মাথাব্যাথা হলে করণীয় কি

 

মাথাব্যাথার যন্ত্রণায় ভোগেন নি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। মাথাব্যাথা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সারাদিন মাথাব্যাথা নিয়ে কাজ করা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। সাধারণত কাজের শেষে বা দিনের শেষে টেনশনে মাথাব্যাথা হয়ে থাকে। কোন কাজ ঠিকভাবে করতে না পারা সাধারণত দিনের শেষে আমাদের টেনশনে পেলে দেয়।আমরা অনেকেই জানি না মাথাব্যাথা হলে করণীয় কি, বা মাথাব্যাথা হলে কি করব, মাথাব্যাথার কারণ।  মাথাব্যাথা হলে কোন কাজেই মনযোগ দিয়ে করা যায় না। আবার, আমরা যখন অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকি তখন সেটা মাথাব্যাথার কারণ হতে পারে।

মাথাব্যাথার কারণঃ

মাথাব্যাথার প্রধান কারণ হচ্ছে টেনশন। মূলত টেনশনকে ঘিরেই মাথাব্যাথা শুরু হয়। টেনশনের কারণে মাথাব্যাথা হলে সহজে ছেড়ে দেয় না। আমাদের টেনশন যত বাড়বে, মাথাব্যাথাও ধীরে ধীরে তত বাড়তে থাকবে। আমরা অনেকেই জানি না যে মাথাব্যাথার কারণে মাইগ্রেনের সমস্যা হয়ে থাকে। মাথাব্যাথা এক এক সময় এক এক রকম হয়ে থাকে। কখনো মাথাব্যাথা একপাশে হয়, আবার কখনো দুইপাশে হয়ে থাকে। যে ব্যাথা এক পাশে হয় তা হচ্ছে মাইগ্রেনের ব্যাথা, আর যে ব্যাথা দুপাশে বা পুরো মাথা জুড়ে হয় সেটা হচ্ছে টেনশনের কারণের ব্যাথা। টেনশনের কারণে মাথাব্যাথা হওয়ার কিছু কারণ আছে। যেমনঃ ঘুম কম হওয়া, খাবার কোন কারণে না খেলে, অতিরিক্ত ঘুমের ঔষুধ খেল।

অনেকেই মাথাব্যাথাকে সহজভাবে গ্রহণ করে নেয়। তাদের কাছে মনে হয় মাথাব্যাথা যন্ত্রণা এমনিতেই সেরে যাবে। কিন্তু সব শেষে যখন অনুভব করে মাথাব্যাথার যন্ত্রণা তখনি বুঝতে পারে যে মাথাব্যাথাকে সহজভাবে মেনে নিলে চলবে না। আবার, অনেকেই মাথাব্যাথা হলে খুব সিরিয়াস হয়ে যায়। তখন তারা মাথাব্যাথা নিয়ে বসে না থেকে মাথাব্যাথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা অনেকেই জানি না মাথাব্যাথা হলে করণীয় কি আবার, অনেকেই ডাক্তারের নির্দেশে Pain Killer খেয়ে থাকেন। তবে Pain Killer সাধারণত মাথাব্যাথার যন্ত্রণার জন্য খাওয়া হয়। তাই আপনি বাহিরে না গিয়ে ঘরে বসেই বা ঘরোয়া উপায়ে কিছু টিপস ফলো করলে মাথাব্যাথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

চলুন জেনে নেই মাথাব্যাথা হলে করণীয় কি এবং কোন কোন পন্থা অবলম্বন করবোঃ 

আদাঃ আদা একটী কার্যকর উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আদার ব্যবহার বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায়। আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা মাথাব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও আদা দিয়ে চা করে খেলে মাথাব্যাথায় আরাম পাওয়া যায়।

পানিঃ পানি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপাকারী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানি পান করলে মাথআব্যাথার যন্ত্রণা আর হবে না। সকালে পানি পান করলে আমাদের পুরো শরীর অনেক ঠান্ডা থাকে। যার ফলে আমরা মাথা ঠান্ডা রেখেই যেকোন কাজ করতে পারি।

ম্যাসেজ করুনঃ মাথার দুপাশে বা পুরো মাথার যেখানেই ব্যাথা অনুভূত হবে সেখানেই ম্যাসেজ করুন। রগের দুই পাশ ভালোভাবে ম্যেসেজ করুন। এর জন্য বুড়ো আঙ্গুল আর তর্জনী ব্যবহার করতে পারেন।

অন্ধকারে থাকার ব্যবস্থা করুনঃ মাথা ব্যাথা হলে কম আলোয় থাকুন। কারণ চোখে যখন আলো পড়ে, তখন সেটা স্বাভাবিক মাথায় এফেক্ট আনে। একটানা আলোর সামনে বসে থাকলে মাথায় তো সমস্যা হবেই সাথে সাথে চোখের ও সমস্যা হতে পারে। এছাড়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। মাথাব্যাথার যন্ত্রণা কমাতে নিজেকে কিছুক্ষণ Relax দিন। সম্ভব হলে ১ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিন, দেখবেন মাথাব্যাথা পুরোপুরি সেরে গেছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আপনার মাথাব্যাথা কমাতে সাহায্য করবে।

বরফের ব্যাগ বা আইসব্যাগ ব্যবহার করুনঃ মাথাকে ঠান্ডা রাখতে বরফ দেওয়ার বিকল্প নেই। বাজারে বিভিন্ন ধরনের বরফের ব্যাগ পাওয়া যায়। একটি আইব্যাগে বা বরফের ব্যাগে কয়েক টুকরো বরফ নিয়ে মাথার উপর দিয়ে রাখুন, তাহলে অনেক প্রশান্তি অনুভব করবেন। অনেকের আবার অতিরিক্ত গরমের কারণেও মাথাব্যাথা হয়ে থাকে। যারা একেবারে গরম সহ্য করতে পারেন না তাদের জন্য বরফ দেওয়া প্রয়োজন। বরফের ব্যাগে বরফ নিয়ে মাথার তালুতে ধরে রাখলে মাথাব্যাথার উপশম হবে।

পুদিনা পাতার রসঃ পুদিনা পাতার উপকারিতা অনেক। পুদিনা পাতায় রয়েছে ম্যানথল, ম্যানথন। একমুঠো পুদিনা পাতার রস বের করে কপালে মেখে দিলে মাথাব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। অথবা, পুদিনা পাতার চা করে খেতে পারেন। চা এর সাথে পুদিনা পাতা দিয়ে দিলেই পুদিনা পাতার চা হয়ে যাবে।

লবঙ্গ খাওয়াঃ লবঙ্গের ঘ্রাণ নিতে পারলে মাথাব্যাথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। চাইলে চা এর সাথে লবঙ্গ দিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও লবঙ্গ গরম করে কাপড়ের বা রুমালের মধ্যে নিয়ে এর ঘ্রাণ নিতে হবে। তাহলে কিছুক্ষণ আরামবোধ করবেন।

প্রাথমিকভাবে মাথাব্যাথা হলে করণীয় কি এর জন্য সাধারণত Pain Killer অনেকেই খেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত মাথাব্যাথা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে, আমি মনে করি আপনি ঘরে বসেই মাথাব্যাথা হলে করণীয় কি এর সমাধান করতে পারবেন। তাই আমাদের মাথাব্যাথা থেকে মুক্ত থাকতে হলে টেনশন ফ্রি থাকতে এবং হাশিখুশি জীবন-যাপন করতে হবে।  

 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন