কিভাবে সুন্দর জীবন যাপন করবেন

মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্টই হল সে উপদেশ গ্রহন করতে আগ্রহী না, কিন্তু উপদেশ দেয়ার সুযোগ পেলে নিজের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বেশ আনন্দিত চিত্তে উপদেশ দিতে থাকেন। সত্যি কথা বলতে, জীবনের বাস্তব কথা হলো- যেসব মানুষ এরকম উপদেশ দিয়ে থাকে আমরা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করি। বরং সে মানুষটি উপস্থিত থাকলে একটা বিরক্তি কাজ করে আমাদের মাঝে। তাই যিনি প্রবীন, প্রজ্ঞাবান এবং একজন সফল জীবনের অধিকারি তিনার উপদেশ এবং যে সব লোকেরা নিজেরাই ব্যক্তি জীবনে ব্যর্থ তাদের উপদেশকে একত্রিত করে আমরা জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলি। ফলে আমাদের জন্য যে উপদেশগুলো আসলেও প্রয়োজনীয় সেটি গ্রহন করা থেকে বঞ্চিত হয়ে যাই আমরা।


Related Post: কিভাবে কোন ঘটনা লেনদেন কিনা চিহ্নিত করবেন 


এসব বিড়ম্বনার কথা মাথায় রেখেই অদ্যাবদি পর্যন্ত দেশিও এবং আন্তর্জাতিক লেখক, মোটিভেশনাল স্পীকার এবং সফল ব্যাক্তিদের দেয়া সেরা উপদেশগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। যে উপদেশগুলো প্রয়োগকরে সুন্দর থেকে সুন্দরতম জীবন যাপনের পথে এগিয়ে যাবেন । নিচে দেয়া পয়েন্টস গুলো মনযোগ দিয়ে পড়ে বাস্তব জীবনের কথা মনে করে প্রয়োগ করলে আপনার জীবন যাপন পরিনত হবে ক্লান্তিহীন প্রশান্তিময় সুখী জীবনে।

ইবাদত ও প্রার্থনা করুনঃ

বর্তমান সময়ে আমরা সবচেয়ে বেশি উদাসীন ধর্মীয় বিষয়ে। দুনিয়ার সাফল্য পাওয়ার জন্য আমরা যে কোন উপদেশ শোনার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকি। একটু বিচার বিশ্লেষনও করিনা, উপদেশটি আসলে আমাদের জন্য কতটুকু কল্যানকর। ধর্মীয় বিষয়ে কেউ আমাদের কোন উপদেশ দিলে আমরা ত্যাক্ত-বিরক্ত হই। এতটুকু চিন্তাও করি না মানুষের জন্য সবচেয়ে নিশ্চিত বিষয় হল মৃত্যু।

উপদেশঃ শুধু দুনিয়াবি চিন্তা করে সময় নষ্ট করবেন না। যিনি বুদ্ধিমান তিনি ইহকাল-পরকাল দুকালেই সফল হওয়ার জন্য এবং পরিত্রান পাওয়ার জন্য উপদেশ গ্রহন করেন এবং জ্ঞান অর্জন করেন। তাই সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন। তাছাড়া বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষনায় দেখেছেন নিয়মিত ইবাদত এবং প্রার্থনা যারা করেন তারা অধিক প্রশান্তিময় এবং ঝামেলামুক্ত সুখী জীবন যাপন করেন।

চিন্তায় ও কথায় ইতিবাচক থাকুনঃ

ইতিবাচক চিন্তা এবং কথার গুরুত্ব অপরিসিম। ইতিবাচক চিন্তা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবতায় রুপান্তরিত করে। কিন্তু আমরা ইতিবাচক আর আশাবাদী মনোভাবের পরিবর্তে দ্রুত নেতিবাচক কথা দ্বারা আক্রান্ত হই। তখন নেতিবাচকতাতেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাই। এ কারনে স্রষ্টা আমাদের যে মেধা ও দক্ষতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাঁর পূর্ণ বিকাশ আমরা করতে পারি না।

উপদেশঃ সফল মানুষেরা যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতেও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। প্রজ্ঞাবান মানুষদের থেকে তারা সঠিক উপদেশ গ্রহন করেন। তারা কখনই নেতীবাচকতায় আক্রান্ত হয়ে অন্য কেউ তাকে গালি দিচ্ছি এটি চিন্ত্যা করার পরিবর্তে তাঁর জন্য গোলাব ফুল নিয়ে আসছে – এধরনের পজিটিভ চিন্তা করেন। তাই চিন্তা ভাবনা এবং কথা থেকে সকল নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলুন।

লক্ষ্য নির্ধারন করুণঃ

আমরা লক্ষ্য নির্ধারনের প্রক্রিয়ায় বেশ ঝামেলায় পড়ে যাই। স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারি না। যদি সকালে তোমাকে খুঁজছে বাংলাদেশ হওয়ার চিন্তা করি, রাতে মনে হয় বাংলাদেশ আর আমাকে খুঁজে পাচ্ছে না। ক্রিকেটার হওয়াটাই আমার জন্য সবচেয়ে ভাল হব। এমন করতে করতেই জীবনটা শেষ হয়ে যায়। আমি আগের একটি পয়েন্টসে বলেছি একজন মানুষের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ইহকাল এবং পরকালের সাফল্য। অন্যদিকে যাদের লক্ষ্য নেই তাদের জীবনের অগ্রগতিও নেই।

উপদেশঃ নির্জন স্থানে চোখ বন্ধ করে ভাবুন- মৃত্যুর আগে আপনি এই পৃথীবিতে কী কি অবদান রেখে যেতে চান? মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য, আল্লহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য কী কী কাজ করে যেতে চান তা একটি খাতায় লিখুন। আপনার জীবনের মূল লক্ষ্য এগুলো। এই লক্ষ্য গুলো বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করুন এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করুন।

আর্থিক শিক্ষা গ্রহন করুনঃ

জীবন থেক আমরা সর্বোচ্চ একটা চাকরী প্রত্যাশা করি। কারও কারও সারা জীবনের একমাত্র লক্ষ্যই থাকে একটা চাকরি পাওয়া। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পরও তাদের অভাব দূর হয়না। ফলে সারা জীবন তাদের সংগ্রাম করে কাটাতে হয়।

উপদেশঃ পৃথিবীর সফল ব্যাক্তিরা নিয়মিত আর্থিক বিষয়ে পড়াশুনা করেন। কারন আর্থিক উপদেশ গ্রহন করলে, আর্থিক বুদ্ধি বাড়ে। ফলে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায়। তাই অর্থ সংক্তান্ত বই, পিডিএফ, অডিও, ভিডিও- নিয়মিত অধ্যয়ন করুন।

সফল ব্যাক্তিদের অভ্যাস আয়ত্ব করুনঃ

আমরা প্রতিনিয়ত যা করি তাই আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়। ইংরেজীতে একটি কথা আছে- What we repetadely do, becomes our habit. আজ পর্যন্ত আপনার যত সাফল্য, ব্যর্থতা তা আপনার অভ্যাসেরই ফলাফল। যত বেশি ভাল অভ্যাস গড়ে তুলবেন, তত আপনার জীবন সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

উপদেশঃ আপনি তখনই একজন সফল ব্যক্তিতে পরিনত হবেন যখন আপনি আপনার প্রত্যাশিত সেকটরে যারা সফল হয়েছেন তাদের  অভ্যাসগুলো আয়ত্বে আনতে পারবেন। কেননা তারা যে অভ্যাসগুলো তৈরি করে অথবা যে অভ্যাসগুলো ভেঙে ফেলে সফল হয়েছেন, সে অভ্যাসগুলো মেনে চললে, আপনিও সফল হবেন।

কাজকে ভালোবাসুনঃ

আমরা কোথাও কাজ খুঁজলে সবচেয়ে কম সময়ে, অল্প কাজে, তিন ডিজিটের বেতন প্রত্যাশা করি। দেশের মানুষজন সরকারি চাকরি পছন্দ করেন, কারন সেখানে করার মত কোন কাজই থাকে না। এই যদি আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি হয়ে থাকে তাহলে আমরা এগিয়ে যাব কি ভাবে। আবার কোন কাজ করতে হলেও খুব বিরক্ত হয়ে কাজটি করতে থাকি, কাজটি আমরা পছন্দ করি না, সে জন্য কাজে বরকতও হয় না।

উপদেশঃ বর্তমান যুগ কর্মযুগ। যে জাতি, ব্যাক্তি যত বেশি কাজ করবে, সে ব্যাক্তি বা জাতি ততো এগিয়ে যাবে। আর এগিয়ে যাওয়া মানুষেরাই আন্যদের জীবন পরিবর্তনীয় উপদেশ দিতে পারে। তাছাড়া কর্মে ব্যস্ত থাকলে দুশ্চিন্তা কমে, শারীরিক, মানুসিক  এবং আর্থিক সুখ ও সমৃদ্ধি বাড়ে। তাই কাজকে ভালোবেসে কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আর যত ব্যস্ততা তত সুস্থতা।

উপরে লিখিতে ছয়টি জীবনের বাস্তব কথা বা উপদেশ যদি কেউ সঠিকভাবে মেনে চলতে পারে তাহলে তাঁর জীবন হবে প্রশান্তিময়। আর যার জীবন প্রশান্তি ও প্রাচুর্যময় তাঁর থেকে বেশি সুখে এই পৃথিবীতে কে আছে বলুন? আমার জীবনে আমি এই ৬টি উপদেশ মেনে চলি এবং এগুলোকে আমি আদর্শ হিসেবে মনে করি। আপনার কাছে অনুরোধ রইলো- খুব বেশি জ্ঞানী হওয়ার চেস্টা না করে যে ৬টি বিষয় জেনেছেন সেগুলো ভালো ভাবে মেনে চলুন; আপনি জীবনে সুখী হবেন। এগুলো জীবনের বাস্তব কথা।


Related post: কিভাবে কোন ঘটনা লেনদেন কিনা চিহ্নিত করবেন 


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন