ট্রাফিক জ্যামে করনীয়

ট্রাফিক জ্যামের শহর ঢাকা। এই শহরের কাউকে আলাদা করে বলে দিতে হয় না যে- ট্রাফিক জ্যাম কি। ভ্যাঁপসা গরম, অস্বস্তি, জীবনের প্রতি অত্যাধিক বিরক্তি- এই হলো ঢাকাসহ বাংলাদেশের ব্যস্ততম নগরীর রাস্তায় অপেক্ষমাণ লক্ষাধীক তরুণ-তরুনী এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের মানসিক অবস্থা। জীবনের যত আশা আকাঙ্ক্ষা সব এই বিরক্তির মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। প্রেরণাময় জীবন হয়ে যায় প্রেরনাহীন। কিন্তু এত কিছুর পরেও আছে এক নিদারুন সত্যি। প্রতিদিন এই জ্যামে নষ্ট হচ্ছে কয়েক লক্ষ ঘন্টা সময়। যে সময়কে সঠিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগাতে পারলে আমরা ব্যক্তি জীবনে, জাতীয় জীবনে এগিয়ে যেতে পারতাম আরো বহুদূর। আবার ট্রাফিক জ্যামের কারণ অনুসন্ধানসহ এই জ্যাম থেকে মুক্তির জন্য অনেক জল্পনা-কল্পনা, নিয়মনীতি, যান্ত্রিকীকরণ- কোন কিছুইতো আর বাকি রইলো না। তারপরো কমছে না এই সমস্যার হার। তাহলে বোঝা যাচ্ছে এই সমস্যাটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। এখন কথা হচ্ছে যেহেতু বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং পদ্ধতি অবলম্বনের পরেও পাওয়া যাচ্ছেনা কো্ন সুফল, তাই আমাদের উচিত যে সময়গুলো ট্রাফিক জ্যামে রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে, কিভাবে এবং কোন পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আমরা এই জ্যামে নষ্ট হওয়া সময়গুলো কাজে লাগাতে পারি সে উপায় খুঁজে বের করা।

তাই আজ আমি আপনাদের সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করনীয় সম্পর্কে শেয়ার করছি, যেগুলো পালন করে আপনি আপনার এই নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়কে কিছুটা হলেও কাজে লাগাতে পারবেন।

১। তসবিহ পড়ুন

যদি আপনি ধর্মপ্রান মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে ভাল, কিন্তু যারা ভুলেও আল্লাহর নাম মুখে আনেন না, কিন্তু মনে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আছে, আল্লহর সৃষ্টির প্রতি, রহমতের প্রতি বিশ্বাস থাকে তাহলে এই সময়ে বসে থেকে বাজে চিন্তা না করে তসবিহ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর নাম জপ করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন আপনার আল্লাহর প্রতি ভালবাসা বাড়বে, সওয়াব হবে অন্যদিকে নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়ের এর থেকে ভাল ব্যবহার আপনি আর কোন কিছু করে করতে পারবেন না। কারণ এই তসবিহ পাঠের মাধ্যমে আপনি এই কালে পাবেন মানসিক প্রশান্তি আর বীজ বুনবেন পরকালের। তাই ডিজিটাল তসবিহ মেশিন বা প্রচলিত তসবিহ পড়ার যে কোন মাধ্যম ব্যবহার করে আপনি ট্রাফিক জ্যামে নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়েকে কাজে লাগিয়ে সফল হতে পারবেন।

২। অটোসাজেশন দিন

অটোসাজেশন হচ্ছে ইতিবাচক শব্দের সম্মিলনে গঠিত বাক্যমালা। শব্দ বা কথা এক প্রচন্ড শক্তি। অটোসাজেশনে ছোট ছোট ইতিবাচক কতা বার বার উচ্চারিত হয়ে সৃষ্টি হয় বিশ্বাস ও শক্তির এক অন্ত-অনুরণন যা বদলে দেয় সবকিছু, তৈরি করে নতুন বাস্তবতা। তাছাড়া প্রতিটি ধর্মেই ইতিবাচক কথা বা বানীকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নবীজী (স) বলেছেন, কারো সাথে দেখা হলে সালাম বিনিময়ের পর কুশল জিজ্ঞেস করলে বলবে, শোকর আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভাল আছি। আসলে ভাল কথা বার বার বললে ভাল জিনিস গুলোই আমাদের দিকে আকৃষ্ট হয়। তাই গুগল প্লে থেকে যেকোন একটি এপ্স নামিয়ে নিয়ে আপনিও চর্চা করতে পারেন অটোসাজেশন। এতে আপনার আত্নবিশ্বাস যেমন বাড়বে তেমনি সময়ের সঠিক ব্যবহার হবে।

৩। অডিও লেকচার শুনুন

এখন সবকিছুই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সহজ হয়ে গেছে, ভাল ভাল বইগুলোর অডিও পাওয়া যায় ইউটিউবে। ট্রাফিক জ্যামে বসে এই অডিও বই গুলে শুনে ফেললে আলাদা করে আপনাকে এই বই গুলো আর পড়তে হবে না। চিন্তা করুন যদি প্রতিদিন আপনি ২ ঘন্টা ট্রাফিক জ্যামে থাকেন তাহলে মাসে ৬০ ঘন্টা সময় পাচ্ছেন শুধু এই অডিও শোনার জন্য। তাই অডিও শুনেও আপনি এই সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন।

৪। নতুন কারো সাথে পরিচিত হোন

নতুন কারো সাথে পরিচিত হওয়ার এই সুযোগ যদি কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আপনি দ্রুতই সফল মানুষে পরিনত হবেন। পাশে বসা লোকটির সাথে ভাব না নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি ভাষায় কথা বলুন। নাম জিজ্ঞেস করুন এবং মজাদার টপিকে আলোচনা শুরু করুন। জিম মেরে বসে থাকার চেয়ে এই কাজটি করলে অনেক উপকারে আসতে পারে।

৫। মুভি বা নাটক দেখুন

আমরা আমাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করি মুভি এবং নাটক দেখার নাম করে। যদি এই মুভি এবং নাটকগুলো অবসর সময়ে বা ট্রাফিক জ্যামে বসে দেখে ফেলতে পারি, তাহলে মূল কাজের সময় এই সব ঐচ্ছিক বিষয়ে সময় নষ্ট হবে না। তাই জ্যামে বসে আমরা এই সব ছোট খাট কাজ যেমন মুভি দেখা, নাটক দেখা এমনকি ইউটিউব ভিডিও দেখার কাজগুলো সেরে ফেলতে পারি। তাহলে আমাদের ছবি দেখার কাজও হবে সেই সাথে সময়টাও ভালভাবে কাজে লাগবে।

৬।  আগামি দিনের কর্ম পরিকল্পনা বা রুটিন করুন

রুটিন তৈরির সেরা সময় হল আগের রাত্রি বা আগের দিন। যদি আগের দিন আমরা আমাদের আগামীদিনের পরিকল্পনা কাগজে কলমে লিখে ফেলি তাহলে আমাদের ব্রেন সেটা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়। ফলে আমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ এবং মনোযোগ বাড়ে। তাই জ্যামে বসে বসে আপনি আপনার আগামিদিনের রুটিন করে ফেলতে পারেন।

এই ছয়টি বিষয় ছাড়াও আপনি আরো অনেক কিছু করেই এই জ্যামে থাকাকালীন সময়কে কাজে লাগাতে পারেন। সেজন্যে আপনার সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করে যেসব কাজ করলে আপনি এগিয়ে যাবেন এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারবেন সেসব কাজই করুন।

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন