার চুল পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে স্কিনের উজ্জলতা কমে যাওয়া, দেখতে অনেক রোগা রোগা লাগা ইত্যাদি উপসর্গগুলো দেখা যায়। তাই ওজন কমানোর জন্য একটা ব্যালেন্স ডায়েট মেইন্টেইন করা খুবই জরুরি।

ওজন কমানোর জন্য শুরুতেই ভাবতে হয় কোন খাবারটা আমরা কতটুকু পরিমানে খাবো। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালোরি হিসাব করে একটা খাদ্য তালিকা তৈরি করে নিতে হবে এবং এই খাদ্য তালিকায় আমাদের খাদ্যের প্রত্যেকটি সেকশন থেকে আমাদের খাবারের জন্য নির্বাচন করে নিতে হবে। যেমন-  প্রোটিন, ফ্রুটস, ভেজিটেবলস, মিনারেলস ইত্যাদি।

ওজন নিয়ন্ত্রন করার ক্ষেত্রে আমরা খাদ্য তালিকাকে ৫ থেকে ৬ বেলায় ভাগ করে নিব।  যেমন সকালে আমরা যা খাবো তাতে অবশ্যই ক্যালোরির একটা বড় অংশ হতে হবে। ওজন কমানোর জন্য অবশ্যই পরোটা বা ভাতের পরিবর্তে লাল আটার রুটি বা ব্রাউন ব্রেড খাবো। মাছের তরকারি হলে মাছটাকে অবশ্যই না ভেজে রান্না করতে হবে। কারন আমাদের মাথায় রাখতে হবে এক চা চামচ তেল থেকে আমরা প্রায় ৪৫ কিলো-ক্যালোরি পেয়ে থাকি। তাই ওজন কমানোর জন্য তেলে ভাজা খাবার বাদ দিতে হবে।

বিকালের নাস্তায় ফ্যাটি কোন ফুড চুজ না করে ছোলা, সালাদ বা ফ্রুটস জুস আমরা খেতে পারি। সকালের তুলনায় রাতে অবশ্যই আমাদের পরিমানে কম খেতে হবে। কারন সকালে নাস্তা খাওয়ার পর আমাদের প্রচুর কাজ করতে হয় এবং প্রচুর ক্যালোরি বার্ন করে থাকি। রাতের খাবারের ক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের কোন ফিজিকেল এক্টিভিটিজ থাকে না বা ক্যালোরি বার্ন হওয়ার কোনো সুগোগ থাকে না। তাই রাতের বেলা পরিমানে কম খাওয়াও ওজন কমাতে খুব সহায়তা করে।

প্রতি বেলা খাবারের পর একটু টক দই খেলে ভাল হয় কারন টক দই শরীরের ফ্যাটটাকে বার্ন করে। টক দই এর পাশাপাশি প্রতিদিন বাদাম খাওয়াও ফ্যাট বার্ন করার জন্য কার্যকরি ভূমিকা রাখে।

আসল কথা হলো ওজন কমানোর জন্য আমাদের অবশ্যই শর্করা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে, শাক- সবজি বেশি খেতে হবে এবং প্রতিদি ব্যয়াম করতে হবে। এছাড়া সময়মত ঘুমানো, সময় মত খাওয়া দাওয়া করতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের কাম্য ওজনটুকু কমাতে পারব।


Related Post: সুখী জীবনের জন্য করনীয়


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন