মাল্টা গাছ লাগানোর পদ্ধতি

মাল্টা সাইট্রাস পরিবারভুক্ত একটি বিদেশি ফল। যেটি কমলা আর বাতাবি লেবুর সংকরায়নের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। যার ইংরেজি নাম হচ্ছে Sweet Orange. পুষ্টি গুনাগুন এবং প্রচুর চাহিদা থাকায় যে কেউ বুঝেশুনে নিয়ম আনুযায়ী মাল্টা চাষ করে বানিজ্যিকভাবে বিক্রির মাধ্যমে আয় করে মাল্টা চাষে সাফল্য পারেন। তাই আয় করার উদ্দেশ্যে মাল্টা গাছের চারা লাগানো হোক কিংবা পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্যে আমরা প্রত্যেকেই এক বা একাধিক মাল্টা গাছের চারা বা কলম লাগাতে পারি।

যখন আমরা কোন কিছু করবই সেটা ঘরের কাজ বা বৃক্ষরোপনই হোক- তা যেন সঠিক প্রক্রিয়া, নিয়ম জেনে এবং নিয়ম মেনে করা হয় সে দিকে খেয়াল আমাদের রাখতে হবে। এসব দিক বিবেচনা করে আজ আমি মাল্টা গাছের চারা লাগানোর পুরো প্রক্রিয়াটি আলোচনা করতে চলেছি।

মাল্টা যেহেতু কমলা  এবং বাতাবি লেবুর সংকয়ানে তৈরি তাই এর বিভিন্ন ধরনের জাত রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মাটির গুনাগুনের উপর ভিত্তি করে মাল্টার চারা, কলম বা জাত নির্বাচন করতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউট ২০০৩ সালে গবেষনার মাধ্যমে বারি মাল্টা-১ নামে মাল্টার একটি উন্নত জাত আবিষ্কার করেছেন। যদি নিয়ম মেনে ভালোভাবে মাল্টা গাছের পরিচর্যা করা হয় তাহলে প্রতিটি মাল্টা গাছে ৩০০-৪০০ টি ফল ধরে থাকে।

মাল্টা গাছের চারা রোপনের উপযুক্ত সময় মে-আগস্ট মাসের মধ্যে। চারা লাগানোর জন্য সারাদিন রোদ পড়ে, বৃষ্টির পানি জমে থাকে না, পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং মাটির উর্বরতা ভাল আছে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে।

চারা রোপনের জন্য গর্ত করার সময় গর্তের গভীরতা ৭৫ সেমি, দৈর্ঘ্য ৭৫ সেমি এবং প্রস্থ ৭৫ সেমি হতে হবে। গর্ত করার সময় গর্তের ১ম ৬ইঞ্ছি মাটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এতে সারের মিশ্রন দিয়ে মাল্টা গাছের মাটি তৈরি করতে হবে।

যে জায়গায় মাল্টার চারাটি রোপন করা হবে সেখানকার মাটির এসিডিটি বা অম্লীয় অবস্থা বুঝে চুন প্রয়োগের প্রয়োজন থাকলে  চুন দিতে হবে। সাধারনত ৫০০ গ্রাম পরিমান চুন প্রয়োগ করলে হয়ে যায় তবে উক্ত জমির PH পরিমান কম নাকি বেশি সেটি আগে জেনে নিতে হবে। এর জন্য মাটি পরীক্ষা করে চুনের পরিমান বা মাত্রা নির্ধারন করতে হবে।

মাটিতে সার প্রয়োগ করার আগে মাটির আগাছা সরিয়ে ফেলা ভাল। যদি মাটিগুলো চাকা চাকা হয় বা বড় টুকরো হয় তাহলে সেগুলো নিড়ানী দিয়ে ভেঙ্গে ছোট ছোট করে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গর্ত করার সময় আলাদা করা ১ম ৬ইঞ্ছি মাটিতে সার মিশাতে হবে। এই মাটি গুলোর সাথে ১৫ কেজি পচা গোবর বা জৈব সার, ৪/৫ কেজি ছাই, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি, বোরিক এসিড ৫ গ্রাম মিশাতে হবে।

মাল্টা গাছের মাটি তৈরি হয়ে গেলে সার মিশ্রিত এই মাটি গুলো দিয়ে গর্তটি ভরে ফেলতে হবে। সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে গর্ত ভরার ১৫ দিন পর দেখতে হবে মাটি জমে ডেবে গেসে কিনা, যদি ডেবে যায় তাহলে পাশের অন্য জায়গা থেকে ৬ ইঞ্ছি মাটি দিয়ে ডেবে যাওয়া অংশ পূরণ করে দিতে হবে। ১৫ দিন পর মাল্টার চারার থেকে পলথিন বা ব্যাগ খুলে চারাটি রোপন করতে হবে। ব্যাগ কাটার পর যদি গাছের শিকড় বেরিয়ে থাকে সেগুলো কেটে দিতে হবে।

গাছ লাগানোর পর নিয়মিত গাছের যত্ন নিতে হবে, মাল্টা গাছের ফুল আসার সময় ভাল খেয়াল রাখতে হবে, মাল্টা গাছের রোগ ও তার প্রতিকার করতে হবে, পানি দিতে হবে এবং মাল্টা গাছের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে হবে। ফল ধরার আগ পর্যন্ত গাছের ঢাল ছেঁটে গাছকে নির্দিষ্ট আকার দিতে হবে যাতে গাছ উঁচু না হয়ে চারদিকে জড়িয়ে পড়ে।

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন