গল্প পড়ি, জীবন গড়ি -পর্বঃ ১

গল্প পড়ি, জীবন গড়ি- গল্প নং-১

গল্পের বিষয়বস্তুঃ আমরা বার বার লক্ষ্য পরিবর্তন করি। কিন্তু ঘন ঘন লক্ষ্য পরিবর্তন করলে তা বিরুপ প্রতিক্রিয়া আনতে পারে। এই বিষয়েই আজকের প্রথম গল্পটি। ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, প্রফেসর হবেন। ছয় মাস প্রফেসর হওয়ার জন্য কাজ করলেন। তারপর মনে হলো- প্রফেসরের কোনো গ্ল্যামার নেই, তাঁর চেয়ে বরং তোমাকে খুঁজছে বাংলাদেশ হয়ে যাই, ওখানে গ্ল্যামার আছে। আপনি সেটার পেছনে লেগে গেলেন। কিন্তু দেখা গেল, বাংলাদেশ আপনাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না। তখন ভাবলেন যে, ঠিক আছে, এবার আর এসব কিছু নয়, এবার আমি ডাক্তার হবো। এরকম বার বার লক্ষ্য পরিবর্তন করতে থাকলে ব্রেন কনফিউসড হয়ে যাবে। পৃথীবিতে আপনার নিজের কোন গল্পই রেখে যেতে পারবেন না। বলবে যে, এ আগে ঠিক করুক, তারপর আমি কাজ করবো। তেমনই একটি গল্প আজ আপনাদের কাছে উপস্থাপন করছি। বার বার লক্ষ্য পরিবর্তনের ফলে যে আমরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই তাঁর একটি উদাহরন এই গল্পটি।


 গল্পের নামঃ বার বার লক্ষ্য পরিবর্তন


গল্পঃ একজন খুব বিখ্যাত ডাক্তারের চেম্বারে সবসময় ভিড় লেগে থাকে। এতে ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে ডাক্তার সাহেব মোটা বেতন দিয়ে একজন সুবেদার রাখলেন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে এবং বললেন যে খবরদার! এই সময়টা আমার বিশ্রামের সময়, এ সময় কাউকে ঢুকতে দেবে না। আর্মির সুবেদার, যেমন হুকুম তেমন কাজ। এর মধ্যে কী কারণে কয়েকদিন পরে ডাক্তারের সাহেবের স্ত্রী এসেছেন দেখা করতে। স্ত্রী এসে পরিচয় দিলেন, আমি তাঁর ওয়াইফ। সুবেদার বললেন যে, ম্যাডাম, ডাক্তার সাহেব বাসায় যাওয়ার পরে কী অবস্থা হয়েছে!

তিনি পরদিন এসে সুবেদারকে ধরেছেন। সুবেদার বললো যে স্যার, আপনিই তো বলেছেন কাউকে ঢুকতে দেবে না। তিনি বললেন, আমি বললেই হলো! আমার স্ত্রী আসবে আর তাকে ঢুকতে দেবে না! এখন থেকে আমার স্ত্রী এলে ঢুকতে দেবে। সুবেদার বললো, জী স্যার! তাই হবে।

দিন ১৫ পরে এবার ডাক্তার সাহেবের শ্বশুর এলেন তাঁর সাথে দেখা করার জন্য। শ্বশুর তো আরো বয়স্ক মানুষ। সুবেদার বললো যে, এসময় কারো ঢোকার অনুমতি নাই শুধু ওনার স্ত্রী ছাড়া। আপনি স্ত্রীর বাবা হোন, তবুও স্যারের হুকুম নাই শুধু ওনার স্ত্রী ছাড়া। হুকুম ছাড়া তো আমি কাউকে ঢুকতে দিতে পারি না। এখন শ্বশুর মশাই তো চলে গেছেন বাসায়। বুঝতেই পারছেন রাত্রে যখন ডাক্তার সাহেব বাসায় গেছেন তখন কী অবস্থা!

পরদিন প্রফেসর সাহেব চেম্বারে এসে আবার বললেন যে, এই ব্যাটা বেআক্কেল, স্ত্রীর বাবা এসেছে তাকে ঢুকতে দাও নি কেন?

সুবেদারের গেল মেজাজ খারাফ হয়ে। কারণ তাঁর ট্রেনিং তো শুধু  যে কমান্ড পায়, কেবল সেটাকে অনুসরন করার মধ্যেই সীমিত। বার বার কমান্ড বদলানোয় সে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। বললো যে স্যার, আমি আপনার চাকরি করবো না। আপনি একবার বললেন কাউকে ঢুকতে না দিতে, তারপর বললেন শুধু আপনার স্ত্রী-কে ঢুকতে দিতে। আর এখন স্ত্রীর বাবাকে ঢুকতে না দেয়ার আমাকে বকছেন। আপনি তো আসলে আমাকে কমান্ড দিতেই জানেন না। আমি স্যার, আপনার চাকরিই করব না।  

গল্পের শিক্ষনীয় বিষয়ঃ আমাদের ব্রেন আসলে এই সুবেদারের মতো। এ শুধু কমান্ড বোঝে। অতএব বুঝে শুনে কমান্ড দেবেন, বার বার যদি লক্ষ্য বা কমান্ড পরিবর্তন করেন, এই গল্পের ডাক্তারের মত একবার এটা আরেকবার ওটা বলেন, তাহলে এত দ্বিধা-দ্বন্দ্বে তো মস্তিষ্ক সঠিক কর্মপ্রক্রিয়া পাবে না। আপনি লক্ষ্য অনুযায়ী এগুতেও পারবেন না।