কিভাবে জীবনে সুখী হবেন

হেলেন কেলারের একটি কথা আছে– সুখ আপনিই আসে না , একে তৈরি করে নিতে হয় সাম্প্রতিক কালে মনোবিজ্ঞানীরা আর গবেষকরাও বলছেন অনেকটা সেরকম কথাই তাদের মতেদৈনন্দিন জীবনে কিছু আপাত সাধারন আচরন বৈশিষ্ট্যই  সুখী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে আর ওয়ার্ল্ড হ্যপিনেস রিপোর্ট অনুসারেআপনি কতটা সুখী তার ওপর নির্ভর করে আপনার ভবিষ্যৎ সুস্বাস্থ্য

 

 

সম্পর্ককে গুরত্ব দিনঃ

পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু বান্ধব, প্রতিবেশি– সবার সাথে আপনার যে সম্পর্ক, তার যথাযথ মূল্যায়ন করুন।সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দিন। আপনি সুখী হবেন। আমেরিকার ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দীর্ঘ গবেষনার পর বলছেন এমন কথা। ৩০ বছর ধরে এক লক্ষ ২০ হাজার মানুষের উপর পরিচালিত এ গবেষনাটিতে তাদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাদের আয়, শিক্ষাদীক্ষা ,রাজনৈতিক  সম্পৃক্ততা, সেবামূলক কাজে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহন ইত্যাদি।

এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় আধুনালুপ্ত বিশ্বখ্যাত সাময়িকী নিউজউইক–এর একটি রিপোর্টে।রিপোর্টটিতে বলা হয়, সত্যিকার অর্থে তারাই সবচেয়ে বেশি সুখী, যাদের সম্পর্কগুলো তুলোনামূলক দীর্ঘস্থায়ী ও পরিতৃপ্তিময়। তাই কিভাবে জীবনে সুখী হবেন – টিপস নাম্বার এক হলো- সম্পর্ককে গুরত্ব দিন।

নিজেকে মেলে ধরুনঃ

দৈনন্দিন রুটিন কাজের বৃত্তে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। মাঝে মধ্যে অন্যরকম কিছু একটা করুন।নতুন কারো সাথে পরিচিত হোন। রাস্তা দিয়ে চলছেন, অচেনা কোনো পথিকের দিকে সাহায্যের হাতটি কি বাড়িয়ে দেয়া যায়? কিংবা  প্রতিদিনের ভারিক্কি গাম্ভীর্য ভুলে হঠাৎ প্রিয় গানের লাইন গেয়ে ওঠার মতো কিছু একটা। নর্থ ক্যারোলিনা ওয়েফ ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের পরামর্শটা সেরকমই। তাদের মতে, যারা প্রায়ই চেনা গন্ডীর বাইরে হাঁটতে পারেন, কিছুটা মেলে ধরতে পারেন নিজেদের, তাদের মনের ভাবগতিক ভালো থাকে, তারা আনন্দে সময় পার করেন।আর যারা সবসময় গুটিয়ে রাখেন নিজেদের, তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ঘটে এর উল্টোটা।তাই কিভাবে জীবনে সুখী হবেন – টিপস নাম্বার দুই হলো- নিজেকে মেলে ধরুন।

 পরার্থে ব্যয় করুনঃ

আমেরিকার বিখ্যাত ব্যবসাভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বস –এর উদ্যোগে একবার একটি সমীক্ষা চালানো হয়।এতে একদল স্বেচ্ছাসেবককে বিভিন্ন অঙ্কের কিছু ডলার দেয়া হয়। তাদেরকে দুটি দলে ভাগ করা হয়।একদলকে বলা হয়, তারা নিজেদের প্রয়োজনমত সেটি খরচ করতে পারে আর অন্যদলকে বলা হয় যে তারা যেন অর্থটা ব্যয় করে অন্যের জন্যে, অন্যের কল্যাণে। দিন শেষে দেখা গেল, যারা অন্যের কল্যানে ব্যয় করেছিল তারা তুলনামূলক সুখী ও আনন্দিত ছিলেন, সেই ব্যয়ের পরিমান যত অল্পই হোক। পরার্থে ব্যয় ওদের দারুন ভাবে উজ্জীবিত করে তুলেছিলো। দেখলেন তো কিভাবে জীবনে সুখী হতে হয়?

ইতিবাচকতা চর্চা জরুরিঃ

জীবনে চলার পথে প্রতিদিন কতরকম কিছুই তো ঘটে। এর মধ্যে নিশ্চই থাকে ভালো আর মজার কিছুও। সেগুলো লিখুন। বিস্তারিত লিখুন প্রতিদিন। এভাবে দৈনন্দিন সুখকর ঘটনাগুলো লিখতে লিখতেই আপনি একসময় হয়ে উঠবেন ইতিবাচক আর উদ্যোমী। পেনসিল্ভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পজিটিভ সাইকোলজি সেন্টার পরিচালিত একটি গবেষনায় এর প্রমান মিলেছে। তাতে বলা হয়েছে,হতোদ্যোম মানুষদের মধ্যে যারা প্রতিদিনকার ভালো বিষয়গুলো নিয়মিত লিখে গেছেন, ছয় মাসের মধ্যেই তাদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। তারা হয়ে উঠেছেন ইতিবাচক আর তুলনামূলক সুখী।

পানি পানে সুখঃ

সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আপনি প্রফুল্ল থাকবেন। ২০১২ সালে কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষনায় বলা হয়েছে, পানি শূন্যতা এমনকি শরীরে পানির নূন্যতম অভাবও মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। অবসাদ আর বিষাদ্গ্রস্ততা ভর করতে পারে আপনার ওপর। আর এটি তুলনামূলক বেশি ঘটে মহিলাদের ক্ষেত্রে।

উপরের উল্লেখিত কিভাবে জীবনে সুখী হবেন – এই সূত্রগুলো মেনে চললে আপনার জীবন সুখ ও প্রাচুর্য্যে ভরে যাবে।