কিভাবে মেয়েদের পটাতে হয়

বাংলাদেশে ছেলে ও মেয়ের অনুপাত যদি ১:৩ ধরি, তাহলে প্রতি ৩ জন মেয়ের মধ্যে একজন কে বেছে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আপনি। তাই কিভাবে মেয়ে পটাতে হয় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।  কিন্তু  মেয়েরা রহস্যময়ী, মমতার ভান্ডারী আর প্রেমের হিমাদ্রি। প্রকৃতি মেয়েদের রহস্যময়ী রুপে সৃষ্টি করেছেন বলেই তারা প্রাকৃতিক ভাবেই ছেলেদের আকর্ষন করে। আর এই আকর্ষন থেকেই তৈরি হয়েছে কবিতা-

 

 

জানিনা কিভাবে তোমার দেখা পাবো,

জানি না কিভাবে তোমাকে কাছে পাব।

মেয়েদের আচরন বহুরুপী আর রহস্যময়ী হওয়ায় তাদের কে কোন নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনা যায় না। তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তা তৈরি করতে পারে। তাই কোন বিশেষ নিয়ম এপ্লাই করেই আপনি কোন মেয়েকে পটিয়ে ফেলতে পারবেন এটা বলা মুশকিল। বিশ্ব সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মেয়েদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নিয়ে, দুর্বলতা নিয়ে, প্রেম আর প্রেমে পড়া নিয়ে যেসব গবেষনা  হয়েছে তাতে কিছু বিষয় সুস্পষ্ট হয়েছে,  আসলে কি তাদের শক্তি আর কি তাদের দুর্বলতা, কিসে তারা নরম হয় আর কিসেই বা তারা গরম হয়। এই আইডিয়া গুলো মাথায় রেখে চলতে পারলে, শুধু মেয়ে কেন তাঁর পুরো পরিবারকে পটাতে পারবেন আপনি। চলুন দেখে নেই মেয়ে পটানোর ক্ষেত্রে প্রযোয্য রিসার্স আইডিয়া গুলো-

  • ফ্রেন্ড জোনঃ

প্রথম পরিচয়ে মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ড জোনে থাকাই ভাল। ফ্রেন্ড জোন মানে হলো সম্পর্ক্টা বন্ধুত্বের আবরনে রাখা। কেননা মেয়েটির অতীত-ভবিষৎ না জেনে উতলা হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো আপনার কপালে দুঃখও থাকতে পারে।  তখন কিভাবে মেয়ে পটাতে হয় এর পরিবর্তে কিভাবে বিদায় দিতে হয় তা পড়তে শুরু করবেন। তাই ফ্রেন্ড জোনে থেকে কিভাবে তাঁর দৃষ্টীতে আসা যায়, তাঁর হার্ট থ্রব হওয়া যায় সে চেষ্টা করুন। আর এ সময়ে তাঁর চিন্তা ভাবনা এবং পছন্দ অপচ্ছন্দ গুলো জেনে রাখুন।

  • ঝামেলাহীন বিষয়ে কথা বলুনঃ

পরিচয়ের শুরুতে মেয়েদের সাথে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যদি কেউ তাঁর ব্যাক্তিগত বিষয়ে নিজ থেকে বলতে না চায়, তাহল তাকে চাপাচাপি করার প্রয়োজন নেই। এমন কিছু বলা ঠিক হবে না, যা শুনে মেয়েটি Uncomportable ফিল করে। প্রথম দিকে তাঁর প্রিয় মুভি, গান, ফ্যামিলি আর ইন্টারেস্ট গুলো জানুন। মেয়ে পটাতে গিয়ে তাঁর সাথে জোরজবরদস্তি করা ঠিক হবে না।

  • ভদ্র হোনঃ

ভদ্র ছেলে দেখলেই আমরা বোরিং মনে করি। আসলে আপনি ভদ্র তাঁর মানে হল কিভাবে অন্যকে সম্মান দিতে হয় তা আপনি জানেন। আর এটা এমন একটি গুন যা আধিকাংশ মেয়েরাই পছন্দ করে। কিছু সম্মান সূচক শব্দ যেমন- প্লিজ, থ্যাঙ্ক ইউ, ইউ আর ওয়েল কাম এই শব্দ গুলো কথা্র মাঝে ব্যবহার করুন এবং অন্যদের সাথেও মেয়েটির সামনে এভাবে কথা বলুন।

  • স্মার্ট থাকুনঃ

আগে দর্শনধারী, পরে গুন বিচারী। আপনাকে  কেমন দেখাচ্ছে সে দিকে সজাগ থাকুন। শারীরিক-মানসিকভাবে ফিট থাকলে আপনার যে আত্নবিশ্বাস থাকবে, তাতে খুব সহজেই আপনার কাঙ্ক্ষিত জীবন সঙ্গিনীর মনে জায়গা করতে পারবেন। প্রতিদিন সুষম খাবার, ব্যায়াম, এবং ঘুমের ফলে আপনার জীবন যাপনের মান বাড়বে,  এছাড়া পোষাক পরিধান করুন আপনার বাহ্যিক অবকাঠামো বিবেচনা করে। কিসে আপনাকে ভাল লাগে আর কিসে ভাল লাগে না তা বিবেচনা করে পোষাক নির্বাচম করুন। আর হ্যাঁ, চুলের যত্ন নিতে ভুলবেন না যেন।

  • নিজের সুন্দর ব্যাক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলুনঃ

চলাফেরায়, কথাবার্তা, আপনার সুন্দর ব্যাক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলুন। আপনার ইতিবাচকতা, দয়া, তাৎক্ষনিক আনন্দ দেয়ার ক্ষমতা, চিন্তা শক্তি এবং সুন্দর ব্যাবহার গুলো ফুটিয়ে তুলুন তাঁর কাছে। সে যেন বুঝতে পারে, আপনি তাঁর বয় ফ্রেন্ড হিসেবে বেস্ট।

  • নিজের যোগ্যতা গুলো দেখানঃ

মেয়েরা কখনো কখনো আপানার সৃজনশীল কাজগুলোকে পছন্দ করে ফেলতে পারে। যদি আপনার কোন ইউনিক টেলেন্ট থাকে তাহলে সুযোগ বুঝে তাকে সেটা দেখানোর চেষ্টা করুন। আপনি কি পারেন? ভালো গিটার বাজাতে পারেন? অথবা গাইতে পারেন? কেউ আবার ভাল খেলতে পারেন, কেউবা ভাল বলতে পারেন। এসব ইউনিক টেলেন্ট গুলো মেয়েদের খুব দুর্বল করে দিতে পারে। শুধু সুযোগ বুঝে তাদের সামনে উপস্থাপন করুন।

  • অনবরত কথা বলুন এবং সুন্দর প্রশ্ন করুনঃ

মেয়েদের প্রেমে ফেলার জন্য কি করতে হবে শুনবেন? তাহলে রহস্যটা বলেই দেই। এই টেকনিকটা ব্যাবহার করে ২৩ জন সুন্দরী আর তাদের ব্যাংক একাউন্ট জয় করেছিল- এক যুবক। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো প্রেমে ফেলার টেকনিকের কথা। সে বলল, মেয়ে পটানোর ক্ষেত্রে  রহস্যের কিছু নেই। আপনাকে যা করতে হবে তা হল শুধু মেয়েটির সাথে অনর্গল কথা বলে যান আর তাঁর আগ্রহ অনুযায়ী প্রশ্ন করুন। ব্যাস তাতেই কাজ হবে।

  • যখন শোনার পালা- শুধু শুনুনঃ

সাধারনত মেয়েরা বলার চেয়ে তাদের নিজেদের বিষয়ে শুনতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে তারা একেবারে কিছুই বলবেনা। যেরকমটাই বলুক না কেন, আপনি মনোযোগী শ্রোতার মত শুনতে থাকুন।

  • প্রশংসা করুনঃ

উইলিয়াম জেমস বলেছিলেন, মানব চরিত্রের  গভীর এক আকাঙ্ক্ষা হলো প্রশংসা পাওয়ার  আকুতি। কিন্তু সে প্রশংসা করতে হবে আন্তরিকভাবে। যাতে মেয়েটি নিজেকে স্পেশাল কেউ মনে করতে শুরু করে। উদাহরন চান?  তাহলে শুনুন- বাহ, আপনি তো বেশ সুন্দর বলতে পারেন !!

  • চোখে চোখ রেখে কথা বলুন;

মেয়েরা চোখে চোখ রেখে কথা বলা পছন্দ করে। আরে ভাই, এক্ষুনি পাগল যাবেন না, আগে তো শিখতে হবে কিভাবে আই কন্ট্রাক্ট করে ইম্প্রেস করতে হয়। আসলে কিভাবে মেয়ে পটাতে হয় এর প্রথম ধাপই হল- আই কন্ট্রাক্ট। চোখ মনের কথা বলতে পারে, আপনার চোখের ভাষায় যদি তাকে বোঝাতে পারেন যে তাঁর সঙ্গ আপনার ভাল লাগে, তাঁর সাথে থেকে আপনি বেজায় খুশি, তাহলেই হবে। বাকিটা সে বুঝে নিবে।

এই পুরো আর্টিকেলটি সামারাইজ করে বলতে বললে মেয়ে পটানোর সব নিয়ম বাদ দিয়ে আমি বলবো – জীবন শুধু মেয়ে পটানোতেই সীমাবদ্ধ নয়, নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যাতে মেয়েরা সুযোগ খুঁজতে থাকে কীভাবে আপনাকে পটানো যায়।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.