সহজেই মেদ কমানোর উপায়- আয়েশা সিদ্দিকা, প্রধান পুষ্টিবিদ, স্কয়ার হসপিটাল

খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রার ফলে নারী পুরুষ উভয়েরই জীবন যাত্রার চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। জাংক ফুডের বদ অভ্যাস আর খাওয়ার অনিয়মের কারনে শরীরে জমছে বাড়তি ফ্যাট। এতে সৃষ্টি হয় নানান রোগ। এতে বিপদেও পড়ে থাকেন সবাই। একটু সচেতন হলে আমরা এই বিপদ থেকে রেহাই পেতে পারি সহজেই। পেটের মেদ আর শরীরের অন্য অংশের মেদকে এক জিনিস ভাবলে ভুল করবেন। পেটের মেদ যেহেতু লিভার, কিডনি এবং শরীরের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অংগের সঙ্গে লেগে থাকে, তাই এটি আপনার জন্য অনেক বড় বিপদ এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

আমরা প্রতিদিনই খাবার তালিকা থেকে যে খাবারগুলো নেই কিন্তু আমরা এটা জানি না যে খাবার খাওয়ার পর ক্যালোরিগুলো বার্ণ করতে হয়। অর্থাৎ কোনো ভাবেই আমরা ওয়ার্কিং লেভেলটাকে ঠিক রাখি না। আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়মিত করতে হবে এবং প্রতিদিনের খাদ্যে ৫ থেকে ৬ টা মিল নিতে হবে। এর মধ্যে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার তিনটি মেজর মিল এবং ইন বিটুইন টাইম গুলোতে ছোট ছোট স্ন্যাকস নিতে হয়। আবার আমরা অনেকে মনে করি যে খাবারটাকে বন্ধ করে দিব তাতেই আমার ওজন কমে যাবে। ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও সঠিক নয়। প্রথমে খাদ্যের নিয়মটাকে ঠিক রাখতে হবে, সময়সূচি ঠিক রাখতে হবে। তাহলেই প্রোপার ওয়েতে মেটাবোলিজম হবে।

শুধু ব্যায়াম করলে সহজে পেটের মেদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। খাবার দাবারেও সতর্ক থাকতে হবে। খাবারের সতর্কতা এবং শরীরের বিশেষ কয়েকটি ব্যায়াম আপনার পেটের চর্বিকে কমিয়ে দিবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের চর্বি জমা থেকে আপনাকে মুক্ত রাখবে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে একটু লেবু ও একটু লবন দিয়ে শরবত তৈরি করে খাবেন। শরবত খাওয়ার পর দুই বা তিন কোয়া কাচা রসুন খেলে ভাল ফল পাবেন। তাহলে আপনার শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি দ্বিগুন গতিতে হবে। সকালের নাস্তাতে অন্য খাবার কম খেয়ে এক বাটি ফল খেলে পেটের চর্বি থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

বয়স, ওজন, উচ্চতা এই তিনটা জিনিস বিবেচনা করে আমাদের খাবার খেতে হবে। এক্সারসাইজের কোন বিকল্প নেই। এখন অনেকে চিন্তা করতে পারেন কোন ধরনের এক্সারসাইজ করবো। আমি বলবো যে তাঁদের প্রতিদিন নিয়ম করে এক থেকে দেড় ঘন্টা হাঁটার জন্য। সময়টাকে যদি আপনি ভাগ করে নেন সকালে নাস্তার পর ২০ মিনিট, দুপুরের খাবারের পর ২০ মিনিট এবং লেট ইভিনিং বা আর্লি মর্নিং এ ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাঁটতে পারেন। কারণ আপনি যদি সকালে নাস্তার পর হাঁটেন আপনারটে তাৎক্ষনিক ক্যালোরিটা বার্ন হয়ে যাবে। আবার রাতের খাবারের পর যখন হাঁটবেন তখনি কিন্তু আপনার খাবারের ক্যালোরিটা বার্ন হয়ে গেলো। যদি আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন টাইমে ২০ মটবে ২০ মিনিট করে হাটি তাহলে আমাদের এই বাড়তি ফ্যাট চলে যায়। অনেকে মনে করেন বেলি স্ট্রোক করলে ফেটের মেদ কমে। আসলে বেলি স্ট্রোক করলে পেটের মেদ খুব বেশি একটা কমে না। পেটের মেদ কমাতে হলে প্রয়োজন পুরো শারিরীক ব্যায়াম। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের জগিং রক্তে চলমান ফ্যাটকে ধংস করে দেহে সঞ্চিত ফ্যাট ভাঙ্গতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিকল্পনা মাফিক ব্যায়াম এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করেল শুধু পেটের মেদই না, সারা দেহের মেদ কমে গিয়ে সুন্দর ফিগার তৈরি হবে এবং সাথে সাথে সুন্দর ও সুস্থ জীবন কাটাতে পারবেন আপনি। তাই সহজে মেদ কমানোর এই উপায়গুলো ভাল ভাবে অনুসরন করুন।

আয়েশা সিদ্দিকা

প্রধান পুষ্টিবিদ, স্কয়ার হসপিটাল।

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন