সারা জীবন সুস্থ থাকার উপায়

অনেকে মনে করেন সারা জীবন সুস্থ থাকার উপায় মেনে চলা বেশ কঠিন, কথাটি মোটেও সত্যি নয়। জীবন যাপন পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে, প্রত্যেকেই সুস্বাস্থের অধিকারি হতে পারে। বিষয়টি আমরা যেমন অসম্ভব মনেকরি আসলে তেমন অসম্ভব নয়। প্রাত্যহিক জীবন যাপনে, নিচের পয়েন্টস গুলো একাগ্রতার সাথে মেনে চললে, স্বাস্থ্যবান হওয়া খুব সহজ হবেঃ

১। পর্যাপ্ত পানি পান করুনঃ

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দিনে ২-৩ লিটার  আর শিশুদের কমপক্ষে ১-২ লিটার পানি পান করা উচিত। পানি শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক রাখে এবং টক্সিন দূর করে। পানি ত্বক পরিস্কার রাখে, ত্বকের সুস্থতার জন্য নামি দামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর চেয়েও পানি পানের প্রতি অধিকতর গুরুত্ত দিচ্ছেন বিজ্ঞানিরা। এছাড়া পানি কিডনি ভাল রাখে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রন করে। তাই চুমুকে চুমুকে পানি পান করুন।

২। সকালে নাস্তা করুনঃ

সকালের নাস্তাকে আমরা তেমন গুরুত্ত্ব দেই না অথচ সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালের নাস্তার কোন বিকল্প নেই। গবেষনায় দেখা যায়, যারা খাবার তালিকা থেকে সকালের নাস্তা বাদ দেয়, তারা দুপুরে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করে। তাই ক্ষুধা স্বাভাবিক রাখতে সকালে অবশ্যই পেট ভরে খাবার গ্রহন করুন। সকালে পুষ্টিকর খাবার ও ফলমূল খেয়ে দিন শুরু করুন।

৩। অল্প অল্প করে সারাদিন খানঃ

একে বারে অনেক খাবার না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার গ্রহন করুন। এতে মেটাবলিজম ভালও কাজ করে। যদি প্লেট এর অর্ধেকই শাক সবজি ও ফলমূল ভরা থাকে তাহলে আপনি সুস্বাস্থ্য অর্জনের পথে একধাপ এগিয়ে আছেন।

৪। সঠিক সময়ে খাবার গ্রহন করুনঃ

সকালের নাস্তা ৭.০০ – ৮.৩০ এর মধ্যে , দুপুরের খাবার ১.০০-২.০০ টার মধ্যে, বিকালের নাস্তা ৫.০০-৬.০০ টায় এবং রাতের খাবার ৮.০০-৯.০০টার মধ্যেই হওয়া বাঞ্জনীয়।

৫। ব্যায়াম করুনঃ

প্রতিদিন ব্যায়াম করুন, ব্যায়াম উপকারীতা অনেক। আর ব্যায়ামের মধ্যে যোগ ব্যায়ামের উপকারীতা বেশি। এতে দেহের ক্ষয় হয় না, ফলে ক্ষয় পূরনের জন্য বাড়তি ক্যালরি গ্রহনের প্রয়োজন হয় না।

৬। ইতিবাচক হোনঃ 

আমাদের জীবন যাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মনের প্রভাব রয়েছে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি যে কোন বাধাই জয় করতে পারে আর সমস্যাকে পরিনত করতে পারে সম্ভাবনায়। তাই আপনার চিন্তা ভাবনায় মনযোগ দিন। নেতিবাচক কিছু আসলে তা বন্ধ করে নতুন ইতিবাচক ভাবনায় চিন্তা শুরু করুন।

৭। শোকর গোজার হোনঃ

শুকরিয়া মনকে প্রশান্ত করে। সচেতন করে নিজের করনীয় বর্জনীয় সম্পর্কে। আর শোকর গোজার মনই পারে যে কোন সমস্যাকে সম্ভাবনায়, রোগকে সুস্থতায়, অশান্তিকে প্রশান্তিতে পরিনত করতে। তাই সব সময় শোকর গোজার হন, আপনি সুখী হবেন।

৮। ঝুঁকিপূর্ন অভ্যাস থেকে দূরে থাকুনঃ ঝুকিপূর্ন অভ্যাস গুলো শরীর মনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, স্বল্প মেয়াদে এগুলোর অনেক সময় কোন লক্ষন না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো বিরাট ক্ষতির কারন হতে পারে।

নিচের নির্দেশনা গুলো মেনে চললে সুস্বাস্থ্য হবে আরো সুনিশ্চতঃ

  • নিরাপদ শারীরিক স্পম্পর্ক করুন।
  • মদ্য পান থেকে বিরত থাকুন।
  • সিগারেট খাবেন না।
  • মাদক থেকে দূরে থাকুন।
  • বাইরের খাবার খাবেন না।
  • বিশুদ্ধ পানি পান করুন।