কিভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠা যায়

প্রিয় পাঠক, আপনি এই লেখাটি পড়ছেন তার মানে হচ্ছে “কিভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠা যায়” এই বিষয়টি জানা সত্যিই আপনার প্রয়োজন। আপনাকে অভিনন্দন। কারন কিভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠা যায়- এর মূল সূত্রই  হল আপনার সত্যি কারের আগ্রহ। আপনি যদি সত্যিই চান আপনি সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠবেন, আপনি তা পারবেন, কারন অসংখ্য মানুষ ঘুম থেকে সকালে উঠতে পেরেছেন শুধু  ঘুম কমানোর উপায় অবলম্বন এবং তাদের আগ্রহের কারনে।

বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া ও ব্লগ গুলোতে যে টিপস দেয়া আছে সেগুলো এপ্লাই করে আমরা ২-৪ দিনের বেশি সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারি না, কারন আসলে আমরা জাগৃতি ও ঘুম যে ছন্দে কাজ করে তা ভালো ভাবে বুঝতে পারি না, সে কারনেই আমাদের সকালে ঘুম থেকেও উঠা সম্ভব হয় না। জাগৃতি ও ঘুম একটি ছাড়া অন্যটি হয়ে দাঁড়ায় অর্থহীন বোঝা। জাগৃতি ও ঘুমের মধ্যে যখন একটা সুন্দর ছন্দ থাকে, তখনি জাগৃতি ও ঘুমের আনন্দ আপনার পক্ষে পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব। এই ছন্দ না জানার কারনে এই অনুভব থেকে আমরা বেশির ভাগই বঞ্চিত।

যেমন কেউ ঘুমাতে চাচ্ছেন, কিন্তু ঘুমোতে পারছেন না। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছেন। আবার কারও সমস্যা অতিরিক্ত ঘুম কারন ঘুম কমানোর উপায় সে জানে না। জেগে উঠতে চাচ্ছেন কিন্তু কিছুতেই চোখ মেলতে পারছেন না, উঠে বসছেন আবার বালিশে মাথা এলিয়ে ঘুম দিচ্ছেন। অনেকে আবার জাগৃতি ও ঘুমকে মিশিয়ে ফেলেন, তারা জাগেনও না, ঘুমানও না, অকারনে ঝিমান। ঘুম বা ঘুম কমানোর উপায় আসলে একটি শারীরিক অভ্যাস। তাই ঘুমের পরিমানও জনে জনে আলাদা। কেউ ২ ঘন্টা ঘুমিয়েও সারাদিন চমৎকার কাজ করতে পারেন। আবার কারও ১০ ঘন্টা ঘুমিয়েও তৃপ্তি নেই। ডাক্তাররা মনে করেন সাধারনত ৪-৭ ঘন্টা ঘুমই যথেস্ট হওয়া উচিত। তবে ঘুম কমানোর জন্য এমন কোন মেডিসিন নেয়া ঠিক না, যা আসলেই ঘুমের তৃপ্তিকে নস্ট করে।


তাহলে আসুন জেনে নেই  সকালে ঘুম থেক উঠার জন্য কি কি পদক্ষেপ নিতে পারি আমরাঃ

মনকে প্রভাবিত করুন – (For Getting Up Early)

আসলে জেগে থাকা ও ঘুমানোর প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হয়, শরীর ও মনের অবস্থার উপর। আপনি যদি সত্যি ঘুম থেকে সকালে উঠার জন্য আগ্রহী হোন, তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠা আপনার জন্য সহজ হবে। ঘুমের সময় আমাদের সচেতনতা হারিয়ে যায়, একটিভ থাকে অবচেতন মন, আর সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার জন্য আমাদের অবচেতন মনকে বোঝাতে হবে যে সত্যি আমাদের সকালে ঘুম থেক উঠা প্রয়োজন। যেমন যখন সকালে কোন খেলার স্কেজুয়েল থাকে, তখন আলাদা একটা এক্সাইট্মেন্ট কাজ করে,আর কাজটা বেশ মিনিংফুল মনে হয়, ঘুম কমানোর উপায় নিয়েও তেম ভাবতে হয় না, তখন আসলেই কোন আলার্ম দেয়া ছাড়াই আমরা জেগে উঠি। কিন্তু যেদিন সকালে কোন কাজ থাকে না, সেদিন খুব বোরিং লাগে এবং আমরা সাব –কনসাসলি একটু ঘুমাব বলে ভেবে নেই, ফলাফল তাই হয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমরা সচেতনভাবে ঘুম নিয়ে যেটা ভাবছি সেটা হচ্ছে না, সাব-কনসাসলি মানে অবচেতন ভাবে ঘুম বা ঘুম কমানোর উপায় নিয়ে যেটা ভাবছি তাই হচ্ছে।

তাই মনকে ঘুম থেকের জাগানোর প্রোগ্রাম দেয়ারজন্য, সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি কি করবেন আর কেন আপনার সকালে ঘুম থেকে উঠা প্রয়োজন তা ঠিক করে নিন এবং মিনিংফুল, এক্সাইটেড কাজগুলো সকালে ঘুম থেকে উঠে করার জন্য রাখুন, দেখবেন সকালে ঘুম থেকে  উঠা আপনার নখদর্পনে চলে আসবে।


যা ঘুম যাঃ

ঘুম ভাঙ্গার পরও যদি বিছানা ছেড়ে উঠতে মন না চায় বা উঠি উঠি করে আবার ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে, তাহলে ঘুম কমানোর উপায় বা এই ঘুম টেকনিকটি প্রয়োগ করুনঃ

ঘুম ঘুম  ভাব নিয়েই বিছানায় চিৎ হয়ে শোন।  এবার লম্বা দম নিন। মুখ বন্ধ রাখুন। যতদূর সম্ভব লম্বা দম নেয়ার পর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে নাক চেপে ধরুন। মুখ আগের মতই বন্ধ আছে। আবার নাক চেপে ধরার ফলে আপনি নিঃস্বাস ছাড়তে পারবেন না। ফলে কয়েক মূহুর্তের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসতে চাইবে। আর তখনই আপনার ব্রেন সর্বত্র সংকেত পাঠাবেঃ ফাইট অর ফ্লাইট ।

শরীরের প্রতিটি স্নায়ু ও পেশী মুহূর্তে সজাগ ও সক্রিয় হয়ে উঠবে। যখন দেখবেন যে দম আর বন্ধ রাখা যাচ্ছে না, তখন নাক ছেড়ে দিন। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস শুরু হবে। আর আপনি দেখবেন ঘুম আলস্য কোথায় পালিয়ে গেছে। আর কিভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠা যায় বা ঘুম কমানোর উপায়, তাও আপনার আয়ত্বে চলে এসেছে। ঘুম কমিয়ে আপনিও কর্মব্যস্ত হবেন।