কীভাবে তালাক দিতে হয়

বিয়ের মাধ্যমে এক যাত্রার শুরু হয়। তৈরি হয় সুন্দর একটি পারিবারীক বন্ধন। এই বন্ধন তৈরি করে –সংসার। সংসার তৈরি হওয়ার সাথে সাথে বদলাতে থাকে প্রেক্ষাপট। পরিস্থিতি কখনো ভালো কিছু নিয়ে আসে, কখনো মন্দ কিছু নিয়ে আসে পারিবারিক জীবনে। হয়তো সংসারে ততোদিনে চলে আসে ফুটফুটে শিশু সন্তান। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নতুন স্বপ্নের বীজ বুনতে থাকেন।

বদ অভ্যাস, মতের অমিল, মানসিক শারীরিক নির্যাতন, পরকীয়া বা আরো নানাবিধ কারণে সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। তখনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এই দূরত্বের কারণে কখনো কখনো বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়ে যায়। আর তখনি তালাক দেওয়ার নিয়ম জানার প্রয়োজন দেখা দেয়।

হয়ত স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে এক বা একাধিক সুবিধা দিয়ে নিজের সংসার ও সন্তানের দিকে তাকিয়ে সব কিছু ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে বাঁচার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্রমাগত অন্যায় বা দূরত্বের কারণ যদি ক্ষমাযোগ্য না হয় তাহলেই পুরুষ মানুষ তালাক দেয়া বা বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ভাবেন।

সেজন্যে যারা তালাকের পক্ষে একান্ত স্থির পদক্ষেপ নেন তাদের তালাক সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে হয় সেই সাথে ইসলামে তালাকের পদ্ধতি সম্পর্কেও জানাশুনা থাকতে হয়। যদি তালাক দেওয়ার নিয়ম এবং তালাক হওয়ার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকে তাহলে এ বিষয়ক ভুল ত্রুটির পরিমান কমিয়ে সঠিক ভাবে তালাক দেওয়ার পথে আগানো সম্ভব হবে।

যদি দীর্ঘদিন স্বামীর কথার অবাধ্য হয় এবং স্ত্রী নিজ আচরনে অটল থাকে তাহলে স্বামীর প্রথম কর্তব্য হলো খুব বিনয়ের সাথে, আন্তরিকতা, ভালবাসার মাধ্যমে স্ত্রীকে বুঝানো। একবার দুইবার এমনি যদি ভালোভাবে বোঝানোর পরেও একাধিক বার স্ত্রী একই ভুল করে, তাহলে স্বামীকে সামান্য কঠোর হতে হবে।

একাধিক বার বোঝানোর পরে যদি স্ত্রী নিজেকে সংশোধন না করে তাহলে স্বামী স্ত্রীর সাথে এক বিছানায় শোয়া বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ বিছানা আলাদা করে ফেলবে এবং শারীরিক মেলামেশা সাময়িক বন্ধ রাখবে। বিছানা আলাদা করার পরেও যদি স্ত্রী নিজের ভুল বুঝতে না পারে তাহলে আবারো তাকে ভালভাবে বোঝাতে হবে। যদি এর পরেও স্ত্রী নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয় এবং একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে থাকে তাহলে তাকে সামান্য প্রহার করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে– লজ্জাস্থান এবং মুখ মন্ডলে কোন প্রকারের আঘাত বা প্রহার করা যাবে না।

এতটুকু পদক্ষেপ হলো তালাক দেয়ার পূর্ব প্রক্রিয়া এবং এগুলো তালাক দেওয়ার হাদিস এ বলা আছে। এ পর্যায়ে স্ত্রী নিজেকে সংশোধন না করে থাকলে স্বামী বিবাহ বিচ্ছেদ করবেন বা তালাক দিবেন তাহলে ইসলামে তালাক দেওয়ার নিয়ম অনুযায়ি তিনি তালাক দিতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, একসাথে নিতবার তালাক দেয়া যাবে না। তালাকের প্রকারভেদ অনুযায়ি তিন বারে তালাক দিতে হবে। ভুল করে বা না জেনে কেই একে বারে তিন তালাক দিলে স্ত্রী তালাক প্রাপ্ত হবে এবং ঐ স্বামীর জন্য স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একসাথে তিন তালাক দিয়ে ফেললে এই স্ত্রীর সাথে আবার সংসার করতে হলে, তৃতীয় কেউ স্ত্রীকে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু তালাক দেওয়ার নিয়ম হলো প্রথম বারে শুধু এক তালাক বলা।

যদি স্বামী স্ত্রীকে এক তালাক বলে, এর তিন মাস তেরো দিন পর্যন্ত পুনরায় স্ত্রীকে পর্যবেক্ষন করতে হবে। যদি স্ত্রী সংশোধন হয় তাহলে তারা ভুল বোঝাবুঝি দূর করে আবার সুখী জীবন ও সংসারের স্বপ্ন দেখা শুরু করবেন আর যদি এই তিন মাস তের দিনের মধ্যেও স্ত্রী কোন ধরনের নমনীয় মনোভাব দেখা না যায় এবং সে তার চলনে বললে কোন রুপ পরিবর্তন আনয়ন না করে তাহলে স্বামী স্ত্রীকে আবার তালাক দিবেন এবং মুখে উচ্চারন করে বলবেন দুই তালাক বা তালাক। এভাবে ২য় বারেও তিন মাস তেরো দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষন করবেন। বোঝাবেন কিন্তু এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও যদি স্ত্রী সংশোধন না হয় তাহলে স্বামী যদি বিবাহ বিচ্ছেদ চান, তাহলে তিন তালাক দিতে পারবেন। তিন তালাক দেয়ার সাথে সাথে তাদের বৈবাহিক, সাংসারিক বন্ধন শেষ হয়ে যাবে এবং স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের জন্য হারাম হবে। এই প্রক্রিয়া অনুসরন করে তালাক দিলেই ইসলামিক ভাবে তালাক দেয়া হবে এবং এটি তালাক দেওয়ার নিয়ম। 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন