মুড অফ বা মন খারাপে করনীয়

আমাদের সময় সবচেয়ে বেশি অপচয় হয় এই মন খারাপ বা মুড অফ থাকার কারনে। ভেবে দেখুন, জীবনের কতটা সময় আপনি শুধু মন খারাপের জন্যে মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন নি, পরীক্ষা খারাপ দিয়েছেন। কী লাভ হয়েছে তাতে? মন পরে ভালো হয়েছে ঠিকই। কিন্তু যে পরীক্ষা খারাপ হয়েছে বা অভিমান করে যে সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তা তো আর ফিরে আসে নি। আসলে যারা দুঃখবিলাসী তারা তেমন কোনো কারণ ছাড়াই দুঃখ পায়, কষ্ট পায়। এটা তাদের এক ধরনের রোগ। কিন্তু জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হলে অনেক সময়ই পালিয়ে যায় তাদের এ দুঃখবিলাস।


Related Post: সুখ আসলে কোথায় ?


একবার নাসিরুদ্দিন হোজা দেখলো, এক লোক পথের ওপর বসে আছে খুব বিমর্ষ হয়ে। কী হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই লোকটি বললো, তাঁর অনেক ধন-সম্পত্তি। খাওয়া পরা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। কিন্তু তাঁর কিছুই ভালো লাগে না। জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ঘর-বাড়ি, স্ত্রী-সন্তান কোনোকিছুই আর তাকে আকর্ষন করে না। এ অস্থিরতা সইতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে সে।

হোজা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। হঠাৎ কিছু না বলেই পাশে রাখা লোকটির কাপড়ের বোচকা নিয়ে দিলেন এক ছুট এবং নিমেষে হয়ে গেলেন ছোখের আড়াল। বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই লোকটিও পিছু ধাওয়া করলো। কিন্তু হোজাকে পায় কে? অনেকদূর যাওয়ার পর রাস্তার ওপর এক জায়গায় বোচকাটি রেখে গাছের আড়ালে অপেক্ষা করতে লাগলো হোজা। এদিকে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত অবসন্ন উদ্বিগ্ন লোকটি যখন এখানে এসে তাঁর বোচকা খুঁজে পেলো, আনন্দে চিৎকার করে সে বলে উঠলো, পেয়েছি! পেয়েছি! এইতো আমার বোচকা। বহুদিন সে এতো খুশি হতে পারে নি। হোজা আড়াল থেকে হেসে হেসে বললেন, দুঃখবিলাসীদের এভাবেই শায়েস্তা করতে হয়।

আমাদের অধিকাংশ মুড অফের কারণ না শুকরিয়া। তাই আপনার যা আছে তা নিয়ে তৃপ্ত হোন। কী পাচ্ছেন নয়, কী দিতে পারেন তা নিয়ে ভাবুন। কখনো কোন কিছু কারো কাছ থেকে প্রত্যাশা করবেন না। ভাবুন তাদের কথা যারা আপনার চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। শুকরিয়া করুন যে, তাদের চেয়ে ভালো আছেন। আপনার মন তাহলে খারাপ হবে না। মানুষকে ভালবাসুন। অন্যদের ত্রুটিগুলো খুঁজে না বেড়িয়ে কী কী গুন তাদের আছে তা নিয়ে ভাবুন। প্রশংসা করুন, সাফল্যের জন্যে অভিনন্দিত করুন। মেডিটেশনে কল্যান কামনা করুন। আপানার প্রশান্তি বেড়ে যাবে। এসব অহেতুক মুড অফ বা মন খারাপকে এড়ানোর জন্যে ব্যস্ত থাকুন। পড়ালেখার পরও যে সময়গুলো কিছু করার নেই, দুঃখবিলাসে না কাটিয়ে মানুষের জন্যে কাজ করুন। আসলে ক্ষোভ-কষ্টকে যদি আমরা বিশ্লেষন করি তাহলে দেখবো ক্ষোভের তুলনায় ঘটনাটা অনেক তুচ্ছ। এটা অবশ্য বয়সের কারণে। তরুণ বয়সটাই এমন যে, এ বয়সে ক্ষোভটা একটু বেশিই থাকে।

কিন্তু মানসিক বয়সকে আমরা অনেক দ্রুত বাড়িয়ে নিতে পারি। মানুসিক বয়স বাড়াতে পারলে দেখবো, এখন যে কথায় দুঃখ পাচ্ছি, কাঁদছি, সে কথাগুলো অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে, মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের সাথে একাত্মতা বাড়ছে। পারিপার্শ্বিক নেতিচিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি না। মাইন্ড করছি না। মুড অফ হচ্ছে না।


Related Post: মেডিটেশনের অন্যতম ৬টি উপকারিতা !


 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন