গ্যাস্ট্রিক কেন হয়, গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ কি, গ্যাস্ট্রিক হলে করনীয় কি?

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় পড়তে হয় না এমন লোক খুব কম পাওয়া যাবে। গ্যাস্ট্রিক এখন সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে গেছে। ছোট-বড় সবারই গ্যাস হয়ে থাকে। গ্যাস্ট্রিক হওয়ার মূল কারণ হলো  মানুষের খ্যাদ্যভাস এবং খাবারে অনিয়ম। অনেকেই গ্যাস্ট্রিক কেন হয়, গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ, গ্যাস্ট্রিক হলে করনীয় কি? এইসব বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। গ্যাস্ট্রিককে আমরা গ্যাস্ট্রিক নামে জানলেও ডাক্তারদের কাছে গ্যাস্ট্রিক পেপটিক আলসার নামে পরিচিত। তাই আজকে আমি আপনাদের সাথে গ্যাস্ট্রিক কেন হয়, গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ, গ্যাস্ট্রিক হলে করনীয় কি? এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি। 

গ্যাস্ট্রিক কেন হয়? এটা আমরা অনেকেই জানি না, যার কারণে অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক আলসারে পরিণত হয়। যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর।


Related Post:রসুনের উপকারিতা- নুসরাত জাহান


জেনে নেই গ্যাস্ট্রিক কেন হয়ঃ

গ্যাস্ট্রিক হয় মূলত পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড তৈরি হলে। অতিরিক্ত এসিড পাকস্থলীর মিউকোসার পর্দা নষ্ট করে দেয়। গ্যাস্ট্রিকের বড় আরেকটা কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠে। যার কারণে সকালের Breakfast দুপুরে করতে হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খালি পেটে থাকার কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে। গ্যাস্ট্রিকের আরো একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, রাতে দেরি করে খবার খাওয়া। অনেকেই অফিসে কাজ করে, অফিস থেকে অনেকে দেরি করে বাসায় আসে। আর তখন অনেক দেরি করে রাতে খাবার খেতে হয়। খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে যায়, এইজন্যই আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে।

গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ?

১। খিদে পেয়েছে অনেকক্ষণ হয়েছে কিন্তু একটু খাওয়ার পরেই আর খেতে ইচ্ছে করে না। একটুতেই পেট ভরে যায়, পেট ফাঁপা ধরে যায়।

২। বেশি ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া। অনেকেরই  ফার্স্ট ফুড বা জাঙ্গ ফুড খাবারের দিকে বেশি আকৃষ্ট থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলো  আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। 

৩। ওজন বেড়ে যাওয়া। ওজন বেড়ে যাওয়া আমাদের শরীরের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। ওজন বেড়ে যায় মূলত অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে।

এছাড়াও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে বুকে জ্বালাপোড়া, পেট ব্যথ্যা হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত বুক জ্বালাপোড়া করলে গ্যাস্ট্রিক হয়েছে মনে করি।

এবারে, চলুন জেনে নেই গ্যাস হলে করনীয় কি বা গ্যাস দূর করার উপায়ঃ

 শসাঃ শসা পেটকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেট থেকে গ্যাস দূর করে। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে খাবার হজমে সাহায্য করবে। এছাড়া শসার মধ্যে প্রচুর সিলিকা ও ভিটামিন সি আছে। যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য শসা অনেক কার্যকর।

দইঃ দই খাবার হজম করতে সাহায্য করে। পেটের মধ্যে থাকা জমা গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে দই। দইয়ের মধ্যে রয়েছে ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে। আর এই উপকারি ব্যাকটেরিয়া দ্রুত খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এইজন্যই খাবারের পর দই খাওয়া খুবই দরকার।

আদাঃ আদা একটি কার্যকর উপাদানসমৃদ্ধ খাবার। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যা পেট ফাঁপা ও পেট গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। আদা গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, হজমে সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। যদি আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খাওয়া হয় তাহলে দ্রুত গ্যাসের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

পেপেঃ পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এঞ্জাইম যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে গ্যাসের সমস্যা আর হবে না।

কলাঃ কলা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারি। কলা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। কলাতে রয়েছে পটাশিয়াম যা আমাদের শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই আমাদের নিয়মিত কলা খেতে হবে যাতে করে গ্যাসের কোন প্রব্লেম না হয়।

পানিঃ পানির অপর নাম জীবন। পানি পানের সুফল অনেক। সকালে খালি পেটে পানি পানের উপকারিতা অন্রক। যদি আমরা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই গ্লাস পানি পান করি তাহলে আর সারাদিনের জন্য গ্যাস্টিকের সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ পানি আমাদের হজম শক্তি বারাতে সাহায্য করে। এছাড়া পানি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে।

হলুদঃ হজম বিষয়ক সকল সমস্যার একমাত্র সমাধান। চর্বিজাতীয় খাবার আমাদের শরীরের জন্য অনেম ক্ষতিকর। কারণ এইসব তেলতেলে খাবার খাওয়ার কারণে গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। আর এই হলুদেই আমাদের চর্বি জাতীয় খাবার হজম করতে সাহায্য করে।

রসুনঃ গ্যস্ট্রিকের সমস্যার জন্য রসুনের বিকল্প কিছু আর হতে পারে না। নিয়মিত এককোয়া রসুন আমাদের গ্যাস থেকে রক্ষা করবে। রসুন খেলে পেটে গ্যাস ক্ষরণের মাত্রা স্বাভাবিক হয়।

পুদিনা পাতার পানিঃ পুদিনা পাতার উপকারিতা অনেক। এক কাপ পানিতে কিছু পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খেলে পেট ফাঁপা, বমিভাব দূর করতে সাহায্য করবে।

উপরের উল্লিখিত খাবারগুলো নিয়মিত খেলে গ্যস্ট্রিকের সমস্যায় আর কখনো পড়তেই হবে না। তবে আমাদের খাবার গ্রহণের সময় একটু সর্তক থাকতে হবে। খাবার গ্রহণের সময় সঠিক মাত্রায় খাওয়া, তেলযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।


Related Post: সজনে পাতার উপকারিতা- নুসরাত জাহান


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন