কীভাবে ভালো থাকা যায়

ভালো থাকা বা ভালো থাকতে পারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর একটি নেয়ামত। একটু ভাল থাকার জন্য, আনন্দে থাকার জন্য আমরা কত আয়োজনই না করি। কিন্তু এই আয়োজন সব সময় সফল হয় না। কেননা আমরা ভুল জায়গায় সুখ খুঁজি, ভালো থাকার, আনন্দে থাকার, হাসি খুশি থাকার জন্য আমরা অর্থ, প্রতিপত্তি, যশ, খ্যাতি, ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। অথচ এসব কিছু থাকার পরেও আমরা ভাল থাকতে পারিনা। হয়ত আমরা ভাল থাকতেই জানি না। খামোখা ভাল থাকার অভিনয় করি। ফেসবুকে সুন্দর ভাল থাকার উক্তি শেয়ার করি। আদতে কি আমরা মন থেকে বলতে পারবো যে আমরা ভাল আছি? প্রিয় পাঠক, প্রিয় বন্ধু- আজ আমি তোমাদের সাথে ভাল থাকার চেষ্টা, ভালো থাকার উপায়, ভাল থাকার সহজ উপায়, হাসিখুশি থাকার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। তো চলো শুরু করা যাকঃ-

টিপস নং ১০ঃ শোকর গোজার থাকুন

শোকর গোজার মন প্রশান্ত মন। আর মন যখন প্রশান্ত থাকে তখন ভালো থাকার পরিমান বাড়ে। দুনিয়াবি জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব করে, অন্যের ধন সম্পদ এবং গাড়ী বাড়ির দিকে না তাকিয়ে যদি নিজেদের যা কিছু আছে সেগুলোর দিকে তাকাই তাহলে আমাদের দুশ্চিন্তার পরিমাণ কমে ভালো থাকার পরিমাণ বাড়বে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০ বার বলুন শোকর আলহামদুলিল্লাহ।

টিপস নং ০৯ঃ ধার্মিক হোন

ধর্ম মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করে। ধার্মিক ব্যক্তির সব কিছুর দায়িত্ব আল্লাহর কাছে থাকে। তিনি তার সকল দুঃখ কষ্ট সফলতা ব্যর্থতা, পাওইয়া না পাওয়া এসব কিছুর জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করেন। সে জন্যে তার নিজের কোন দুশ্চিন্তা থাকে না, কষ্ট থাকে না। সেজন্য ধার্মিক মানুষ ভালো থাকেন। তাই ভালো থাকার জন্যে ধর্মের চর্চা করা খুবই প্রয়োজন।

টিপস নং ০৮ঃ মেডিটেশন করুন

মেডিটেশন মনকে স্থির করে, অতীতের গ্লানি আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মঙ্কে বর্তমানে নিয়ে আসে। ফলে একজন মানুষ বর্তমানে মনোযোগি হতে পারে। ক্রমাগত মেডিটেশনের ফলে- মন থেকে রাগ, ক্ষোভ, অস্থিরতা, অশান্তি ইত্যাদি দূর হয় এতে ব্রেনের ক্লিনিং এবং মনের কুলিং হয়। ফলে মনের মাঝে এক ধরনের সুখানুভূতি কাজ করে, ভাল লাগা কাজ করে। তাই নিয়মিত মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।


Releted Post: কিভাবে মন ভাল করবেন


টিপস নং ০৭ঃ গীবতকে না বলুন

গীবত হলো কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন দোষ বলা যা ঐ ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে। অন্যকে তার অসাক্ষাতে ছোট করা, তার সম্মানকে খাটো করা, তার সম্পাদিত কর্মকে ধুলায় মিশিয়ে দেবার গোপন প্রচেষ্টা হল গীবত। এটী কারো পিঠে ছুরি মারার মতো অপরাধ। যেই অপরাধের ফল গীবতকারীকে অবশ্যই ভোগ করতে হয়। এসব করে গীবত কারী নিজে কখনই ভালো থাকতে পারে না। তাই ভালো থাকার জন্য আজ থেকে গীবতকে না বলুন।

টিপস নং ০৬ঃ  রাগ নিয়ন্ত্রন করুন

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। এই রাগ আমাদের সকল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে। নিজের এবং অন্যের সকল শান্তি নষ্ট করে। ফলে জীবনে নেমে আসে দুর্বিসহ যন্ত্রনা। অথচ রাগকে নিয়ন্ত্রন করে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আমাদের জীবন সমস্যা কমবে। তাই সব সময় রাগকে নিয়ন্ত্রনে রেখে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করুন।

 টিপস নং ০৫ঃ কর্ম ব্যস্ত থাকুন

একটি কথা সব সময় মনে রাখবেন- আপনি যত ব্যস্ত থাকবেন,তত সুস্থ থাকবেন, যত আরামে থাকবেন, ততো ব্যারাম ভর করবে আপনাকে। শুধু তাই নয়, কর্ম ব্যস্ততা- দুশ্চিন্তা, গীবত, অন্যায় কর্ম, পরকীয়া ইত্যাদি থেকে আমাদের দূরে রাখে। সেই সাথে আমাদের জীবনকে সুখী আনন্দময় এবং আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করে এই কর্ম ব্যস্ততা।

টিপস নং ০৪ঃ প্রতিদিন অল্প অল্প ভালো কাজ

একেবারে অনেক কাজ করার চেষ্টা না করে, যদি আমরা প্রতিদিন অল্প অল্প কাজ করি এবং সে কাজ যদি ভালো কাজ হয় তাহলে কিছু দিন বাঁ মাস পর আপনি অনেক ভালো কাজ করে ফেলবেন। কিছু কিছু ভালো কাজ আছে- যেগুলো করে আত্মিক শান্তি পাওয়া যায় যেমন- সেচ্ছায় রক্ত দান করা, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান করা ইত্যাদি কাজগুলো আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দিবে। আপনার ভালো থাকার পরিমান বাড়াবে।

টিপস নং ০৩ঃ স্বাস্থের যত্ন নিন

একজন রোগ গ্রস্ত মানুষ যিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত তাকে যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন- ঠিক এই মূহূর্তে তুমি কি চাও? ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী অবশ্যই বলবে- আমি শুধু বাচতে চাই। কারণ এই রোগী ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন ক্যান্সারের কোন এন্সার নেই। এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তির কাছে জীবনের যে কী মূল্য সেটা যদি আমরা উপলব্ধি করেত পারতাম তাহলে কখনই আমরা অসাস্থকর কাজ করতাম না। নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য দরকারি পদক্ষেপ নিতাম। তাছাড়া শরীর যদি ভাল না থাকে- সেটির ছাপ আমাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের উপর পড়ে। এতে ভালো থাকার পরিমাণ কমে। তাই ভালো থাকার জন্য স্বাস্থের যত্ন নেওয়া জরুরি।

টিপস নং ০২ঃ আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ হওয়া

জীবনে সুখের জন্য টাকাই একমাত্র মাধ্যম নয়। কিন্তু সুখের অন্য উপকরন সব থাকার পরে যদি এই টাকা না থাকে তাহলে, অন্য সব উপকরন আমাদের সুখী করতে পারে না। এর থেকে বোঝা যায় আমাদের জীবন যাপনের জন্য অর্থেরও প্রয়োজন আছে। তাই জীবনকে সুখী করার জন্য, ভালো থাকার জন্য সব সময় আর্থিক উন্নতি সাধনের চেষ্টা করতে হবে।

টিপস নং ০১ঃ আসক্তি থেকে দূরে থাকুন

যে কোন ধরনের বাড়াবাড়ি আসক্তির নামান্তর। আসক্তি প্রেম নিয়ে হতে পারে, মোবাইল গেমস নিয়ে হতে পারে, ফেসবুক নিয়ে হতে পারে, অর্থের জন্য হতে পারে, মাদকের জন্য হতে পারে। যে কোন ধরনের আসক্তি আমাদের জন্য ক্ষতিকর। কারণ কোন বিষয়ে আমরা যত আসক্ত হবো- সে জিনিস না পেলে বাঁ ছেড়ে চলে গেলে ততো কষ্ট পাবো। এই আসক্তি সব চেয়ে দ্রুত তৈরি হয় প্রেমে। খাওয়া নেই, দাওয়া নেই, কাজ নেই কর্ম নেই- সব কিছু বাদ দিয়ে প্রিয়তমার কথা চিন্তা করা। প্রিয়তমাকে নিজের পৃথীবি ভাবতে শুরু করা। কেবল ছ্যাকা খাওয়ার পরই বোঝা যায় এতো দিন যাকে আপনি পৃথিবী ভাবতেন সে আপনাকে তার এলাকাও ভাবতো না। শুধু ব্যবহার করতো নিজের প্রয়োজনে। তাই ভালো থাকার পরিমান বাড়াতে হলে, প্রেম সহ সব ধরনের রোগ থেকে, আসক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সব কিছু স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখতে হবে। তাহলে আমরা ভাল থাকতে পারবো।

প্রিয় বন্ধু, চাইলেই ভালো থাকা যায়। তবে চট করেই পরিস্থিতি ভাল হয়ে যায় না। যদি আজ থেকে এই ভাল থাকার সহজ উপায় প্রয়োগ করতে পারো তাহলে দিনে দিনে তোমার সুখ শান্তি বেড়ে তুমিও হয়ে উঠবে হাসি খুশি ভালো মানুষ। তাই ভাল থাকার অভিনয় বাদ দিয়ে যদি প্রকৃত অর্থে ভাল থাকার চেষ্টা করো সেই সাথে ভাল থাকার উক্তি গুলো প্রয়োগ করো তাহলে সত্যিই ভালো থাকতে পারবে। ভালো থেকো তুমি।


Youtube Video Link কিভাবে ভাল থাকা যায়


 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন