কিভাবে কথা কম বলা যায়

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। বিখ্যাত কবিতার লাইন দুটি বিশ্লেষন করলেই বুঝা যায় বাঙালীরা কাজের ছেয়ে কথা বেশি বলে। ফলে তাদের কাজ কখনো সামনে আগায় না এবং কথা কম বলার উপায় নিয়ে তারা মাথা ঘামান না। মূলত আমরা বাঙালীরা বেশি কথা বলার কুফল সম্পর্কে অবগত নয় বিধায় আমরা কাজের ছেয়ে কথা বেশি বলি।

আর যখন কারও অতিরিক্ত এবং প্রয়োজনহীন কথা বলার অভ্যাস থাকে, মানুষজন তখন সে ব্যক্তির কথাগুলো মূল্যহীন, গুরুত্বহীন মনে করেন। যদি প্রত্যেকেই কথা কম বলার উপকারীতা জানত তাহলে সবাই বেশি কথা বলার অভ্যাস পরিহার করার জন্য কথা কম বলার টিপস খুঁজত। তাই আজ আমি কথা কম বলার কয়েকটি উপায় নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চলেছি। এই উপায় গুলো মেনে চলতে পারলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষজন আপনাদের সম্মান করা শুরু করবে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে।


Related Post: কিভাবে সকালের ঘুম দূর করবেন


 ➡ কেন বেশি কথা বলছেন কারণ খুঁজে বের করুন

আপনি কি বাচাল? না? তাহলে এতো কথা বলছেন কেন? অন্য কেউ তো আপনার জন্য কিছু বলার সুযোগই পায় না। কেউ বলতে চাইলেও- আমি শেষ করি, বলে তাকে থামিয়ে দিচ্ছেন। এতে আপনি কি পরিমান কথা বলে চলেছেন সেটি কি একটু চিন্তা করেছেন? যাদের সাথে কথা বলছেন তারা কিন্তু আপনার এমন আচরন মোটেও পছন্দ করে না। হয়ত মুখ ফুটে কিছু বলছেনও না। কিন্তু আপনি এত কথা কেন বলছেন? কারনটি খুঁজে বের করুন। কারন বেশি কথা কখনই ভাল ফল বয়ে আনে না। বেশি বলতে গিয়ে আপনার গোপন কথা বেরিয়ে যেতে পারে। তাই বাচালতা পরিহার করুন এবং আপনি এত কথা বলার পিছনের কারনটি খুঁজে বের করে সেটি কিভাবে সমাধান করা যায় সেটি চিন্তা করুন।


 ➡ ভাল শ্রোতা হউন

একজন ভালো বক্তার চেয়ে ভালো শ্রোতা অন্যকে বেশি প্রভাবিত করে। সব সময় বক্তার কথা শুনেই মানুষ প্রভাবিত হয় না। সবাই চায় তার কথা গুলো অন্যকে শোনাতে কিন্তু কেউই শুনতে চায় না। যদি আপনার কথা কম বলার অভ্যাস না থাকে তাহলে দ্রুত এই অভ্যাস আয়ত্ব করে নিন। আর আপনি যখন কারও কথা শুনবেন তখন কথা বলার জন্য তাকেই টাইম দিতে হবে। ফলে আপনি বলার সুযোগ কম পাবেন। মূল কথা হলো ভাল শ্রোতা হউন। তাহলে কথা বলার হারও কমে যাবে। এটি কথা কম বলার উপায় গুলোর মধ্যে একটি সেরা উপায়।


 ➡ গুরুত্বপূর্ণ হলেই কথা বলুন

কথা বলা শুরুর আগে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন যার সাথে কথা বলছেন-তাকে ঠিক কোন কথাটি বলতে চাচ্ছেন। আর যা বলতে চাচ্ছেন তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ সেটাও চিন্তা করে নিন। যদি কথার প্রয়োজনীয়তা এবং শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলোই কথা বলার সময় আমরা বলি তাহলে আমাদের মুখ দিয়ে অযাচিত কথা বের হবে না। সুতরাং কোন কোন কথা, বিষয়, তথ্যগুলো অন্যকে জানানো প্রকৃতপক্ষেই দরকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সে কথা গুলোই বলুন। তাহলে কিছুটা হলেও আপনি বেশি কথা বলার কুফল থেকে রেহাই পাবেন।


 ➡ কথা বলার উদ্দেশ্য এবং শব্দ চয়ন খেয়াল করুন

কিছু মানুষ খুব দ্রুততার সাথে কথা বলেন। দ্রুততার সাথে কথা বললে আমরা চিন্তা ভাবনা করে কথা বলার টাইম পাইনা। কথা কম বলার অভ্যাস রপ্ত করতে হলে আপনি কি বলছেন, কোন কোন শব্দ উচ্চারন করছেন সে বিষয়ে আপনাকে সচেতন হতে হবে। কথা কম বলার উপায় গুলোর মধ্যে যদি শুধু এই উপায়টি- মানে কি বলছেন, কাকে বলছেন, বলার সময় কোন কোন শব্দ উচ্চারন করছেন যদি এগুলো মেনে চলতে পারেন, তাহলে আপনি কম কথা বলার অভ্যাস গড়তে পারবেন।


 ➡ অন্যকে ইম্প্রেস করার জন্য কথা বলা থেকে বিরত থাকুন

সাধারণত কাউকে ইম্প্রেস করার প্রয়োজন হলে আমরা অনেক বেশি কথা বলি। বেশি কথা বলার কুফল যারা জানেন তারা কিন্তু কাউকে ইম্প্রেস করার জন্য অতিরিক্ত কথা বলেন না। তারা যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততোটুকু কথা বলেন। আসলে একটি কথা মনে রাখতে হবে- Show Off করার জন্য অতিরিক্ত কথা বলে কাউকে ইম্প্রেস করলেও সে ইম্প্রেশন বেশি দিন টিকে না। তাই কাউকে ইম্প্রেস করার জন্য বেশি কথা বলছেন কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন।  


উপরের উল্লেখিত পয়েন্টস মনে রেখে বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে পারলে আপনি কম কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন এবং অচিরেই কথা কম বলার উপকারিতা অনুভব করতে পারবেন।


Related Post: কিভাবে চুলের কাটিং নির্বাচন করবেন


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন