কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করা যায়

পবিত্র কোরআনের সূরা রাদের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাড়ালা কোন জাতি তথা নিজেকে পরিবর্তন করার উপায় বলেছেন- নিশ্চয় আল্লাহ কোন জাতির বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করেন না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত। এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় প্রত্যেকেই নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইলে এবং সে অনুযায়ি কর্মপন্থা নির্ধারন করলে তাকে আল্লাহ নিজে সহযোগিতা করেন।

তবে নিজেকে পরিবর্তনের জন্য সময় দিতে হবে, নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে এবং প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই। পরিবর্তন করতে হবে প্রতিটি ছোট ছোট ভুলের এবং সবকিছু ভালবাসা ঢেলে সম্পন্ন করতে হবে, এমনকি এক গ্লাস পানি পানে যদি ভুল থাকে তাহলে এই পানি পানে যত্নশীল হতে হবে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই আমাদের ব্যক্তি জীবনের উন্নতি হবে আর ব্যক্তি জীবনের এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই সমাজের পরিবর্তন হবে।

নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ কাজ নয়। আমরা যাতে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারি সেজন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে এবং আল্লাহকে বলতে হবে- আল্লাহ আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই তুমি আমাকে ভালোর পথে আলোর পথে পরিচালিত করো। এছাড়া সাথে সাথে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যেই পদক্ষেপ গুলো নিজেকে পরিবর্তন করা আরো অনেক সহজ করে দিবে। তাই আপনারা যাতে নিজেকে পরিবর্তন করার উপায় গুলো ধারাবাহিক ভাবে পড়তে পারেন এবং সে অনুযায়ি নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেন সেজন্য আমি এই আর্টিকেলটি লিখেছি। তো চলুন পড়া শুরু করি-

১। সঠিক লক্ষ্য নির্ধারন করুনঃ

সঠিক লক্ষ্য নির্ধারন নিজেকে বদলে ফেলার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম। লক্ষ্য নির্ধারন একটি আর্ট যেটি আপনাকে পথে যাত্রা করার কারন বাতলে দিবে। আমরা প্রতিনিয়ত অনেক লক্ষ্য নির্ধারন করি আবার লক্ষ্য পরিবর্তনও করি। এই করতে করতে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। তাই নিজেকে পরিবর্তন করতে  চাইলে কি করবো জীবনে, কোথায় আমার অবস্থান হবে এবং জীবন থেকে আমি কি চাই- এসবে পরিষ্কার ধারনা রাখতে হবে। তখন লক্ষ্য নির্ধারন করাও সহজ হবে। তবে মনে রাখতে হবে নিজেকে পরিবর্তন করতে এমন ভাবে লক্ষ্য নির্ধারন করুন যাতে সে লক্ষ্য নির্দিস্ট এবং অর্জন যোগ্য হয়। লক্ষ্য আর্জনের সময়কাল যেন নির্ধারিত হয় এবং আপনার লক্ষ্য যেন আকাশ কুসুম কল্পনা না হয় এবং বড় বড় লক্ষ্য গুলো ছোট লক্ষ্যে ভাগ করে ধাপে ধাপে সামনে আগান।

২। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুনঃ

নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই- এই ভাবনা আকস্মিক আপনার মনে আসেনি। কেন এবং কি জন্যে আপনি নিজেকে পরিবর্তনের কথা ভাবছেন? সমস্যা কোথায়? সমস্যা খুঁজে বের করুন। প্রয়োজনে কাগজে আপনার সমস্যার বিষয়টি লিখে ফেলুন এবং এই সমস্যা কেন হয়েছে এবং কোন কোন পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি এটি দূর করে নিজেকে পরিবর্তন করে সামনে আগাবেন সেটিও নির্ধারন করুন।

৩। আজই শুরু করুনঃ

কাল থেকে শুরু করবো, আজ না। এই চিন্তা আপনার মাথায় থাকলে নিজেকে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনাই থাকে না। তাই যা করা দরকার এবং যা আপনি করতে চান সেসব আজ থেকেই শুরু করুন। প্রয়োজন হলে ছোট ছোট পদক্ষেপে আগান। প্রতিদিন লক্ষ্য অনুযায়ি অল্প অল্প করে কাজ শুরু করে দিন এবং ধীরে ধীরে কাজের পরিমান বাড়িয়ে দিন তাহলে নিজেকে পরিবর্তন করা আপনার জন্য সহজ হবে।

৪। নিয়মিত অটোসাজেশন দিনঃ

অটোসাজেন মানে হল নিজেকে, নিজের মনকে ইতিবাচক কথা বলা। এই ইতিবাচক কথা বলার অনেক শক্তি রয়েছে। যদি নিজেকে বার বার বার বার বলতে থাকেন- আমি একজন সফল মানুষ, আমি একজন সফল মানুষ বা আমি নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই সেভাবে নিজেকে পরিবর্তন করবো। তাহলে দেখবেন আপনার মন সাফল্য আর্জনের জন্য যা যা করনীয় তা আপনাকে দিয়ে করাবে। তাই নিজেকে পরিবর্তনের জন্য নিয়মিত আপনার প্রয়োজন অনুযায়ি অটোসাজেশন দিন। অটোসাজেশনের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করার উপায় প্রয়োগ করে নিজেকে পরিবর্তনের জন্য দুটি অটোসাজেশনের উদাহরন দিলাম-

আমি সবাইকে আন্তরিক সম্ভাষন জানাবো, হাসিমুখে কথা বলবো।

ফলে তাদের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়বে।


সকল সম্ভাবনা আমার ভিতরেই রয়েছে।

ব্যর্থতার ছাই থেকে আমি নির্মান করবো সাফল্যের প্রাসাদ।

৫। পরিবর্তনের দৃশ্য ভিজুয়ালাইজ করুনঃ

আমাদের চিন্তার প্রক্রিয়া প্রধানত মনের পর্দায় প্রতিফলিত ছবিগুলোর বিশ্লেষন মাত্র। উপন্যাসিক কূর্ট ভনেগার্ট বলেছেন- আমরা নিজেদের সম্পর্কে যা কল্পনা করি মনে মনে যে ছবি আঁকি আমরা তাই। প্রতিনিয়ত আমরা নিজের সম্পর্কে মনে  ভেতরে যে ইমজ তৈরি ক্রছি, মনে মনে নিজের যে ছবি আঁকছি বাস্তব জীবনেও আমরা তাতেই পরিনত হচ্ছি। তাই আপনি যেই যেই ক্ষেত্রে নিজেকে পরিবর্তন চান সেসব ক্ষেত্রে নিজেকে পরিবর্তিত হলে যেভাবে আচরন করতে কথা বলতে চলাফেরা করতেন কল্পনায় ঠিক সেভাবে আচরন করুন। তাহলে দেখবেন কত দ্রুত আপনি নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন।

৬। স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিনঃ

যে কোন কিছু এবং সব কিছুই আপনি ট্যাকেল দিতে পারবেন যদি আপনি স্বাস্থ্যবান হন। একজন স্বাস্থ্যবান সুখী মানুষে সব সময় ইতিবাচক আচরন করেন এবং সবার জন্য আনন্দের কারন হয়ে থাকেন। সুষম খাবার, রাতে ভাল ঘুম এবং দিনে কর্মঠ থেকে প্রতিটি দিন কাটাতে পারলেই একজন মানুষকে সুস্থ সবল বলা যায়। যদি দীর্ঘ দিন শারীরিক ভাবে আপনি ভাল না থাকেন তাহলে কোন সমস্যা আছে কিনা সেটি নিশ্চিত হল এবং নিজেকে পরিবর্তনের অন্যতম একটি ধাপ হল নিজের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এটি সব সময় মনে রাখুন। 

৭। ভুল থেকে শিখুনঃ

জীবনে ভুল করেন নি এমন কোন মানুষ নেই। যারাই কিছু করতে গেছেন, নিজেকে পরিবর্তনের তাগিদ নিয়ে সামনে এগিয়ে গেছেন তারাই কোন না কোন ভুল করেছেন। তাই কোন ভুল করে ফেললে বা হয়ে গেলে সেটিকে স্বাভাবিক ভাবে নিন এবং এই ভুল কেন হল কিভাবে এই ভুলটি এড়ানো যেত এই শিক্ষা নিন। 

৮। ধৈর্য্য ধারন করুনঃ

এটি নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না। নিজেকে পরিবর্তনের জন্য ধৈর্য্য ধারন কিভাবে ভূমিকা রাখে সেটি জানতেও ধৈর্য্য ধারন করুন। 

আসলে জীবন খুব ক্ষুদ্র। আমরা এই ক্ষুদ্র জীবনের ছোট ছোট ফাঁদ গুলো এড়িয়ে যদি নিজেকে পরিবর্তন করার এই উপায় গুলো মেনে চলতে পারি তাহলে আমাদের জীবন আরো অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই আজই নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করুন- হ্যাঁ, আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই। 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন