কীভাবে ভালো থাকা যায়

ভালো থাকা বা ভালো থাকতে পারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর একটি নেয়ামত। একটু ভাল থাকার জন্য, আনন্দে থাকার জন্য আমরা কত আয়োজনই না করি। কিন্তু এই আয়োজন সব সময় সফল হয় না। কেননা আমরা ভুল জায়গায় সুখ খুঁজি, ভালো থাকার, আনন্দে থাকার, হাসি খুশি থাকার জন্য আমরা অর্থ, প্রতিপত্তি, যশ, খ্যাতি, ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। অথচ এসব কিছু থাকার পরেও আমরা ভাল থাকতে পারিনা। হয়ত আমরা ভাল থাকতেই জানি না। খামোখা ভাল থাকার অভিনয় করি। ফেসবুকে সুন্দর ভাল থাকার উক্তি শেয়ার করি। আদতে কি আমরা মন থেকে বলতে পারবো যে আমরা ভাল আছি? প্রিয় পাঠক, প্রিয় বন্ধু- আজ আমি তোমাদের সাথে ভাল থাকার চেষ্টা, ভালো থাকার উপায়, ভাল থাকার সহজ উপায়, হাসিখুশি থাকার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। তো চলো শুরু করা যাকঃ-

১। শোকর গোজার থাকুনঃ

শোকর গোজার মনই প্রশান্ত মন। শুকরিয়া মনকে প্রশান্ত করে। যদি আপনি মনকে প্রশান্ত রাখতে পারেন তাহলে সুখ এমনি আপনার কাছে ধরা দিবে। যদি মনে সুখ থাকে তাহলে ভালো থাকার পরিমানও বাড়ে। তাই সব কিছুর জন্য, পাওয়া না পাওয়া, ছোট বড় সব কিছুর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া প্রকাশ করুন। নাই নাই, খাই খাই ভাব ভুলে গিয়ে, নিজেরটা আগে এই স্বভাব দূর করে অল্পে তৃপ্ত হউন। তাহলে আপনি সুখে থাকবেন, ভালো থাকবেন। 

২। ইতিবাচক মনোভাবঃ

কোন বিষয়কে দু ধরনের দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে মূল্যায়ন করা যায়। একটি ইতিবাচক আরেকটি নেতিবাচক। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ভাল ফলাফল নিয়ে আসে। আর যদি যে কোন ঘটনায় আমরা নেগেটিভ দিকটি আগে মূল্যায়ন করি, তাহলে আমাদের নেতিবাচকতাই আকৃষ্ট করবে। তাই যে কোন ঘটনাকে সন্দেহমূলক দৃষ্টি নিয়ে না দেখে ভাল ভাবে দেখা উচিত। কাজটি আমি পারবো বা আমার দ্বারা এই কাজটি করা সম্ভব এই মানসিকতা আমাদের অনেক দূর নিয়ে যায়। আমরা খালি চিন্তা করি- এই লোকটি আমার দিকে এমন ভাবে তাকালো কেন? কিন্তু যদি পজিটিভ দৃষ্টি নিয়ে ভাবতাম তাহলে ভাবনা হতো এমন- ও লোকটি মনে হয় আমাকে পছন্দ করেছে, তাই ভালো করে দেখছে। নেতিবাচকতা দুশ্চিন্তা, ফেরেশানি, অশান্তি বয়ে আনে। আর ইতিবাচকতা শান্তি বয়ে আনে। সেজন্যে পরিস্থিতি যাই হোক ভাল থাকার অভিনয় না করে ইতিবাচক থাকতে হবে। 

৩। জিহবার নিয়ন্ত্রনঃ

একজন সওয়ারী ঘোড়ার লাগাম টেনে না ধরে যতই চিৎকার চেঁচামেচি করুক না কেন ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে না। তাতে চড়ে গন্ত্যবেও পৌছতে পারবেনা। তেমনি অন্তর থেকে নেতিবাচকতা, হিংসা-বিদ্বেশ, কু ধারনা দূর করা গেলেও জিহবাকে নিয়ন্ত্রন না করা পর্যন্ত গীবত থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে গীবত অশান্তির বিষবৃক্ষ।

৪। কর্ম ব্যস্ত সুখী জীবনঃ

সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্ম ব্যস্ত সুখী জীবন। কর্ম ব্যস্ততা সুখ বাড়ায়, বাড়ায় ভালো থাকার পরিমান। তাই ব্যস্ত থাকতে যা যা করনীয় তাই করুন। যদি কাজের মাঝে আনন্দ খুঁজে পান, তাহলে সেই আনন্দ আপনার জীবনকে এতই আনন্দিত করে তুলবে যেটা আপনার সমস্ত ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, মন খারাপ দূর করে আপনাকে প্রশান্ত করে তুলবে। সেই মানুষই সুখী যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারছে।

প্রিয় বন্ধু, চাইলেই ভালো থাকা যায়। তবে চট করেই পরিস্থিতি ভালো হয়ে যায় না। যদি আজ থেকে এই ভালো থাকার সহজ উপায় প্রয়োগ করতে পারো তাহলে দিনে দিনে তোমার সুখ শান্তি বেড়ে তুমিও হয়ে উঠবে হাসি খুশি ভালো মানুষ। তাই ভালো থাকার অভিনয় বাদ দিয়ে যদি প্রকৃত অর্থে ভাল থাকার চেষ্টা করো সেই সাথে ভালো থাকার উক্তিগুলো প্রয়োগ করো তাহলে সত্যিই ভালো থাকতে পারবে। ভালো থেকো তুমি।

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন