কিভাবে বন্ধু নির্বাচন করবেন

প্রেম এবং বন্ধু- এই দুটো শব্দ আমাদের সমাজে অত্যাচারিত ও নিগৃহীত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। একজনের সাথে কথা হলেই কিন্তু সে বন্ধু নয়। বন্ধু সে-ই, যে আপনার জন্যে জান দিতে পারে। যদি এখনকার বন্ধুত্বের বাস্তবতা দেখতে চান তো জান দেয়ার প্রশ্ন উঠলে তথাকথিত এই বন্ধু হয়তো আপনাকেই গুলির সামনে দাঁড় করাবে। তাই বন্ধুদের নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার আগে বন্ধুদের নিয়ে কিছু কথা আপনার জানা থাকতে হবে।

প্রিয় বন্ধু নিয়ে কিছু কথা কার না থাকে? কিন্তু যে-কাউকে বন্ধু মনে করাটা একটা অবিদ্যা। বন্ধু সেই হতে পারে যার সাথে আপনার চিন্তা, চেতনা, আদর্শের মিল আছে। কিশোর বয়সে স্কুলের বা মহল্লার সহপাঠিকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। এ ধরনের বন্ধুদের সাথে মেশারও কোনো প্রয়োজন নেই। এমন বন্ধুদের নিয়ে কিছু কথা বলার এবং ভাবারো দরকার নেই। কারণ বন্ধুত্ব সবসময় চেতনা ও আদর্শের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সৎসঙ্গ আপনার বন্ধু। বয়স যাই হোক, আপনার বন্ধুত্ব হবে সৎসঙ্ঘে।

আসলে বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক, যার ভিত্তি হলো চেতনা। চেতনার বাইরে যে বন্ধুত্ব, তা প্রয়োজনের। সত্যিকারের বন্ধুত্ব হয় যখন দুজন একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। চেতনার বাইরে বাস্তবে যাদের বন্ধু বলি-এরা বন্ধু নয়, পরিচিতজন। চেতনার মিল হলে আমরণ বন্ধুত্ব হয়। মৃত্যুর পরেও এ বন্ধুত্ব চলমান থাকবে। এ বন্ধুত্ব এমন যে আপনি আগে বন্ধুর প্রয়োজন দেখবেন, তারপর নিজের প্রয়োজন দেখবেন। একজন বন্ধু আসলে জীবনযুদ্ধে সত্যিকারের সহযোদ্ধা, যে বন্ধুর জীবন রক্ষায় নিজের জীবন বিপন্ন করতে পারে। একজন বন্ধু বা সহ যোদ্ধা বন্ধুর জন্যে কতটা করতে পারে ইতিহাসে তার অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। বন্ধুর প্রতি ভালবাসা কেমন হতে পারে সেটি জানতে পারবেন নিচের ঘটনাটি পড়ে।


Related Post: কিভাবে দম সাধনা করবেন


প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ম্যাজিনো লাইনে এক প্লাটুন জার্মান সৈন্য হঠাৎ করেই ফরাসি এমবুশের শিকার হলো। একেবারে ঘেরাও হয়ে গেল তারা। প্লাটুনবসহ কমান্ডার পশ্চাতপসরণের সিদ্ধান্ত নিল। দুইজন জার্মান  সৈনিক ক্রমাগত গুলি করে পুরো দলকে পশ্চাদপসরণের পথ করে দিল। দুই জন ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে গেল। কমান্ডার নিরাপদ স্থানে পৌছে বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে দুই সৈনিককে বলল, আমরা এখন গুলি করে কভার দিচ্ছি, তোমারা ক্রলিং করে পেছাতে থাক। দুই সৈনিক বন্ধু ইরিখ এবং হেরমান পিছু হটতে লাগল। একটু আড়াল পেতেই দুজন ভোঁ দৌড়।

হেরমান দলের কাছে পৌছার পর খেয়াল হলো, ইরিখ তার সাথে আসেনি। ডাক্তার ব্যান্ডেজ করে দেয়ার পর আহত হেরমান কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর কমান্ডারকে বলল, স্যার, আমি ইরিখকে আনতে যেতে চাই। কমান্ডার বললেন, কোন লাভ নেই। ইরিখ বেঁচে থাকলে নিজেই চলে আসত। শুধু তুমি নিজের জীবন বিপন্ন করবে। হেরমান বলল, তবুও আমি যাব। হেরমান পরিখা পার হয়ে ফ্রন্ট লাইনের কাছাকাছি পৌছে দেখতে পেল ঘুরুতর আহত ইরিখ উপড় হয়ে পড়ে আছে। পুরো শরীর রক্তে ভিজে গেছে। হেরমান তাকে কোলে করে এনে পরম যত্নে পরিখায় শুইয়ে দিল। কমান্ডার অচেতন ইরিখকে পরীক্ষা করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, বলেছিলাম কোন লাভ হবে না। সে মারা গেছে। আর তোমার গায়ে আবারো গুলি লেগেছে। হেরমান বলল, আমার ক্ষতটা সার্থক হয়েছে স্যার। কমান্ডার বললেন, কিভাবে? তোমার বন্ধু তো মারা গেছে! হেরমান তখন বলল, স্যার আমি যখন বন্ধুর কাছে পৌছলাম, তখনো সে বেঁচে ছিল। আলতো করে হাতটা তুলে একটু হেসে বলল, বন্ধু! আমি জানতাম তুমি আসবে। তার ওই হাসি আর কথা সারাজীবনের স্মৃতি হয় থাকবে আমার। বন্ধুত্ব ও ভালবাসার এর থেকে বড় উদাহরন আর কিছুই হতে পারে না। 

বন্ধুত্বের বন্ধন কত মজবুত হতে পারে সেটা এই ঘটনা থেকে আঁচ করা যায়। বন্ধুত্ব আসলে সেটাই, যেখানে বন্ধুর প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের চেয়েও বড় মনে করা যায়। বন্ধুর জন্যে যে-কোন ত্যাগ স্বীকার করা যায়। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন চেতনা ও লক্ষ্য অভিন্ন হয়।


Related Post: কিভাবে ছাত্র জীবনে প্রেম থেকে দূরে থাকবেন


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন