মেডিটেশনের উপকারিতা

মেডিটেশন হলো মনের ব্যায়াম। আর মেডিটেশনের উপকারিতা অনেক। বর্তমান বিশ্বে অগ্রসরমান প্রতিটি দেশ তাদের প্রশান্তি আর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য এখন মেডিটেশন করে। তাই মেডিটেশনের উপকারিতা এখন প্রমানিত সত্য। নীরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন—বাড়ায় মনোযোগ, সচেতনতা এবং সৃজনশীলতা। মনের স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে। প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘটায় অন্তর্জাগৃতি, যা জীবনে নতুন আনন্দের সন্ধান দেয়। মেডিটেশনের উপকারিতা অসংখ্য, নিচে অধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলো উল্লেখ করেছি।

 

 

১. সচেতনভাবে দেহ এবং স্নায়ুর শিথিলায়ন

ঘুমের সময় একজন মানুষের দেহ ও স্নায়ু শিথিল হলে তার চেতনাও তখন হয়ে পড়ে অচেতন। কিন্তু মেডিটেশনে আমাদের দেহ ও স্নায়ু যেমন শিথিল হয়, তেমনি চেতনাও থাকে সজাগ। ফলে সচেতন মন তখন অবচেতন মনকে যথাযথ নির্দেশ প্রদান করতে ও সৃজনশীলভাবে কাজে লাগাতে পারে। এই উপকারিতাই হল মেডিটেশনের প্রধান উপকারিতা।

২. মনকে বর্তমানে নিয়ে আসা

আমাদের মনকে বর্তমানে নিয়ে আনা মেডিটেশনের অন্যতম উপকারিতা। মন হয় অতীত নিয়ে অনুশোচনা করে, না হয় ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা করে, বর্তমানে থাকতে চায় না। মেডিটেশন মনকে বর্তমানে নিয়ে আসে। ফলে দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সময় নষ্ট না করে মনের শক্তি নিয়োজিত হয় দেহের স্বাস্থ্য উদ্ধারে, সৃজনশীলতার বিকাশে, চেতনার অভ্রভেদী বিস্তারে।

৩. মনোযোগায়ন

মনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মনোযোগ। আর মনোযোগায়ন হলো একটি বিষয়ের উপর মনকে নিবদ্ধ করা। ক্রমাগত মেডিটেশনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ অর্জন করে মনকে সূচাগ্র করার এই শক্তি অর্জন করতে। মেডিটেশনের যত ধরনের উপকারিতা রয়েছে তাঁর মধ্যে এই উপকারটি  শিক্ষার্থীদের বেশি কাজে লাগে।

৪. ব্রেনকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার

মানবদেহের সবচেয়ে জটিল,রহস্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে ব্রেন বা মস্তিষ্ক। ব্রেনই মানুষকে প্রথম পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে শিখিয়েছে। আর সেই ব্রেনের জেনেটিক উত্তরসূরীরাই বানিয়েছে মহাশূন্য যান। মানুষ অতীতে যা করেছে,ভবিষ্যতে যা করবে তা এই ব্রেনেরই ফসল। ব্রেনই মানুষকে মানুষ বানিয়েছে। এই ব্রেনকে বেশ পরিমাণে কাজে লাগাবার জন্যে যে সুসংহত মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন তা গঠনেই সাহায্য করে মেডিটেশন। তাই মেডিটেশনের উপকারিতা জানায় সময় নস্ট না করে এখুনি বসে যান মেডিটেশন করতে।

৫. আত্ম-নিমগ্নতা

মেডিটেশন মানে একজন মানুষের নিজের গভীরে নিমগ্ন হওয়া এবং অন্তরতম আমি-র সাথে সংযুক্ত হওয়া। তখনই একজন মানুষের অনুভবের দরজা খুলে যায় এবং সে নতুন সত্যকে অনুভব করতে পারে। এটাই মেডিটেশনের সেরা উপকারিতা।

অসংখ্য উপকারিতার মধ্যে এই পাঁচটি উপকারীতা আমাদের জন্য বেশি উপকারি বলে উল্লেখ করলাম, মেডিটেশনের উপকারিতা বলতে বললে আমি কমপক্ষে ১০০টি উপকারিতা বলতে পারি। আরও উপকারিতা জানতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে। তাই এখুনি বসে যান মেডিটেশনে, আপনি উপকৃত হবেন, সুখি হবেন।

Leave a Reply