কোয়েল পাখি পালন- অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা

শখের বশে বা অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করার জন্য কোয়েল পালন করা হয়। পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে এমন জায়গা বেছে নিতে হবে কোয়েল পাখি পালনের জন্য। কোয়েল পাখির মাংস ও ডিম দুটোই সুস্বাদু, বেশ পুষ্টিকরও। এজন্যে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে কোয়েল এর চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। অল্প পুঁজিতে লাভজনক বিনিয়োগ করতে চাইলে কোয়েল  পাখি পালন হতে পারে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত।

কিভাবে শুরু করবেন কোয়েল পালন

স্বল্প পরিসরে ৫০ থেকে ৬০টি বাচ্চা দিয়ে কোয়েল পালন শুরু করতে পারেন। পাখির বাচ্চাগুলো হতে হবে তিন থেকে সাত মাস বয়সী। কেনার সময় বাচ্চা সুস্থ ও সবল কিনা দেখে নিবেন। খামার তৈরি, খাবার ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ পুঁজি লাগবে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, যেটা একটা লাভজনক বিনিয়োগ। কোয়েলের বয়স দেড় থেকে দুই মাস হলেই বিক্রির উপযোগী হয়।


Related: কবুতর পালন- অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা


কোথায় পালবেন

কোয়েল পাখি পালতে বেশি জায়গা লাগে না। চাইলে ঘরের আঙ্গিনা বা ছাদেও পালন করা যায়। তবে এমন জায়গা বেঁচে নিতে হবে, যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে। আকারে ছোট হওয়ার কারণে কোয়েল খাঁচায় পালন করাই ভালো। ১২০ সেন্টিমিটার লম্বা, ৬০ সেন্টিমিটার প্রস্থ এবং ২৫ সেন্টিমিটার উঁচু খাঁচায় ৫০টি কোয়েল পালন করা যায়। খাঁচায় জালি থাকতে হবে ঘন যেন কোয়েলের মুখ বা গলা খাঁচার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে না আসে। ইঁদুর, ছুঁচো, বন্য প্রানী যাতে কোয়েলকে আঘাত করতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এক সপ্তাহের বাচ্চার জন্য জালির ফাঁক হবে ৩ মিলিমিটার আর বয়স্ক কোয়েলের জন্য ৫ মিলিমিটার।

নানা জাতের কোয়েল

প্রায় ১৭-১৮ প্রজাতির কোয়েল পাখি পাওয়া যায়। জাত ভেদে এদের গায়ের ভিন্নতা আছে। ওজন ও আকারের দিক থেকেও কিছুটা পার্থক্য আছে। বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ডিমের জন্য ফারাও, ইংলিশ হোয়াইট, ব্রিটিশ রেং, ন্যাব চিরিয়াল, গোল্ডেন প্রজাতির কোয়েল পালন করা হয়। মাংস উৎপাদনের জন্য বর্ব হোয়াট কোয়েল, ইন্ডিয়ান হোয়াইট ব্রেস্টেড কোয়েল পালন করা হয়।

খাবার

আকারে যেমন ছোট পাখি কোয়েল, খাবারের পরিমানও তাদের অল্প। একটি কোয়েলকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ গ্রাম খাবার দিতে হয়। প্রতি কেজি খাদ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ আমিষ এবং ২৫০০ থেকে ৩০০০ কিলোক্যালোরি শক্তিসমৃদ্ধ খাবার দিতে হয়। বাড়তি কোনো সুষম খাদ্য দিতে হয় না। ডিম দেওয়া কোয়েলের জন্য প্রতি কেজি খাবারের ২.৫-৩.০ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকতে হবে। খাবার ও পানির পাত্র রাখতে হবে পাখির খাচার পাশে। পাত্রগুলো এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে খাঁচা নাড়াচড়া করলেও পাত্র থেকে খাবার ও পানি পড়ে না যায়। স্ত্রী ও পুরুষ কোয়েল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৃথক রাখতে হবে।

রোগ বালাই 

কোয়েল পালনে রোগ বালাই নিয়ে তেমন ভাবতে হয় না। এর রোগ হয় না বললেই চলে। তাই ভ্যাক্সিন বা কৃমিনাশক ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে বাচ্চা কোয়েলকে প্রথম ১০-১৫ দিন বেশ যত্ন নিতে হবে। রোগের মধ্যে কোয়েলের শুধু আমাশয় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।আমাশয় হলে ঘন ঘন পায়খানা হবে, খাবারও কম খাবে। এ অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কোনো কোয়েল অসুস্থ হলে বা মারা গেলে খাঁচা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। মরা কোয়েল পুড়িয়ে বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।

ডিম ও মাংসের চাহিদা

পরিণত বয়সের কোয়েলের ওজন ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম। ভাল জাতের কোয়েল পাখি বছরে ২০০ থেকে ৩০০ ডিম দেবে। প্রতিটি ডিমই বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী। বাচ্চার বয়স ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ হলেই খাবার বা বিক্রির উপযোগী হবে। কোয়েলের মাংসে চর্বির পরিমাণ খুব কম। কোয়েলের দেহের ৭২ শতাংশ মাংস হিসেবে খাওয়া যায়। এছাড়া এর ডিম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। পুষ্টির দিক দিয়ে কোয়েলের ডিম মুরগির ডিমের সঙ্গে তুলনীয়। ৫০ থেকে ৬০টি কোয়েল দিয়ে খামার শুরু করলে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। বিভিন্ন হোটেল- রেস্টুরেন্টেও কোয়েলর মাংস ও ডিমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছেই। তাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোয়েল পালন লাভজনক বিনিয়োগ।

প্রশিক্ষণ

কোয়েল পালনের আগে প্রাথমিক কিছু প্রশিক্ষন নিয়ে রাখা ভালো। কোয়েল পালন বিষয়ে জানতে কাছের কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। এছাড়া কোয়েল পালন বিষয়ক লাভজনক বিনিয়োগ এর স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষনও নিতে পারেন। প্রশিক্ষনের বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন কৃষি অধিদপ্তর থেকে। এছাড়া কোয়েলের রোগবালাই সম্পর্কেও সঠিক ধারনা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।


Related: সুন্দর জীবন যাপনের জন্য কিছু মূল্যবান উপদেশ


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন

Add a Comment