কেন ভালবাসায় ঝগড়া হয়

ভালবাসায় অনেক কারনেই ঝগড়া হতে পারে। সেসব ঝগড়া হয়তো মিটেও যায়, কিন্তু ক্রমাগত ঝগড়া হতে থাকলে, একটা সময় তা বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই আমরা যদি আমাদের অপজিট সেক্সকে বুঝার চেস্টা করি, তাদের ইন্টিমেসি সম্পর্কে অবগত থাকি,  তাদের কোনটা ভালবাসার কথা, কোনটা অভিমানের কথা তা বুঝতে পারি, তাহলে এসব ছোট-খাটো বিষয়গুলো এড়িয়ে একটা সুন্দর এবং সুখি  রিলেশন গড়তে সক্ষম হবো আমরা। তাই ছেলে ও মেয়েদের কিছু কমন ইন্টিমেসি নিয়ে আলোচনা করা হলো যেগুলো মেনে চলতে পারলে ৮০% ঝগড়া দূর হয়ে আনন্দময়, সুখী এবং সুন্দর রিলেশন গড়তে পারবেন এবং দুজনেই বুঝতে পারেবেন ভালবাসা কি। আর এই ভালবাসার ইন্টিমেসিগুলো ডঃ জন গ্রেই এর লেখা ম্যান আর ফ্রম মার্স এন্ড উইমেন আর ফ্রম ভেনাস বই থেকে নেয়া হয়েছে। তাহলে আসুন জেনে নেই যেখানে ভাল্বাসার কথা সেখানে কেন ঝগড়া হয়ঃ-


♥মেয়েদের কাছে ছোট ছোট গিফট গুলো একটা বড় গিফটের সমান গুরুত্ব রাখে। ছেলেরা মনে করে তারা মেয়েদের একটা বড় গাড়ি গিফট করতে পারলে ৩০ পয়েন্টস পাবে, আর যদি একটা ছোট্ট গোলাপ গিফট করে, তাহলে ১ পয়েন্ট পাবে। অর্থাৎ ছেলেরা মনে করে বড় কিছু করতে পারলে মেয়েরা বেশি খুশি হয়। কিন্তু আসলে সত্যিটা হল, ছেলেরা মেয়েদের একটা গোলাপ গিফট করলে যেমন ১ পয়েন্ট দেয়, তেমনি একটা বড় গাড়ি গিফট করলেও মেয়েরা ছেলেদের ১ পয়েন্টই দেয়। অর্থাৎ মেয়েরা একটা বড় দামি গিফট পেলে যেমন খুশি হয়, কম দামি গিফট পেলেও তারা সমান খুশি হয়।

কিন্তু ছেলেদের কাছে ব্যাপারটা অন্য রকম, তাদের কাছে গাড়ি মানে ৩০ পয়েন্ট আর গোলাপ ফুল মানে ১ পয়েন্ট। তাই তারা মেয়েদেরও নিজেদের মত মনে করে।  মেয়েদের একটা বড় গিফট দিতে রাত দিন নিজের টাইম এবং এনার্জি দিয়ে পরিশ্রম করতে থাকে। এভাবে পরিশ্রম করে যখন ছেলেটা মাসের শেষে মেয়েটাকে একটা বড় গিফট দেয় আর এই গিফটটা পেয়ে মেয়েটা যখন ছেলেটাকে মাত্র ১ পয়েন্টই দেয়, তখন সেটা দেখে ছেলেটা হতাশ হয়ে পড়ে। ছোট থেকে ছোট জিনিস যেমন রোজ একটা হাগ বা সারা দিন কেমন কেটেছে জিজ্ঞেস করা, আই লাভ ইউ বলা বা ভালবাসার কথা বলা এই সমস্ত কিছু মেয়েদের কাছে অনেক বেশি ইম্পর্টেন্স রাখে।

যেমন একটা ফাইভ স্টার হোটেলে ডিনার মানে ছেলেদের কাছে এটা ১০ পয়েন্টস কিন্তু মেয়েদের কাছে সেটা ১ পয়েন্টস। অন্যদিকে একটা টু স্টার হোটেলের ডিনার, সাথে একটা রোজ আর একটা লাভ নোট বা প্রেমের কবিতা মানে মেয়েদের কাছে সেটা ৩ পয়েন্টস। কিন্তু ছেলেদের কাছে সেটার মানে ১ পয়েন্টস। তো এর সমাধান কি?

ছেলেদের মাথায় রাখতে হবে মেয়েদের কাছে ছোট ছোট জিনিসগুলো বড় বড় জিনিসগুলোর মতই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই ছেলেদের সেই মত স্মার্টলি ভালবাসার এক্ট করতে হবে। কোন একটা বড় জিনিস গিফট দেয়ার জন্য নিজের সমস্ত টাইম এবং এনার্জি ওয়াস্ট না করে, মাথা খাটিয়ে ছোট ছোট জিনিস খুজে বের করতে হবে যেগুলো পেলে মেয়েরা সমান খুশি হবে। যেমন মাঝে মধ্যে মুভি দেখতে নিয়ে যাওয়া, কুকিংয়ে হেল্প করা, নতুন কোন ড্রেস পরলে কমপ্লিমেন্ট দেয়া, প্রেমের কবিতা শোনানো । প্রতিদিন অন্তত একবার  হাগ করা, এভাবে প্রতিদিন ছোট ছোট জিনিস গুলো গিফট দিয়ে ছেলেদের নিজেদের স্কোরটাকে সব সময় হাই রাখার চেস্টা করতে হবে। যাতে মেয়েদের লাভ ট্যাঙ্ক সব সময় ফুল থাকে এবং তারা অনুভব করতে পারে আসলে ভালবাসা কি। তবেই একটা সুন্দর হাশি খুশি রিলেশনশিপ সারা জীবন বজায় থাকবে।


♥ছেলেদের ইন্টিমেসি অনেকটা রাবার বেন্ডের মত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রিলেশন শিপের শুরুর দিকে ছেলেরা মেয়েদের প্রতি ভীষন কেয়ারিং এবং ভীষন এটেন্টিভ থাকে। যার ফলে কিছু সময় পর এতো কেয়ার, এতো এটেনশন পেয়ে মেয়েরাও ছেলেদের প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। কিন্তু এর কিছু সময় পর হঠাৎ করেই ছেলেরা মেয়েদের প্রতি লেস কেয়ারিং( অবহেলা), লেস এটেন্টিভ হতে শুরু করে। মানে আগে যেমন দেখা করার কথা থাকলে ৩০ মিনিট আগে গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতো, এখন হয়তো ৩০ মিনিট পর রেডি হতে শুরু করে। তো এরকম কেন?

মেন আর ফ্রম মার্স উইমেন আর ফ্রম ভিনাস বইয়ের লেখক ডঃ জন গ্রেই এর মতে এর উত্তর লুকিয়ে আছে ছেলেদের ইন্টিমেসি সাইকেল অর্থাৎ আকর্ষন চক্রের মধ্যে।

তাঁর মতে ছেলেদের ইন্টিমেসি সাইকেলটা অনেকটা রাবার ব্রেন্ডের মত। এই রাবার ব্যান্ডের ইন্টিমেসি ধরতে পারলে মেয়েরা সহজেই বুঝতে পারবে আসলে ছেলেদের ভালবাসা মানে কি অর্থাৎ প্রথমে কাছে আসা, তারপর  দূরে যাওয়া এবং তারপর আবার ফুল ফোর্সে কাছে আসা। ভাবুন এই রাবার বেন্ডটির এক পাশে মেয়েটি এবং অপর পাশে ছেলেটি রয়েছে। তো রিলেশন শিপের শুরুর দিকে ছেলেটি যখন মেয়েটির থেকে দূরে ছিল তখন রাবার বেন্ডটি সম্পূর্ণ স্ট্রেস (টান টান) ছিল, ফলে এই ফুল স্ট্রেস অবস্থা থেকে যখন ছেলেটি কাছে আসা শুরু করলো, তখন সে ফুল পাওয়ারে আসতে লাগলো। কিন্তু যখন একটা সময়পর সে মেয়েটির সম্পূর্ণ কাছে এসে গেলো, তখন রাবার বেন্ডটি তাঁর সম্পূর্ণ শক্তি হারালো মানে লুজ হয়ে গেলো, যার ফলে তাদের মধ্যে ইন্টিমেসি অর্থাৎ আকর্ষন শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়লো। এবার যদি এই আকর্ষন শক্তিটাকে আগের মত পাওয়ারফুল করে তুলতে হয়, তবে রাবার বেন্ডটিকে আবার স্ট্রেস হতে দিতে হবে। অর্থাৎ ছেলেটিকে দূরের দিকে সরে যেতে দিতে হবে।

আর এখানেই মেয়েদের  সমস্যার সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ ক্লোজ হওয়ার পর নিজের নেচার অনুযায়ী ছেলেরা যখন দূরে চলে যেতে শুরু করে, তখন মেয়েরা ভয় পেতে শুরু করে এবং এই ভয়ের কারনে ছেলেটির পিছনে ধাওয়া করতে শুরু করে। যেটা রাবার বেন্ডটিকে কখনো শুরুর মত ফুল স্ট্রেস হতে দেয় না। যার ফলে সেই শুরুর মত পাওয়ারফুল ইন্টিমেসি কখনো অনুভব হয় না। যেহেতু ছেলেদের আকর্ষন চক্রটা রাবার বেন্ডের মত তাই তারা যত বেশি দূরে যাবে একটা সময় তত বেশি পাওয়ারের সঙ্গে তারা আবার মেয়েটির কাছে ফিরে আসবে। কিন্তু ক্লোজ হওয়ার পর এই দূরে যাওয়ার ব্যাপারটা মেয়েরা একদমই মেনে নিতে পারে না। তারা অনেকটা জোর করেই ছেলেদের বুঝাতে চায় ভালবাসা কাকে বলে।


♥ছেলেদের এবং মেয়েদের মানসিকতা আর পছন্দ-অপছন্দ সম্পূর্ণ আলাদা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিপরীতমুখীও। মানে ছেলেরা যদি মঙ্গল গ্রহের প্রানী হয় মেয়েরা হলো ভিনাস গ্রহের প্রানী। এজন্য ছেলে এবং মেয়ে দুজনেরই বুঝতে হবে ভালবাসা মানে কি।

ছেলেঃ অনেক দিন হলো শাক-সবজি খাই না।

মেয়েঃ দূর!! এগুলো কেউ খায় নাকি। 

ছেলেঃ তোমার মত মাংস খেয়ে খেয়ে ভূড়ি বাড়াবো  নাকি??

মেয়েঃ কি??? আমি খেয়ে খেয়ে ভূড়ি বাড়াই? ধ্যাত, তুমি থাকো তোমার শাক-সবজি নিয়ে।

ছেলেঃ আরে ???  উঠে যাচ্ছো কেন?? তোমার দাবিটা কি? আমি যতই চেস্টা করি তোমায় খুশি রাখার তুমি ততো আরো দুঃখী হয়ে যাও ?

মেয়েঃ হ্যাঁ, সব দোষতো আমারি, তুমি তো কিছুই করো না।

ছেলেঃ আমি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা অবধি অফিসে বসে পাগলের মত খাটছি কার জন্য? তোমাকে খুশি রাখতে পারার জন্যই তো?

মেয়েঃ তোমাকে কে বলেছে সপ্তাহে ৭ দিনই অফিসে কাটাতে? শুধু কি টাকা রোজগার করলেই সব হয়ে যায় ?


♥রিলেশনশিপে ঝামেলা হওয়ার মূল কারন আমরা ভুলে যাই আমাদের অপজিট সেক্স সম্পুর্ণ আলাদা। আমরা মনে করতে থাকি আমরা যেভাবে কাউকে ভালোবাসি বা বিহেভ করি, তারাও আমাদের সাথে তেমন বিহেভ করবে। যেটা কোন দিনই সম্ভব না। যার ফলেই মূলত বিভিন্ন ঝামেলার সৃষ্টি হয়। 

মেয়েঃ শোনোনা একটা কথা বলি, আজ একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে পারবে? রিলেশনশিপের শুরুর দিকেতো তুমি আমার কলেজ ছুটি হওয়ার ৩০ মিনিট আগে থেকেই আমার কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। আর এখন সারা দিনেও তোমার ৩০ মিনিট সময় হয় না আমার সাথে সময় কাটানোর মত, কথা বলার মত।

ছেলেঃ দেখি চেস্টা করে, 

মেয়েঃ  প্লিজ, এসো না একটু আগে আগে।

ছেলেঃ হু, তোমার তো খেয়ে দেয়ে কোন কাজ নেই। যত টেনশন সবতো আমারি, তোমার নেকলেস বানানোর জন্য টাকা দিয়ে আসতে হবে না আজ???


♥মেয়েরা যখন কোন সমস্যার কথা শেয়ার করে তখন তারা তাদের পার্টনারের কাছে সমাধান চায় না। বরং তাদের কাছে সাপোর্ট আশা করে। কিন্তু ছেলেরা যখন কোন প্রবলেম শেয়ার করে তখন তারা ভালো কোন সমাধান আশা করে।

মেয়েঃ আজ কলেজ যেতে একদম ইচ্ছা করছে না।

ছেলেঃ আমিতো বললাম আজ যেতে হবে না।

মেয়েঃ ওরকম হয়না, আজকে অনেকগুলো ইম্পর্টেন্ট ক্লাস রয়েছে।

ছেলেঃ তো নোটসগুলো কারও থেকে নিয়ে নিয়ো??

মেয়েঃ দূর!! তুমি চুপ করো তো।


♥ছেলেরা স্ট্রেস থাকলে কিছু সময় একা কাটিয়ে রিলাক্স হতে চায়। আর মেয়েরা কোন কিছু নিয়ে স্ট্রেস থাকলে সেটার ব্যাপারে আলোচনা করে রিলাক্স হতে চায়। ছেলেরা খুশি হয় যখন তারা নিজেরা নিজেদের সমস্যার একটা সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। আর মেয়েরা খুশি হয় যেখানে মেয়েদের সমস্যার কথা কেউ মন দিয়ে শোনে।

মেয়েঃ এই চাকরিটা আমি চেড়ে দিব, আর পারা যাচ্ছেনা।

ছেলেঃ হ্যা ভালো না লাগলে করে কি লাভ।

মেয়েঃ দূর  অমন ধুম করে চাড়া যায় নাকি?

ছেলেঃ কেন ? না ছাড়ার কি আছে? ইস!!! কি সুন্দর গল্পটা!!!

মেয়েঃ তুমি তো মোবাইলে বই পড়তেই ব্যস্ত।

ছেলেঃ আরে বলোনা, শুনছি তো।

মেয়েঃ তুমি থাকো তোমার সাহিত্য চর্চা নিয়ে। আমার তো কোন মূল্যই নেই তোমার কাছে। তাছাড়া ব্যাংকের ইন্টার্নশিপে যাওয়ার পর থেকেই দেখছি তুমি কেমন যানি হয়ে গেছো।


♥স্ট্রেস থাকলে ছেলেরা চুপ থাকতে চায় আর মেয়েরা কথা বলতে চায়।

মেয়েঃ তোমাকে বললাম আরেকবার ফোন করে এড্রেসটা জেনে নিতে।

ছেলেঃ বলছি তো আমি জায়গাটা চিনি।

মেয়েঃ তো চিনলে একি রাস্তা দিয়ে বার বার ঘুরছো কেন? একবার ফোন করে শুনে নেওনা ভাল করে।

ছেলেঃ তুমি দয়া করে একটু চুপচাপ থাকো তো।

মেয়েঃ না, চুপ থাকতে পারবো না।


♥ছেলেরা তখন খুশি হয় যখন তাকে কারোর প্রয়োজন হয়।

মেয়েঃ শোনো না, তোমাকে আমার একটু দরকার। ছেলেকে স্কুল থেকে কি একটু নিয়ে আসবে প্লিজ ? আজকে আমার হাতে প্রচুর কাজ।

ছেলেঃ আচ্ছা আমি একটু পরে গিয়েই নিয়ে আসব।

এভাবে ছেলেদের প্রয়োজনীয় অনুভব করাতে পারলে এবং মাঝে সাজে তাদের এক-দুই লাইন প্রেমের কবিতা শোনাতে পারলে, ভালবাসা কি তাদের বোঝাতে পারলে, তারা খুশি হয়েই মেয়েদের সব করে দিবে বা দেয়।