রিলেশনশিপ কখন ব্রেকআপ করবেন

দুজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মনের এবং মতের মিল, পছন্দ এবং অপছন্দ, শারীরিক এবং মানসিক আগ্রহ ইত্যাদি ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে সম্পর্ক বা রিলেশন হয়ে থাকে। যদি সে সম্পর্কের মাঝে কোন আপত্তিকর কিছু না থাকে, অনৈতিক কোন কাজ কেউ না করে থাকে, তাহলে সে সম্পর্ক বা রিলেশন চমৎকার গতিতে আগাতে থাকে। কিন্তু রিলেশনে যদি আপত্তিকর, অন্যায় কিছু থাকে এবং মতানৈক্য দেখা দেয়ার মত কাজ কেউ করে তাহলে দুজনেরই জীবন হয়ে উঠে বেদনাদায়ক, অসহনীয় এবং বিরক্তিকর।

সেই সঙ্গে এটিও মানতে হবে, এমন কোন রিলেশন নেই যেখানে কথার কাটাকাটি হয়নি, তর্ক-বিতর্ক হয়নি। সবছেয়ে হ্যাপি যে কাপল তাদেরও সমস্যা রয়েছে, অসঙ্গতি রয়েছে। এটিই জীবন। কিন্তু তারপরেও এমন কিছু দিক আছে, যে দিকগুলো যদি আপনার সম্পর্কে থেকে থাকে তাহলে এক্ষনি আপনাকে সতর্ক হতে হবে এই রিলেশন নিয়ে। প্রয়োজনে সম্পর্ক ছেদ বা ব্রেকআপ করার মত সাহসিকতা রাখতে হবে। তো এসব বিষয় গুলো চিন্তা ভাবনা করে আমি এমন ৫টি দিক নিয়ে আজ আপনাদের সাথে এই লেখনীর মাধ্যমে শেয়ার করতে চলেছি। যে দিকগুলো আপনার রিলেশনে থাকলে বুঝবেন যে আপনাদের ব্রেকআপ করে ফেলা উচিতঃ

১। প্রতিনিয়ত অসুখী হওয়াঃ

আমরা সম্পর্ক করি সুখের জন্য, ভালবাসার জন্য। যদি এই সম্পর্ক বা রিলেশন করতে গিয়ে সুখী হওয়ার পরিবর্তে আমরা অসুখী হই এবং সেই অসুখ যদি ক্রমাগত আমাদের মানসিক শান্তিকে নষ্ট করে, তাহলে সে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আমাদের ভাবতে হবে, পুণর্মূল্যায়ন করতে হবে। মূল্যায়ন মানে একটু পিছনে ফিরে নতুন দৃষ্টি নিয়ে সম্পর্কটিকে দেখা-যে হচ্ছেটা কি। কি হচ্ছে সেটির কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি এরপরেও আপনারা অসুখী হন তাহলে ব্রেক আপ করাই উচিত হবে।

২। দুজনের লক্ষ্য/ জীবন দৃষ্টি আলাদা হলেঃ

একটা সম্পর্ক যখন তৈরি হয়, পারস্প্রিক আগ্রহের ভিত্তিতেই দুজন পথ চলা শুরু করে। পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ করেই ধরা পরে দুজনের মানসিকতা আলাদা, চিন্তা-ভাবনা আলাদা, জীবন দৃষ্টি ও লক্ষ্য আলাদা। আর তখনই ধীরে ধীরে ফাটল ধরতে থাকে- অতি যত্নে, রোমান্টিকতায় তৈরি হওয়া এই সম্পর্কের। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়েরা কখনো কখনো কম্প্রমাইজ করে থাকে। কিন্তু যদি আপনাদের মধ্যে কেউই ছাড় দিতে না প্রে, তাহলে এই সম্পর্কে আর সময় নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৩। সহযোগিতা পরায়ন না হলেঃ

মানসিক ভাবে সাপোর্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আমাদের প্রত্যেকের দুর্বলতম জায়গা হলো আমাদের প্রিয়তম বা প্রিয়তমারা। যদি জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতে আমাদের পার্টনাররা আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে আমরা খুব বেশি দূর আগাতে পারবো না এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হবো, ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তাই যদি আপনার পার্টনার আপনার কাজে আপনাকে সাপোর্ট করতে না পারে তাহলে আর সামনে না এগিয়ে ব্রেক আপ করুন।

৪। অন্যায় ভাবে ব্যবহার করলেঃ

বর্তমান সময়ে প্রেমের নামে যা হয় সেটি বুঝতে অনেক তরুন-তরুনীর বছর দুয়েক প্রেম করে ছ্যাকা খাওয়া লাগে। আসলে এমন অনেক সম্পর্ক আছে যেটা আদতে কোন সম্পর্কই না। হয়ত ছেলেটি অতিরিক্ত আবেগী – এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মেয়েটি তার অর্থ, রেষ্টুরেন্টিং এবং শারীরিক চাহিদা মেটাচ্ছেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত আবেগী ছেলেটিকে বিয়ে করার কোন চিন্তাই করছেন না, ব্যবহার করছেন শুধু নিজের প্রয়োজনে। যদি ছেলেটি আর্থিকভাবে মেয়েটির ইচ্ছামত খরচ করেত না পারে, তাহলে ব্রেক আপ থেকে শুরু করে নানা উপায়ে ছেলেটিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ঘটনা প্রবাহ এর উল্টাও হতে পারে, যদি মেয়েটি অতিরিক্ত আবেগী হয় তাহলে তাকে বিভিন্ন প্রলোভন এবং প্রেসার দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের বেড়া জালে আটাকন। এধরনের এবিউসিব ব্যবহার- শারীরিকভাবে, মানসিক ভাবে, আর্থিক ভাবে আপনার সম্পর্কে থেকে থাকে তাহলে আজপই ব্রেক আপ করুন।

৫। বিশ্বাস ঘাতকতাঃ

প্রতিটি রিলেশনের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস। যদি আপনার প্রিয়তম/প্রিয়তমা আপনার বিশ্বাস ভাঙ্গে তাহলে নিশ্চিত থাকুন সে আবার এমনকি একাধিকবার বিশ্বাস ভাংবে।পারলে আলোচনা করে সমাধান করুন না হয় আপনার মনে সন্দেহের যে বীজ বপন করলেন সেটি আপনাকে কুরে কুরে খাবে। তাই বিস্বাসঘয়াতক। বিশ্বাস ঘাতকীনিদের ২য় সুযোগ না দিয়ে ব্রেক আপ করুন।

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন