কিভাবে ছেলেদের পটানো যায়

সাধারনত ছেলেরা মেয়েদের পিছন পিছন ঘুরবে, প্রপোজ করবে, বাসার সামনে, স্কুলের সামনে অবাধ্য প্রেমিকের মত দাঁড়িয়ে থাকবে- এই চিত্রটিকেই আমরা স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু একটি মেয়ে যখন ছেলেদের পটানো জন্য এমন পাগলামি বা বাড়াবাড়ি কিছু করে তখন সেটি আর স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে না, হয়ে যায় অস্বাভাবিক বিষয়। ছেলেরা মেয়েদের পটানোর চেষ্টা করতে পারবে কিন্তু মেয়েরা কোন ছেলেদের পটানোর চেষ্টা করতে পারবে না এটিই আমাদের আশেপাশের চিত্র। এরকম বৈষম্য তৈরি হওয়ার নেপথ্য কারণ সমাজটা পুরুষ শ্বাসিত সমাজ। ছেলে করলে দোষ নাই, মেয়ে করলে শাস্তির শেষ নাই এটাই আমাদের মানসিকতা। আমাদের বুঝা উচিত যেটা পাপ, অন্যায়, অশ্লীলতা সেটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। এটি যেমন ছেলের ক্ষেত্রে হতে পারে তেমনি মেয়েদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। একটি ছেলের যদি একটি মেয়েকে পছন্দ হতে পারে তবে একটি মেয়েরও যে কোন ছেলেকে দেখে পছন্দ হতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই, তাচ্ছিল্যের কিছু নেই। ভাল লাগার পর যদি মেয়েটি নিজেকে সংযত করতে পারে তাহলে মন্দের কিছু থাকেনা এখানে।

তাহলে বিষয়টি দাঁড়াল এই যে কোন  মেয়ের যে কোন ছেলেকে ভাল লাগতে পারে এবং একটি ছেলে মেয়েটির ক্রাশ হতে পারে। আর এই ধারনা থেকে প্রয়োজন হয়ে যায় মেয়েদের কিভাবে ছেলেদের পটানো যায় বা ছেলেদের পটানোর উপায় জানা। ছেলেদের পটানো বুদ্ধি একেক মেয়ের একেক রকমের। সব উপায় বা বুদ্ধি সবার ক্ষেত্রে কাজ করে না। তবে সাধারনভাবে মেয়েরা যেসব ছেলে পটানোর tips ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছেলেদের পটিয়েছে সেই উপায় গুলো জানতে নিচের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। সব থেকে শেষের উপায়টি ছেলেদের পটানোর ক্ষেত্রে বেশি কাজ করে বলে আমি মনে করি।

সোসাল মিডিয়াঃ

ছেলেদের পটানো এখন খুব সহজ আর সস্তা হয়ে গেছে এই সোসাল মিডিয়ার জন্য। আসংখ্য মেয়ের মনের ভাব আগে মনের মাঝেই বীলিন হয়ে যেত। সোসাল মিডিয়ার কল্যানে যে কোন মেয়ে তার কাঙ্ক্ষিত ক্রাশের সান্নিধ্যে অনায়াসে চলে যেতে পারে এবং সুযোগ বুঝে ফেসবুকে ছেলেদের পটানোর কৌশল প্রয়োগ করতে পারে। যদি সোসাল মিডিয়াতে ছেলেটি চ্যাট করতে আগ্রহী থাকে তাহলে লেট নাইটে মেসেজ পাঠানোর চেষ্টা করুন। গভীর রাতের মেসেজ ছেলেটিকে একটু আবেগীয় করে তুলতে পারে। তাই ছেলেদের পটানোর জন্য লেট নাইটে তাদের সাথে রোমান্টিক চ্যাটিং করতে পারেন। রাত বেশি হওয়ার কারন জানতে চাইলে আপনার ঘুম আসছে না বলুন। যদি আপনি সঠিক সময়ে সঠিক মেসেজ বা চ্যাটিং করতে পারেন তাহলে আর অন্য কোন ফেসবুকে ছেলে পটানোর কৌশল প্রয়োগ করতে  হবে না, বিলিভ মি।

মার্জিত ব্যক্তিত্ত্বঃ

একজন মার্জিত ব্যক্তিত্ত্বের নারীর সামনে সকল পুরুষ মাথা নোয়াতে বাধ্য। কোন মেয়ে যদি মার্জিত ব্যক্তিত্বের অধিকারি হয় তাহলে ওই মেয়েকে ছেলে পটানোর tips খুঁজতে হবে না। ছেলেরাই মেয়েটির পিছন লেগে যাবে। কারণ মার্জিত স্বভাব প্রতিটি ছেলেকেই আকর্ষন করে। তাই  ছেলে পটানোর উপায় খোঁজার সাথে সাথে নিজের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটান। মানুষের চিরস্থায়ী গুনের মধ্যে একটি হল এই মার্জিত ব্যক্তিত্ত্ব। যেটি থাকলে ছেলেদের পটানোর বুদ্ধি খোঁজা লাগবে না বরং কোনটা রেখে কোনটা ধরবেন এই tips খুঁজতে হবে।

চুল নিয়ে খেলা করাঃ

আমরা সবাই জানি নারীর আসল সৌন্দর্য চুলে। চুল নিয়ে খেলা করেও ছেলেদের পটাতে পারেন। তাছাড়া চুল নিয়ে কত সুন্দর সুন্দর কবিতার লাইন পর্যন্ত লিখেছেন আমাদের কবিরা-

সামনে যেদিন এসে দাঁড়ালে খোঁপা খুলে

সেদিন জেনেছিলাম রুপের অন্য এক মানে।

তাই চুল হতে পারে যে কোন ছেলেক আকৃষ্ট করার অন্যতম উপায়। ফেস শেপের সাথে যায় এমন মানা সই চুলের কাট বা সাইজ সেই সাথে নিয়মিত চুলের যত্ম যে কোন মেয়েকে আরও আবেদনময়ী করে তুলতে পারে। তাই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন অনুষ্ঠানে চুল নিয়ে খেলা করেও আপনি ছেলেদের পটাতে পারবেন খুব অল্প সময়ে।

চারিত্রিক বিশুদ্ধতাঃ

একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার চরিত্র। সৎ চরিত্র কেয়ামতের দিন নাজাত হবে। পবিত্র কুরআনে বলা আছে-চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষের জন্য। আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীর জন্য। সৎ চরিত্রবান নারী সৎ চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর সৎ চরিত্রবান পুরুষ সৎ চরিত্রবান নারীর জন্য। তাই যদি কোন মেয়ের চারিত্রিক বিশুদ্ধতা থাকে এবং এটি ছেলেরা আঁচ করতে পারে তাহলে ছেলেরা খুব সহজে গলে যেতে পারে। যদি কোন মেয়ের চারত্রিক বিশুদ্ধতা না থাকে তাহলে শত শত ছেলে পটানোর উপায় দিয়েও কাজ হবে না।

চোখের জলঃ

মেয়েরা ছলনাময়ী। ছলনার জালে তারা যে কাউকে আটকে ফেলতে পারেন। কোন ছেলেকে কাবু করার জন্য চোখের জল কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে। ছেলেরা চোখের জলে খুব সেন্টিমেন্টাল হয়ে যায়। তাই ছেলেদের পটানোর জন্য চোখের জল ফেলে দেখতে পারেন।

সুন্দর গুছানো কথাঃ

কথা মানুষকে মুগ্ধ করার প্রথম ধাপ। যদি কথার শক্তি না থাকতো তাহলে চেহারা দেখা ছাড়া শুধু কথা বলে কোন মেয়ে কোন ছেলেকে পটাতে পারত না। কোন মেয়ে যদি প্রমিত উচ্চারণে সহজ সাবলীল ভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন তাহলে এই গুনটিই কোন ছেলেকে পটানোর কার্যকরী উপায় হবে। তাই ছেলেদের প্রেমে ফেলতে হলে গুছিয়ে কথা বলার অভ্যাস থাকতে হবে।

সৌন্দর্য দিয়েঃ

Guys love beautiful girls-সুন্দরী নারী দেখলে আড় চোখে একবার হলেও তাকায় না এমন পুরুষের সংখ্যা খুবই কম। আসলে সবাই সুন্দরের পূজারি। সুন্দর কিছু দেখলে কার না ভাল লাগে? সুন্দরী মেয়ে দেখলে কে না মোহিত হয়? যদি ছোট ছোট রুপ চর্চার মাধ্যমে এবং স্মার্ট ও পরিপাটি হয়ে থাকার ফর্মূলা এপ্লাই করেন তাহলে যে কোন মেয়ে সুন্দরী বনে যেতে পারে। আর সুন্দরী নারীরা ছেলেদের পটানো প্রক্রিয়ায় কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকেন কেননা দেখতে সুন্দর এমন মেয়েদের ছেলেরা নিজে গিয়ে ধরা দেয়। তাই নিজের সৌন্দর্য বর্ধন করেও ছেলেদের পটাতে পারেন। এটি ছেলেদের পটানোর সেরা উপায়।

তবে যত যাই বলুন একজন মেয়ে হিসেবে ছেলেদের পটানো জন্য আগ্রহী না হয়ে যদি নিজের দক্ষতা এবং গুন বিকাশে মনোনিবেশ করেন তাহলে দেখবেন আপনার পিছনে ছেলেদের লাইন পড়ে গেছে। তবে এর পরও যদি আপনি সামনে আগাতে চান তাহলে উপরের পয়েন্টস গুলো এপ্লাই করুন, তাহলে ছেলেদের পটানো আপনাদের (মেয়েদের) জন্য সহজ হবে। 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন