ছোটদের পড়ানোর নিয়ম : ছোট বাচ্চাদের পড়াশোনার প্রতি কিভাবে আগ্রহী করে তুলবেন

ছোট বাচ্চাদের প্রতিদিন পড়াশুনা করানোটা অনেক Parent এর কাছে যুদ্ধের মত লাগে। তাই তারা ছোটদের পড়ানোর নিয়ম খোঁজেন। বাচ্চা টিভি দেখা, কার্টুন দেখা-অতি উৎসাহ নিয়ে, আগ্রহ নিয়ে করে কিন্তু পড়াতে বসাতে চাইলে বা লেখার কথা বললেই যেন তার জ্বর চলে আসে। টিভি দেখা, কম্পিউটার চালানো, কার্টুন দেখা, ভিডিও দেখা, ভিডিও গেমস খেলা ইত্যাদি অভ্যাস গুলোর জন্য অনেক সময় বাচ্চাদের বাবা-মায়েরাই বেশি দায়ি। কেননা অধিকাংশ Parents রাই বেড়ে উঠার শুরুতে তাদের খুশি করার জন্য এসব Disturbing Material গুলো হাতে তুলে দেয়, যা বাচ্চাদের পড়াশুনার আগ্রহ নষ্ট করার মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

মূলত Parents দের এমন ভুল সিদ্ধান্ত এবং বাচ্চাদের মনের অবস্থা বা মনস্তত্ত্ব না বুঝে চলার কারণে বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর আগে পেরেন্টস দের কিছু বিষয় মাথায় রেখে সামনে আগাতে হবে তো চলুন আগে জেনে  নেই পেরেন্টস দের যেসব বিষয় মাথায় রাখতে একজন অভিভাবক হিসেবে, পেরেন্টস হিসেবে আপনাকে ধরেই নিতে হবে আপনার বাচ্চাকে অনেক বার বোঝালে তবে সে বুঝবে। কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না, উত্তেজিত হওয়া যাবে না।

বাচ্চাকে পড়ানোর সাথে সাথে মাথায় রাখতে হবে বাচ্চার মনে কি ধরনের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার প্রকাশ হচ্ছে অর্থাৎ বাচ্চার মনস্তত্ব বুঝার চেষ্টা করতে হবে। মাঝে মাঝে তাকে রিলেক্স দিতে হবে।

পড়াশোনা যাতে বাচ্চাদের কাছে চাপ মনে না হয়। দৈনন্দিন জীবনের হাসি, কান্না, ঘুম, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদির মত স্বাভাবিক কর্ম হিসেবে যেন তারা পড়াশোনাকে মনে করে। কখনোই বাচ্চাদের কোন টার্গেট- সেট করে দেওয়া যাবেনা, সামনের পরীক্ষায় 1st হতে হবে, Gpa-5 পেতে হবে ইত্যাদি কিংবা পড়তে না বসানোর জন্য, পরীক্ষায় খারাপ ফলের জন্য বাচ্চাকে মারধর করা যাবে না,- কোন Panishment দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে এই Panishment বাচ্চাদের পড়াশোনার পুরো আগ্রহ নষ্ট করে ফেলে। পেরেন্টস সব সময় বাচ্চাদের মনে এই ধারণা দিতে হবে যে পড়াশোনা সত্যিই এক আনন্দের বিষয়।

তো এবার চলুন জেনে নেই কিভাবে বাচ্চাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবেন এবং বাচ্চাদের পড়ানোর নিয়ম গুলো কি কিঃ-

ছোটদের পড়ানোর নিয়ম ১ঃ বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য আগে নিজে পড়ুন।

Expert দের মতে, কোন ভাল রিডারের একটা বিশেষ ব্যাপার হল তাদের পেরেন্টস রাও ভাল রিডার ছিলেন। একটি শিশু ছোট থেকে যাদের সাথে বড় হচ্ছে তারা যদি পড়ুয়া হয়, কথাবার্তা যদি পড়াশোনা সংক্রান্ত হয়,- তাহলে বাচ্চাও পড়ুয়া  হবে। অন্যদিকে আপনি যদি সারাদিন মোবাইল ফোন, টিভি নিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আপনার বাচ্চাও এসব দ্বারা প্রভাবিত হবে। তাই অন্তত বাচ্চাকে দেখানোর জন্য হলেও- গল্প, উপন্যাস বা আত্ন- উন্নয়ন মূলক কোন বই নিয়ে বসুন- এতে আপনার বাচ্চাও বই পড়ার প্রতি Encourge fell করবে।

ছোটদের পড়ানোর নিয়ম  ২ঃ পড়াশোনার পরিবেশ।

আপনার বাসার পরিবেশ যদি পরিবেশ বান্ধব না হয়, বারো মাস তেরো কার্তিক যদি বাসায় মেহমানের ধুম লেগেই থাকে, নাচ-গান, গল্প-আড্ডা আর হৈ চৈ যদি লেগেই থাকে তাহলে বাচ্চার পড়াশোনা শিকেয় উঠবে। বাচ্চার পড়াশুনার আগ্রহ বহাল রাখতে বাসার পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়।তাই বাচ্চার পড়াশুনা র ক্ষতি হতে পারে এমন মনোরঞ্জন কারী ব্যাপারগুলো এড়িয়ে চলুন।

আপনার বাচ্চা যেখানে পড়বে, যে রুমে পড়বে তাতে- Black Board, Paper, Pencil, Picture Book, Story Book, Art paper, Colour pencil এসব দিন। এগুলো বাচ্চাকে পড়াশুনায় আগ্রহী করে তুলবে।

ছোটদের পড়ানোর নিয়মঃ- ৩ঃ সহজ পড়ার রুটিন তৈরি করা।

ছোটদের পড়ানোর নিয়ম জানার আগে বাচ্চার রুটিন তৈরি করুন। বাচ্চার পড়ার রুটিন তৈরি করার আগে খেয়াল রাখতে হবে যে বাচ্চা কোন Shift পড়ে। Morning Shift হলে এক রকম রুটিন হবে আবার Day shift হলে আরেক রকমের রুটিন হবে। যদি Morning shift হয় তাহলে বাচ্চা স্কুল থেকে আসার সাথে সাথেই হাত-পা ঘুটিয়ে তাকে পড়তে বসানো উচিত না। তাকে ভাল করে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে ১ ঘন্টা বিশ্রাম নিতে দেওয়া উচিত। এরপর হাতের লেখা, হোমওয়ার্ক বা অন্যান্য লেখার কাজ করিয়ে বিকেলে ৪৫মিঃ বাইরে খোলা হাওয়ায় খেলাধুলা করতে দিতে হবে।খেলাধুলা মনোসংযোগ বাড়ায়।

সন্ধ্যায় পড়তে বসানোর সময় শুরুতেই বাচ্চাকে কঠিন সাবজেক্ট আগে দিতে হবে এবং কখনোই এক সবজেক্ট টানা ২৫/৩০ মিনিটের পড়াতে দেওয়া উচিত নয়। তবে মাঝে মাঝে যদি বাচ্চা একে বারেই পড়তে না চায় তাহলে তাকে সুযোগ দিতে হবে তাহলে বাচ্চা পড়াশোনায় আরোও বেশি আগ্রহী হবে।

ছোটদের পড়ানোর নিয়ম-৪ঃ  বাচ্চাকে গিফট দেওয়া

Parents রা ছোটদের কোন খুঁত বা দোষ দেখলে ঘ্যান ঘ্যান করতেই থাকেন। এর বিপরীতে যদি ছোটরা ভাল কিছু করে তাহলে কোন উৎসাহ  তো দেনই না বরং এমন একটা ভাব করে যেন এইতা কোন অর্জনই না। অথচ বাচ্চার পড়াশোনার প্রতিটি ধাপে, শিক্ষা গ্রহনের প্রতিটি পর্যায়ে তার ভাল কাজগুলোর, প্রশংসা করতে হবে, অভিনন্দন জানাতে হবে এবং উপহার হিসেবে ইংরেজী ডিকশনারী, বাংলা ডিকশনারী, ছড়ার বই, গল্পের বই, কবিতার বই, পিকচার বুক, এনসাইক্লোপিডিয়া ইত্যাদি দিতে হবে।

বাসায় পড়ানোর সময় ছোট ছোট প্রশ্ন বানিয়ে বাচ্চার পরীক্ষা নিতে হবে। ভালো ফলাফলের জন্য তাকে- ভালো গল্প শোনানো, রিলাক্স দেওয়া বা কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়াও গিফটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এটি ছোটদের পড়ানোর নিয়ম এর মধ্যে উল্ল্যেখ করার মত একটি নিয়ম।

ছোটদের পড়ানোর নিয়ম ৫ঃ  নিউজ পেপার পড়তে দেওয়া

নিউজ পেপার মানে পত্রিকা পড়লে বাচাদের ভাষাগত ও সাধারন জ্ঞান অনেক বেড়ে যাবে। এতে করে বাচ্চা নতুন নতুন শব্দ শিখতে পারবে যা ক্লাসে টিচারদের কথা বুঝতে, বাচ্চা কথা বলতে এবং পরীক্ষার খাতায় ভালো শব্দ ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে। এছাড়া পত্রিকা পড়ানোর কারণে বাচ্চা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ঘটনা, স্থান ও ব্যাক্তিদের বিষয়ে জানতে পারবে।

সব শেষে একটা ছোট রিকুয়েস্ট করছি- যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে এটি পরিবারের অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। আর এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমি দেখতে চাই বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহী কে হয়, যদি আপনি father মানে বাবা হয়ে থাকেন তাহলে কমেন্ট বক্সে Father লিখুন, আর যদি আপনি Mother মানে মা হন তাহলে কমেন্ট বক্সে Mother  লিখুন। তাহলে আমি বুঝতে পারবো বাচ্চাদের মানুষ করার ব্যাপারে সব চেয়ে বেশি আগ্রহ কার।


Youtube Video Link: ছোট বাচ্চাদের পড়াশোনার প্রতি কিভাবে আগ্রহী করে তুলবেন


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন