ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম

আমাদের পরম সৌভাগ্য এই যে আমরা মুসলিম। এই সৌভাগ্য ভালোর দিকে যাবে নাকি মন্দের দিকে যাবে সেটি নির্ভর করবে আমাদের আমল-আখলাক এবং ইসলামি আইন-কানুনের মান্যতার উপরে। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের এই পৃথীবিতে নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালনের জন্য পাঠিয়েছেন। কিছু করনীয় এবং বর্জনীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন, নবী ওরাসূল পাঠিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দিয়েছেন। সেই সাথে মানুষকে ইসলামের পথে, আলোর পথে, ভালোর পথে, হেদায়াতের পথে, শান্তির পথে দাওয়াতের কথা বলেছেন। তিনি বলেন- ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে আর বলে অবশ্যই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত-সূরা ফুসসিলাত-আয়াত-৩৩। একজন ধর্মপ্রান মুসলমান হিসেবে, প্রত্যেক মুসলমান ও মুমিন বান্দাদের দায়িত্ব হচ্ছে ইসলামী দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া। সেজন্য ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম, দাওয়াতের পদ্ধতি, দাওয়াতের হাদীস এবং দাওয়াতের ফজিলত বিষয়ে আমাদের জানাশুনা থাকাটা আবশ্যক।


Releted Post: কিভাবে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হয়


তাই কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দিব এই শিরোনামে আজ আমি আপনাদের উদ্দ্যেশে দাওয়াতের বাস্তবিক এবং বৈজ্ঞানিক পয়েন্টস গুলো আলোচনা করতে চলেছি। এক্ষেত্রে পাঠকের জ্ঞাতার্থে একটী কথা প্রণিধানযোগ্য এই যে দাওয়াতের পদ্ধতি নিয়ে লিখা এই পয়েন্টস গুলো ইসলামী কোন বই থেকে অনুলিখন করা হয়নি, লেখকের স্বীয় বোধ এবং অল্পবিস্তর পড়াশুনা ও ঘাটাঘাটির আলোকে রচিত হয়েছে। তাই তথ্যগত কোন অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য পরম প্রভুর কাছে অগ্রীম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।দাওয়াত নিঃসন্দেহে ভালো কাজগুলোর একটি। দাওয়াতের ফজিলতও তাই বেশি। তবে দাওয়াত দেয়ার আগে যে ব্যক্তি দাওয়াত দিতে চাচ্ছেন তিনি দাওয়াতের জন্য যথার্থ ব্যক্তি কিনা সেটি চিন্তা ভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে।

ইসলামে দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম জানার আগে দাওয়াত কারী নিজেকে চুলচেরা বিশ্লেষন করতে হবে। নিজের আমল-আখলাক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা রাখতে হবে এবং প্রতিনিয়ত নিজের ব্যক্তিগত আমলের দিকে মনোযোগি হতে হবে। কেননা কোন ব্যক্তি যদি নিজেই ইসলামী আইন কানুন মানতে না পারেন তাহলে নিতি কিভাবে দাওয়াত দিবেন? তাই যিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে আগ্রহী নিতি নিজে কতটুকুন আলোর পথে রয়েছেন, কতটুকুন ইসলামী নিয়ম কানুন নিজের মধ্যে ধারন করেছেন সেই দিক বিবেচনা করতে হবে।

দাওয়াত কারী ব্যক্তির চলাফেরা, কথাবার্তা, আচার আচরন ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি সজাগ থাকতে হবে। কারন অনেক সময় দেখা যায় যদি ভাল মনমানুসিকতার লোক হয়, বিনয়ী হয় এবং কথা কাজের মিল থাকে তাহলে দাওয়াতের পদ্ধতি প্রয়োগ ছাড়াই মানুষ ইমপ্রেস হয়। কাছে আসতে চায়, কথা বলতে চায়। তাই ব্যক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে একজন দাওয়াত দানকারী যত নিজেকে এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে উন্নত করবেন ততো তিনি মানুষকে ইস্লামের পথে আনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে অসুন্দর ব্যক্তিত্ব, মুদ্রাদোষ, কথাবার্তার ঠিক বা থাকা, নিজেকে গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারা ইত্যাদি ত্রুটি কারনে মানুষ দাওয়াতকারীর দাওয়াত স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করেনা। তাই নিজেকে গ্রহনযোগ্য করে তোলার চেস্টাও থাকতে হবে।

ইসলামী দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা জানার পাশাপাশি ইসলামী পদ্ধতি সম্পর্কে, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। কারণ যাদের আপনি ইসলামের পথে দাওয়াত দিবেন, কথা বলবেন তাদের ইসলামী কথা বিভিন্ন হাদীসের কথাই বলতে হবে। উপন্যাস এবং নাটকের কথা বলে কোন লাভ হবে না। তাই ইসলামী বিষয়গুলো জেনে সেগুলো নিজেদের মধ্যে ধারন করা এবং প্রয়োজনে দাওয়াতে এই জ্ঞানের ব্যবহারই ইসলামী দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম। অনেক সময় কোন ব্যক্তিকে ইস্লামের পথে আহ্বানের পরেও আশানরুপ সাড়া না পেয়ে দাওয়াত দান কারী ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে সে ব্যক্তির উপর ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে উঠেন। কিন্তু এসব কাজ না করে ঐ ব্যক্তির সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার, আন্তরিকতার সাথে কথা বললতে হবে। আসলে আমাদের এটি মনে রাখতে হবে, আমরা যারা দাওয়াত দিতে চাই তারা ইসলাম মেনে, ইসলামী আইন কানুন মেনে যে ভালো আছি এটি যাদের ইসলামের পথে আহ্বান করছি তারা যেন উপলব্ধি করতে পারে।

দাওয়াতের ফজিলত এবং দাওয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- একেবারে কোন ব্যক্তিকে পরিব্ররতন করার চেষ্ট না করে প্রতিদিন ছোট ছোট স্টেপস নেয়ার মাধ্যমে সামনে আগানো। কেননা বিজ্ঞানীরা গবেষনায় দেখেছেন যে কাজটি মানুষ বার বার করে সেটি তাদের অভ্যাসে পরিনত হয়। এ প্রসঙ্গে ইংরেজীতে একটি কথা আছে- Whatever you do repeatedly Eventually becomes a new habit. তাই সবর বা ধৈর্য্য ধারন করে প্রতিদিন অল্পকিছু কথা, অল্প কিছু আমলের মাধ্যমে সামনে আগানো এবং এই অল্প আমলই অভ্যাসে পরিনত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

সর্বোপরি কথা হলো কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে এবং প্রতিদিন অল্প অল্প অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে হেদায়াতের বানী শোনাতে হবে। এগুলোই দাওয়াতের পদ্ধতি।


Releted Post: কিভাবে তালাক দিতে হয়


 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন