কিভাবে ছাত্র জীবনে প্রেম থেকে দূরে থাকবেন

ছাত্রজীবনে প্রেম সাফল্যের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীর সম্ভাবনা নস্ট হয়ে গেছে শুধু এই প্রেম বা প্রথম প্রেম নামক মোহের কারনে। ভালবাসা কি এবং ভালবাসার কথা থেকে একধরনের নিঃসঙ্গতা তৈরির ফলে অনেকে এই ধংসাত্মক আবেগে পড়ে যায়। ভালবাসার গল্প শুনে, আসেপাশের সবাইকে দেখে মনে করে, শুধু আমার জীবনেই ভালবাসার কথা বলার, শোনার কেউ নাই। এই যে নিঃসঙ্গতা, এটা থেকে কেউ এগিয়ে যাওয়ার প্রেরনা পায় আবার কেউ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে বুঝার চেস্টা করে ভালোবাসা কি। আবার অনেকে মনে করে প্রেম করলে বোধহয় নিঃসঙ্গতা থাকবেনা, প্রেমিকা প্রেমের কবিতা শোনাবে, প্রেমের ছন্দ শোনাবে কিন্তু এই প্রেম আসলে ছাত্রজীবনে যেমন নিজেকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যায়, তেমনি জীবনকে এলোমেলো করে দেয় এবং এক সময় ভালবাসার এই গল্প গুলো তিক্ত লাগে। তাই প্রেম থেকে দূরে থাকার উপায় এবং প্রেম না করে প্রথম প্রেমের অভিজ্ঞতা অর্জন করার উপায়গুলো আসুন জেনে নেইঃ

ভালো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হোনঃ

একটু অবসর পেলে ছাত্র-ছাত্রীরা কাউকে ফোন করে, মেসেজ পাঠায়, রাতভর ফ্রী ভালবাসার কথা বলার সুযোগ নিয়ে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু যে ছাত্র-ছাত্রীরা বুদ্ধিমান, তারা নিজেদের নিঃসঙ্গতাকে দূর করার জন্য মোবাইলে কথা বলা, প্রেমের কবিতা পড়া, ভালবাসার গল্প করা বাদ দিয়ে ভালো কিছুর সাথে যুক্ত হয়। এই ভালো কোন কাজ হতে পারে, বই হতে পারে, ইবাদত হতে পারে। তাই নিজেকে ভাল কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করুন।

ক্ষতিকর বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকুনঃ

কারও সাথে কথা হলে, দেখা হলেই প্রেমের ছন্দ তৈরি হয়ে যাবে, ভালবাসার গল্প করতে হবে এমন কোন কথা নেই। এমনকি সে বন্ধুও নয়। অনেক বন্ধু-বান্ধব আছেন যারা লেজ কাটা শেয়ালের মত। নিজেরা প্রেম নামক মোহে যুক্ত হয়ে, নিজেদের ভালবাসার গল্প অন্যদের শুনিয়ে, প্রভাবিতও করতে পারে, মন্ত্রনা দিতে পারে, লেজ হারানোর ফাঁদের পা দিতে। তাই এসব আত্মঘাতি বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকুন।

সম্পর্কের ধরনে সচেতন হোনঃ

ছাত্রজীবনে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে স্বাভাবিক সুসম্পর্ক থাকবে। তাই বলে তাদের মধ্যে ভালবাসার কথা, ভালবাসার গল্প এবং প্রেমের কবিতা নিয়ে আলোচনা হবে তা কিন্তু নয়। যদি সহপাঠী হয় তাহলে সহপাঠী সুলভ, প্রতিবেশি হলে প্রতিবেশি সুলভ, আত্মীয় হলে আত্মীয় সুলভ আচরন হবে। অর্থাৎ সে প্রেক্ষাপটে হওয়া উচিত।

প্রেমজনিত সমস্যা এড়িয়ে চলুনঃ

একজন শিক্ষার্থীর মূল কাজ হচ্ছে পড়াশুনা করা। পড়াশুনা বাদ দিয়ে ভালবাসা কি, প্রথম প্রেম নিয়ে জল্পনা কল্পনা, ভালবাসার কথা এবং অন্য যে কোন কাজই ভাল পড়াশুনার পথকে বাধাগ্রস্ত করবে। প্রেমজনিত সমস্যা এবং ভালবাসার গল্প বা ভালবাসার কথা যখনই শুনবেন, এটা থেকে দূরে থাকবেন। বুঝবেন যে এটা রোগ, একধরনের অসুস্থতা।

প্রো-একটিভ থাকুনঃ

এই যুগে ২/৪ টা প্রেম না থাকলে সবাই আনস্মার্ট ভাববে, খ্যাত ভাববে তাছাড়া এক দুবার প্রেম না করলে ভালবাসা কি বুঝবো কি ভাবে, অন্য বন্ধুরা কি ভাববে- ভাবুক। যারা ভাববে তারা নিজেদের লেজ হারিয়ে অন্যদের সে পথে নিতে চাচ্ছে। অতএব অন্যের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে প্রো-একটিভ থাকুন।

লক্ষ্যকে বড় রাখুনঃ

জীবনের লক্ষ্যকে উঁচু রাখলে, এই সব হাবিজাবি প্রেমের ছন্দ, প্রেমের কবিতা, ভালবাসার গল্প, ভালোবাসার কথা  এসব বিষয়, মস্তিষ্ক থেকে দূরে থাকবে।


Related Post: কিভাবে কথা কম বলা যায়


 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন