কিভাবে সুস্থ থাকবেন

নবীজী (সঃ) বলেছেন, সুস্বাস্থ্য স্রষ্টার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। আর কয়েকটি ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহন করে আমরা অনায়াসে সুস্থ থাকতে পারি। সুস্থ থাকার সহজ উপায় হলো ৫টি। এই ৫টি উপায় ব্যবহার করে আমরা অনায়াসে জীবনকে সুস্বাস্থ্যের নতুন ছন্দে ছন্দায়িত করতে পারি। চলুন পড়ে নেই সুস্থ থাকার সহজ উপায় গুলোঃ

 

১। দমঃ সুস্থ থাকার সহজ উপায় গুলোর একটি হল দম চর্চা। আর এই দম হচ্ছে জীবনের মূল ছন্দ। এই দমই শরীরের বাকি সকল ছন্দকে নিয়ন্ত্রন করে। সঠিক ও পরিপূর্ন দম প্রতিটি জীবকোষকে প্রকৃতির ছন্দে ছন্দায়িত করে। আর বুক ফুলিয়ে দম নেয়ার মাধ্যমেই আমরা পরিপূর্ণ দম নিতে পারি। বুক ফুলিয়ে দম নেয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য দিনে ৫ দফা ১৯ বার করে দম নিন। বুক ফুলিয়ে দম নেয়ার কযেত্রে দম নাক দিয়ে নেবেন, বুক ফুলবে, মুখ দিয়ে ছাড়বেন। প্রথমবার ধীরে ধীরে নাক দিয়ে দম নিয়ে বুক ফোলাতে থাকুন। বুক পুরো ফুলে গেলে ধীরে ধীরে নাক দিয়ে দম ছাড়ুন। দম ছেড়ে মনে মনে গুনুনঃ এক। আবার একই ভাবে দম নিয়ে দম ছেড়ে গুনুনঃ দুই। এভাবে উনিশ পর্যন্ত গুনে দম নেয়ে শেষ করুন। সারাদিনে এরকম ৫ দফা দমের চর্চা করলে আপনার দেহের প্রতিটি কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন লাভ করবে। আপনি প্রাণবন্ত ও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠবেন। বহুক্ষন একনাগাড়ে কাজ করতে পারবেন। সহজে ক্লান্ত হবেন না। তাই যখনই সময় পাবেন সুস্থ থাকার এই সহজ উপায়টি প্র্যাকটিস করবেন।

২। আহারঃ দমের পরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আহার। সব সময় সুপাচ্য সহজ খাবার গ্রহন করবেন। অতিরিক্ত মশলা, তেল, ঝাল প ভাজাপোড়া বর্জন করবেন। খাবারের ব্যাপারে তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম, কী খাবেন? দ্বিতীয়ত, কতটা খাবেন? তৃতীয়ত, কখন খাবেন? কী খাবেন? সবকিছু খাবেন। কারন সুস্থ থাকার সহজ উপায় আপনি জানেন ফলে যা আপনার ধর্মবিশ্বাস ও আপনার রুচি অনুমোদন করে, তা সবই খাবেন।

৩। ব্যায়ামঃ সুস্থ থাকার সহজ উপায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল আহার। আহারের পর আসে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা। ব্যায়ামের মধ্যে যোগব্যায়াম হচ্ছে সবচেয়ে ভাল ব্যায়াম। এর পরই হচ্ছে হাঁটা। প্রতিদিন ২৫/৩০ মিনিট ব্যায়াম করা বা হাঁটা। হাঁটলে ঘন্টায় ৪ মাইল গতিতে হাঁটতে হবে।

৪। হজমঃ যা খেলেন তা হজম হওয়া প্রয়োজন। খাবার হজম না হলে খেয়ে লাভ কী! আর হজমের সমস্যার যারা ভোগেন তাদের কারণটা শারীরিক নয়। ভেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক। কারণ পাকস্থলীতে যে এসিড উৎপন্ন হয় তাতে লোহা দিয়ে দিলে লোহা হলে হজম হয়ে যাবে। এই এসিড এত শক্তিশালী যা, পাকস্থলী যাতে নিজেই হজম না হয়ে যায়, সেজন্যে প্রতি ৫ দিনে পকস্থলীর আবরন বদলে যায়। তাই খাওয়ার আগে সবসময় বলবেনঃ যা খাব মজা করে খাব, যা খাব সব হজম হবে। কারন সুস্থ থাকার সহজ উপায়ের এই প্রক্রিয়াটি হল অত্যন্ত সিরিয়াস পয়েন্টস, সে কারনে খাবার আগে অটোসাজেশন দিলে দেখবেন হজম খুব ভাল হচ্ছে।

৫। রেচনঃ শরীরের বর্জ্য বস্তু শরীর থেকে সবসময় বের করে দিতে হবে। শারীরিক সুস্থতার এটা হচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা প্রচুর শাক ও আঁশযুক্ত সবজি খাবেন। এতে অন্ত্রের ক্যান্সার থেকেও আপনি রেহাই পাবেন। আর পর্যাপ্ত পানি পান করবেন। সবসময় স্বাভাবিক ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, আর ঠাণ্ডা পানিতে গোসল দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শীতকালেও স্বাভাবিক ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা উচিত। পানি বেশি ঠাণ্ডা হলে তাতে কিছু গরম পানি মিশিয়ে পানির ঠাণ্ডা ভাবটা কমানো যেতে পারে। কিন্তু তারপরও খেয়াল রাখতে হবে যেন পানির তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে কম  থাকে।

সুস্থ থাকতে চাইলে সুস্থ থাকার সহজ উপায়ের এ ৫টি ধাপ অনুসরন করুন। আপনি এক প্রাণবন্ত শরীরের অধিকারী হবেন। আর সুস্থ থাকার সহজ এই উপায় গুলো জানার পর বন্ধুদের শেয়ার করুন।

Leave a Reply