সকালের ঘুম দূর করার উপায়

ঘুম একটি শারীরিক অভ্যাস। তাই ঘুমের পরিমানও জনে জনে আলাদা। কেউ ২ ঘন্টা ঘুমিয়েও সারাদিন চমৎকার কাজ করতে পারেন। কারও ১০ ঘন্টা ঘুমিয়েও তৃপ্তি নেই। জেগে উঠতে চাচ্ছেন কিন্তু কিছুতেই চোখ মেলতে পারছেন না, উঠে বসছেন আবার বালিশে মাথা এলিয়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার জাগৃতি ও ঘুমকে মিশিয়ে ফেলেন, তারা জাগেনও না, ঘুমানও না, অকারনে ঝিমান। আর সকালে ঘুম থেকে উঠা নিয়ে হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে বিদূষী জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক খনা বলে গেছেন- সকাল শোয়, সকাল ওঠে, তাঁর কড়ি বৈদ্য না লুটে । তাছাড়া পূব আকাশের ভোরের আলো ফুটতেই জেগে ওঠা- এটি ছিলো আমাদের পূর্ব পুরুষদের চিরায়ত জীবন অভ্যাসের একটি সাধারন অনুষঙ্গ। সেকারনে তারা সুস্থ সুন্দর সুখী জীবনযাপন করেছেন।তাহলে আসুন জেনে নেই সকালের ঘুম দূর করার জন্য আমরা কি পদক্ষেপ নিতে পারিঃ


Related Post: জেনে নিন আপনার প্রকৃত বন্ধু কে


জেগে থাকা ও ঘুমানোর প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হয়, শরীর ও মনের অবস্থার উপর। যখন সকালে কোন খেলার স্কেজুয়েল থাকে, তখন আলাদা একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করে আমাদের মনে, কোন আলার্ম ছাড়াই আমরা জেগে উঠি। কে আমাদের জাগায়? আমরা কি সচেতন ভাবে জেগে উঠি? না, আমাদের অবচেতন মন আমাদের জাগিয়ে দেয়। কারন ঘুমের সময় আমাদের সচেতনতা হারিয়ে যায়, একটিভ থাকে অবচেতন মন। কিন্তু যেদিন সকালে কোন কাজ থাকে না, কোন রুটিন ওয়ার্ক থাকে না, আমরা অবচেতনে সেদিন একটু ঘুমাব বলে ভেবে নেই, ফলাফল তাই হয়। 

তাই সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার জন্য বা ঘুম দূর করার জন্য আমাদের অবচেতন মনকে বোঝাতে হবে যে, আমাদের সকালের ঘুম দূর করা কত! প্রয়োজন। সেজন্যে সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি কি কি করবেন তা রাতে ঘুমানোর আগে নির্ধারন করে নিন এবং মিনিংফুল, এক্সাইটেড কাজগুলো সকালে ঘুম থেকে উঠে করার জন্যে রাখুন, দেখবেন আপনি ঠিক যে সময়ে ঘুম থেকে উঠতে চেয়েছেন ঠিক সে সময়ে (একেবারে ঘন্টা মিনিট সেকেন্ডসহ) আপনার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।

কিন্তু ঘুম ভাঙ্গার পরও যদি বিছানা ছেড়ে উঠতে মন না চায় বা উঠি উঠি করে আবার ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে, তাহলে ঘুম দূরের জন্য এই টেকনিকটি প্রয়োগ করুনঃ 

ঘুম ঘুম ভাব নিয়েই বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন আপনি। মনে হচ্ছে আরেকটু ঘুমাতে পারলে কত! ভাল হত। কিন্তু আপনার জেগে উঠা খুব জরুরি। তাই আপনি চোখের ঘুম ঘুম ভাব দূর করতে চান। তাহলে কি করবেন? যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থাতেই- লম্বা দম নিন। মুখ বন্ধ রাখুন। যতদূর সম্ভব লম্বা দম নেয়ার পর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে নাক চেপে ধরুন। মুখ আর নাক চেপে ধরার ফলে আপনি নিঃস্বাস নিতেও পারবেন না আবার ছাড়তেও পারবেন না। ফলে কয়েক মূহুর্তের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হবে। আর তখনই আপনার ব্রেন শরীরের সর্বত্র সংকেত পাঠাবেঃ ফাইট অর ফ্লাইট ।

শরীরের প্রতিটি স্নায়ু ও পেশী মুহূর্তে সজাগ ও সক্রিয় হয়ে উঠবে। টান টান উত্তেজনা তৈরি হবে। কিন্তু সাবধান দম ছাড়া যাবে না। যখন দেখবেন যে দম আর বন্ধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না, তখন নাক ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস শুরু করুন। আর আপনি দেখবেন ঘুম এবং আলস্য কোথায় পালিয়ে গেছে। এভাবে কয়েকদিন করার পর দেখবেন সকালে দম বন্ধ করার কথা মাথায় আসার সাথে সাথে আপনার ঘুম দূর হয়ে যাচ্ছে। 


Related Post: ছাত্র ছাত্রীদের প্রেম থেকে দূরে থাকার উপায়


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন