সজনে পাতার উপকারিতা- নুসরাত জাহান

সজনে একটি অতি পরিচিত ও সুস্বাদু সবজি। সজনে সবজি থেকে থেকে সজনে পাতার উপকারিতা অনেক বেশি। সজনে ও সজনে পাতা ৩০০ রকমের ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সজনের শুদ্ধ নাম ‘সাজনা’। তবে বাংলাদেশে সজনে ‘সজিনা’ নামে বেশি পরিচিত। আমরা অনেকেই সজনে পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানি। আবার অনেকেরই সজনে পাতার উপকারিতা সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।

সজনে পাতা এর মধ্যে রয়েছে- ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিন এসিড, চর্বি জাতীয় পদার্থ ও কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। সাধারণত, সজনে গাছের উচ্চতা ২৩ ফুট থেকে ৩৩ ফুট হয়ে থাকে। বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সজনে পাতা পুষ্টিমানসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। সজনের বাকল, শিকড়, ফুল, ফল, পাতা, বীজ ইত্যাদি এগুলোতেও অনেক ঔষধি গুনাগুন রয়েছে।


Related Post: মাল্টা গাছ লাগানোর পদ্ধতি


সজনে পাতা আমরা নানাভাবে ব্যবহার করে থাকি। অনেক রোগের প্রতিষেধক সজনে পাতা। তবে সজনে পাতার রসে সজনে পাতার উপকারিতা অনেক বেশি পাওয়া যায়। সজনে পাতা দিয়ে আমরা সজনে পাতার ভর্তা, শাক, পাকোড়া, বড়া এছাড়াও সজনে সবজি দিয়ে ঝোল তরকারি ইত্যাদি খেয়ে থাকি। সজনে পাতার উপকারিতা র পাশাপাশি সজনের ডাঁটারও উপকারিতা অনেক। আমরা আরো বিভিন্নভাবে সজনে পাতার উপকারিতা পেয়ে থাকি। যেমনঃ সজনে পাতার রুপচর্চা, সজনে পাতার পাউডার ইত্যাদি। সজনে পাতার পাউডার করে আমরা সজনে পাতার চা খেয়ে থাকি।

তাহলে চলুন বিস্তারিত ভাবে  জেনে নেই সজনে পাতার উপকারিতা কি ঃ

১। শরীর ব্যথ্যায়ঃ অনেক সময় আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বা বিভিন্ন স্থানে ব্যথ্যার শুরু হয়। তখন এই ব্যথ্যার জায়গায় সজনের ছাল বেটে তাতে প্রলেপ দিয়ে দিতে পারি। এছাড়াও ফুলে যাওয়া জায়গায়ও সজনের বাটা ছাল দিলে ব্যথ্যার উপশম হয়।

২। মাথাব্যথ্যায়ঃ আমাদের বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথ্যা হয়ে থাকে। আমাদের শরীরের অন্য কোন রোগের প্রভাবেও মাথাব্যথ্যা হয়ে থাকে। কম-বেশি সবাই এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকি। সজনে গাছের আঠা দুধের সাথে খেলে বা কপালে মালিশ করলে মাথ্যা ব্যথ্যা সেরে যায়।

৩। বাত রোগেঃ সজনে গাছের প্রতেকটা বাকল, শিকল, ফুল অনেক উপকারি। সজনে বিচির তেল বাত রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৪। বসন্ত রোগেঃ আমরা অনেকেই বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি। যেমনঃ জল, গুটি, ইত্যাদি। জল এবং গুঁটি থেকে মুক্তি পেতে হলে সজনে ডাঁটা এবং ফুল ভেজে খেলে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে না।

৫। গ্যাস থেকে রক্ষায়ঃ  ছোট-বড় সবারই গ্যাস হয়ে থাকে। সজনে পাতার রস বের করে এতে লবণ মিক্স করে খেলে গ্যাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিটি ছোটদের জন্য বেশি কার্যকর।

৬। জ্বর ও সর্দিঃ সহজে জ্বর ও সর্দি কমাতে হলে বৈজ্ঞানিক ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে সজনে পাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। আমরা সজনে পাতার শাক খেয়ে থাকি। আর এই সজনে পাতার শাকেই আমাদের জ্বর ও সর্দির হাত থেকে রক্ষা করবে।

৭। মুখে রুচি বাড়ায়ঃ মুখে রুচি বাড়ার ক্ষেত্রে সজনে পাতার উপকারিতা-র বিকল্প নেই। আমরা সজনে পাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে থাকি। তেমনি একটি হচ্ছে সজনে পাতার শাক। তাই আমাদের মুখে রুচি বাড়াতে হলে সজনে পাতার শাক খেতে হবে।

৮। রক্তচাপ কমাতেঃ সজনে পাতার পাকা রস নিয়ে দু’বেলা খাবারের আগে খেলে উচ্চ রক্তচাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৯। গেঁটে বাতেঃ সজনের ফল নিয়মিত রান্না করে খেলে  গেঁটে বাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১০। মাথার খুসকি কমাতেঃ সজনে পাতার রসে আমরা প্রচুর সজনে পাতার উপকারিতা পেয়ে থাকি। সজনে পাতার রস মাথায় দিলে খুসকি থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়।

১১। পেটের সমস্যায়ঃ অনেকেরই পেটে হজমের সমস্যা হয়ে থাকে। পেটে গ্যাস, বদহজম এবং পেটে ব্যথ্যা হলে সজনের তরকারী ও তরকারীর ঝোল খেলে পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 সজনে পাতার উপকারিতা অবর্ণনীয়।  পাতার উপকারিতা মানুষকে অনেক বড় বড় ব্যাধি থেকে রক্ষা  করায়  সজনে  পাতা মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই, আমরা চেষ্টা করব আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় সজনে পাতা রাখতে।


Related Post: কিভাবে কোয়েল পাখি পালন করবেন


 

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন