কিভাবে মান সম্মত ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়া যায়

ফেসবুক স্ট্যাটাস যদি অসুন্দর হয়, রুচি সম্পন্ন না হয়, তাহলে এই স্ট্যাটাস আপনার ব্যক্তিত্বের উপর চাপ ফেলবে। আপনার পরিচিত সার্কেল যেহেতু সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনার সাথে সংযুক্ত আছে। তাই যেন তেন স্ট্যাটাস, বানী, বাংলা পিকচার, ফেসবুক ভিডিও আপনার আইডি থেকে আপলোড করা ঠিক হবে না।

ফেসবুকসহ বিশ্বে যতগুলো সোশাল মিডিয়া– টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, লিংকডইন, গুগল প্লাস ইত্যাদি রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিতেই স্ট্যাটাস দেয়ার অপশন চালু রয়েছে। তাই সোশাল মিডিয়ার কুফল, সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার এবং সোশাল মিডিয়া কি এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারনা না থাকলে, এই সোশাল মিডিয়াতে দেয়া স্ট্যাটাসও আপনার জন্যে কাল হতে পারে। কারণ বর্তমানে ৫৭ ধারায় ICT মামলার যে আইন চালু আছে সেটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হয়ে স্ট্যাটাস, ভিডিও কিংবা কোন ধর্মীয় এবং উষ্কানিমূলক ভিডিও শেয়ার করে আপনিও বিপদে পড়ে যেতে পারেন। এছাড়া শুধু ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারনে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা এখন হরহামেশাই হচ্ছে। তাই জেনে বুঝে, ফেসবুক, টুইটারে স্ট্যাটাস দিবেন। নেতিবাচক, হতাশার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং উষ্কানিমূলক স্ট্যাটাস না দিয়ে সবসময় পজিটিভ গঠনমূলক কিছু লেখার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনি সমালোচিত না হয়ে আলোচিত হবেন।

Fb Status নিয়ে এসব ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আজ আমি আপনাদের কয়েকটি Status এবং টপিক নিয়ে ধারনা দিব, যে  টপিকে স্ট্যাটাস গুলো দেয়ার কারনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যাক্তিরা, সেলিব্রেটিরা অপমানিত হয়েছেন, সমালোচিত হয়েছেন। চলুন জেনে নেই সেসব টপিক এবং ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলোঃ-

খুব ভালো করেই জানেন বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রান মানুষ। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করে কোন কথা, আলোচনা, মন্তব্য এদেশের মুসলমানেরা পছন্দ করে না। তাই আমি পরকাল বিশ্বাস করি না। পৃথিবীতে আল্লাহ বলে কিছু নেই এসব উদ্ভ্রান্ত কথা বলা, স্ট্যাটাস দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

আলোচনার অন্যতম একটা খোরাক হলো মেয়ে। মেয়েদের বিষয়ে কোন কথা বলার আগে চিন্তা ভাবনা করে কথা বলাটা বেটার। কেননা এই দেশে ব্যাক্তি স্বাধীনতা দেয়া হয়। কোন লিংঙ ভেদাবেদ নাই। তাই মেয়েরাই তাদের পোশাকের কারনে ধর্ষনের শিকার হোয়ে থাকে, সব সমস্যার জন্য মেয়েরাই দায়ী এসব স্ট্যাটাস থেকে বিরত থাকুন এবং মাথায় রাখুন দেশের প্রধান মন্ত্রী হচ্ছে মেয়ে।

মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের প্রধানমন্ত্রী। যেহেতু দেশ পরিচালনার মত একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি করে ছলেচেন দীর্ঘদিন ধরে, তাই কিছু কাজ ভাল হবে কিছু মন্দ হবে, একটা কাজের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে যাচ্ছেতাই স্ট্যাটাস দেয়া ঠিক হবে না।তাই শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেয়া উদ্ভ্রান্ত যে কোন স্ট্যাটাস দেয়া থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে সুন্দর সমালোচনা করুন এবং পরামর্শ দিন।

পাকিস্তানের পক্ষে কোন কথা বলা।

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কোন কটূক্তি করা।

সরকারে থাকা কোন মন্ত্রীকে নিয়ে মান হানী কর কিছু বলা।

প্রিয় সুহৃদ, যদি উপরের দেয়া টপিক এবং স্ট্যাটাসগুলো আপনি মনে রাখতে পারেন, তাহলে আপনি স্ট্যাটাস দেয়ার সময় বুঝতে পারবেন স্ট্যাটাস দেয়ার করনীয় বর্জনীয় সম্পর্কে। যদি এই আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে সবার সাথে এটি শেয়ার করুন।  

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন