কিভাবে প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পাবেন

বন্ধুত্ব মানে হল একজনের সাথে আরেকজনের মনের মিল, মতের মিল। আর যারা বন্ধু তারা একসাথে অনেক সময় কাটায়, প্রচুর গাল-গল্প এবং আড্ডায় বিভোর থাকে। বন্ধুদের মধ্যে যদি কোন একজন বিপদে পড়ে তখন অন্য বন্ধু বা বন্ধুরা কষ্টের sms থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকে। আবার যদি কোন আনন্দের সংবাদ হয় তাহলে বোঝা যায় বন্ধুত্ব কি। বিভিন্ন রঙ তামাশা, গাল-গল্প এবং গোপন কথার ঝাপিতে উদ্বেল হয়ে উঠে বন্ধুত্ব। তাই লেখার পাতায় বন্ধু মানে কি বা বন্ধুত্ব কি এটির সংজ্ঞা দেয়া মুশকিল। কিন্তু তারপরও আমাদের জীবনে কারও না কারও সাথে বন্ধুত্ব হয়, আমরা উপলব্ধি করতে পারি বন্ধু মানে কি। কিন্তু এতো কিছুর পরও সবার সাথে যে সবার বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে সেটার কেউ কোন নিশ্চয়তা দিতে পারবেনা, প্রত্যেকের মন মানসিকতা এবং রুচিবোধের উপর নির্ভর করে যে তাঁর চলার সঙ্গীরা কি তাকে আনন্দে/দুঃখের sms  বা কষ্টের sms পাঠাবে নাকি হাসির sms পাঠাবে। তাই বলা যেতে পারে বন্ধুত্ব একজন মানুষের পারসোনালিটির উপর অনেকটাই নির্ভর করে।


Related: জীবন মানে কি?


কিন্তু আমরা কখনো কখনো বন্ধু মানে কি এটি বুঝতে ভুল করি, আর বন্ধুত্ব করে ফেলার পর আমরা যখন বন্ধুর কোন আচরনে দুঃখ পাই অথবা প্রতারিত হই তখন মানসিকভাবে আহত হই। এসব কারনে আমাদের বন্ধু এবং বন্ধুত্ব নিয়ে পরিষ্কার ধারনা থাকা উচিত। কেননা বন্ধুরুপি শয়তান দ্বারা আমরা যেন কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হই সেজন্য আমাদের আগ থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। বুঝতে হবে বন্ধু কি, প্রকৃত বন্ধু কে এবং বন্ধু মানে কি। বন্ধুত্ব করা উচিত যে সমমনা এবং সমচেতনায় উদ্বুদ্ধ। এ ধরনের বন্ধুত্ব সব সময়ই প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ সমমনা এবং সমচেতনা না হলে আসলে বন্ধুত্ব হয় না। যেরকম একজন ড্রাগ এডিক্টের সাথে একজন সাধারন মানুষের বন্ধুত্ব হবে না। আর হলেও সেটা টিকবে না। কারন সে আপনাকে সবসময় এক্সপ্লয়েট করবে এবং চেষ্টা করবে আপনাকে ড্রাগের মধ্যে নিয়ে যেতে।

প্রকৃত বন্ধু চেনার সহজ কয়টি আলামত নিচে শেয়ার করলামঃ


🙄 ছোট খাটো বিষয়ে সাহায্য চানঃ

আপনার কোন ছোট-খাটো প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে আপনার বন্ধু বা বন্ধুদের সাহায্য চান। যদি কেউ আপনার এই প্রয়োজনকে তেমন একটা গুরুত্ব না দেয়, তাহলে সে বন্ধুটি- যাকে আপনি বন্ধু বলে জানেন, আপনার সত্যিকারের বড় কোন সাহায্যে বা প্রয়োজনেও নির্বিকার থাকবে। তাই খেয়াল রাখুন কে আপনার কথার, ইচ্ছার এবং প্রয়োজনের কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। আবার অন্যকারও বন্ধু হিসেবে আপনি কতটুকুন সহযোগীতা পরায়ন সেটিও ভেবে দেখুন এবং সে অনুযায়ী বন্ধু নির্বাচন করুন।


🙄 নির্ধারিত সিডিউল পরিবর্তন করুনঃ

গুরুত্বপূর্ণ সিডিউল ছাড়া, মাঝে মধ্যে আপনার বন্ধুর সিডিউল পরিবর্তন করার কথা বলুন। মানে মুভি দেখার জন্য আপনারা যদি কোন পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে, যেদিন দেখার কথা তাঁর বদলে অন্য কোন দিন দেখার কথা বলুন, দেখুন আপনার বন্ধু কি বলে। সে না বলে দিলেই যে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে তা নয়, কিন্তু এই কথা বলার পর সে কিভাবে রিয়েক্ট করে সেটা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে সে আপনার মতামতকে কেমন প্রাধান্য দিচ্ছে।


🙄 ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যার কথা বলুনঃ

আপনার কোন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যার কথা বন্ধুকে বলুন কিন্তু কোন সমাধান চাইবেন না। দেখুন সে আপনার সমস্যার কোন সমাধান বা উত্তর দিচ্ছে কিনা, যদি সে কোন উত্তর না দিয়ে সে অন্যকোন প্রসঙ্গে চলে যেতে চায় বা তেমন আগ্রহ না দেখায় তাহলে এটি কোন ভাল লক্ষন নয়। কেননা শুধু দেখা করে গল্প করার নামই বন্ধুত্ব নয়, বন্ধত্ব আরো অনেক বড় কিছু।  


 🙄  আপনার বন্ধু জেলাস ফিল করে কিনা খায়াল করুনঃ

ধরুন আপনি এবং আপনার বন্ধু মিলে ক্রিকেট খেলতে গেলেন। খেলায় আপনি অনেক ভাল করলেন, আপনার বন্ধু ততো ভাল খেলতে পারে নাই। একটু গভীর ভাবে খেয়াল করে দেখুন সে আপনার এই ভাল পারফরম্যান্সে কেমন আচরন করে, যদি সে আপনার শুভ কামনা করে, ধন্যবাদ দেয় তাহলে ধরে নিন আপনি বন্ধু হিসেবে সর্বোত্তম বন্ধুকেই বেচে নিয়েছেন, আর যদি সে আপনার সমালোচনা করে এবং নেগেটিভ কথা বলে তাহলে বুঝবেন সে আপনার ভাল কিছুতে জেলাস ফিল করছে। তো যে জেলাস ফিল করে সে কি করে আপনার বন্ধু হতে পারে?


 🙄  আপনাকে কেমন গুরুত্ব দিচ্ছে তা বিবেচনা করুনঃ

আড্ডা দেয়ার সময় যদি আপনি কথা বলেন তাহলে আপনার বন্ধু কি আনমনা হয়ে থাকে? মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকে? অথবা আপনাকে রেখে অন্য কারও কাছে চলে যায় গল্প করার জন্য। তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি যাকে বন্ধু হিসেবে ভাবছেন সে আসলে আপনাকে সেভাবে ভাবছে না। তাই এক্ষুনি পদক্ষেপ নিন হয় আলোচনা করে আপনাদের বন্ধন আরো মজবুত করুন না হয় তাঁর সাথে মেশার সময় কমিয়ে দিন।


আস্তে আস্তে যখন আমরা বড় হই তখন আমরা সবাই একটা টাইমে এটা রিয়লাইজ করতে পারি লাইফে প্রচুর বন্ধু থাকা ইম্পর্টেন্টে না, যেটা ইম্পর্টেন্টে সেটা হলো শুধু মাত্র প্রকৃত বন্ধু যারা তাদেরকেই নিজের লাইফে রাখা। কারন একটা কথা আছে- An enemy is better than a fake friend. অর্থাৎ একজন শুত্রুও একজন নকল বন্ধু থেকে অনেক ভালো। আর গৌতম বুদ্ধও বলেছিলেন- একজন নকল বন্ধু একটি হিংস্র জন্তু থেকেও ভয়ংকর। কারন হিংস্র জন্তুটি খুব বেশি হলে তোমার শরিরে আঘাত হানবে, আর নকল বন্ধু আঘাত হানবে তোমার মনে। তাই কে প্রকৃত বন্ধু আর কে বন্ধুরুপি শত্রু এটা সঠিকভাবে বুঝতে শেখাটা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সেজন্যে বুঝে শুনে বন্ধু নির্বাচন করুন।

আরও পরিষ্কার করে বললে সুসম্পর্ক থাকবে সবার সাথে কিন্তু বন্ধুত্ব হবে তাদের সাথেই যাদের জীবন চেতনা ও লক্ষ্যের সাথে আপনার জীবন চেতনা এবং লক্ষ্যের মিল রয়েছে। কোন বন্ধু যদি আপনার জন্যে আনন্দের কারন না হয়, যদি বেশিরভাগ সময়ই তাঁর সাথে তর্ক-বিতর্কে কেটে যায়। তাহলে আপনার আচরনে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। হয় তাঁর সাথে দেখা করার সময় কমিয়ে দিন না হয় কীভাবে তাঁর সাথে মতৈক্য সৃষ্টি করা যায় তা খুঁজে বের করুন। কারণ, ক্রমাগত মতানৈক্য আপনার মানসিক প্রশান্তি বিনষ্টের কারন হতে পারে।


You can read: আদা খাওয়ার নিয়ম


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন