কিভাবে প্রকৃত সুখের সন্ধান পাবেন

আমরা যেখানে সুখ খুঁজি সুখ কিন্তু সেখানে নেই। তাহলে সুখ আসলে কোথায়? আসল সুখের সন্ধান রয়েছে quantummethod.org.bd ওয়েব সাইটে প্রকাশিত- আমরা ভুল জায়গায় সুখ খুঁজি এই আর্টিকেলটিতে। যদি আপনি এই বিষয়ে ডিটেইলসে জানতে জানতে চান তাহলে উপরে দেয়া লিঙ্কে গিয়ে আর্টিকেলটি পড়ে আসুন। আর আর্টিকেলটির সামারি পড়তে চাইলে এই লেখাটি পড়তে থাকুন।

মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকে তাঁর জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা করেছে। জীবন কী, জীবন থেকে তাঁর কী চাওয়ার আছে এবং কেন সে বেঁচে থাকবে?একজন সাধারন মানুষ আসলে কি চায়? সে সুস্থ থাকতে চায়, সুখী হতে চায়, প্রাচুর্যবান হতে চায়, সাফল্য চায়। কিন্তু পায় না। পায় না কেন? পায় না কিন্তু খুব ছোট্ট একটি কারনে। সেটা হচ্ছে- সুখ, প্রাচুর্য এবং সাফল্যের সংজ্ঞা নির্নয়ে সে ভুল করে ফেলে। আরো পরিষ্কার করে বললে সুখের সংজ্ঞাটা কি হবে, কোথায় সুখ খুঁজতে হবে, কোথায় সাফল্য খুঁজতে হবে, কোথায় প্রাচুর্য খুঁজতে হবে এবং কিভাবে এগুলো পাওয়া যাবে- এই জায়গায় মানুষ ভুল করে ফেলে।


Related Post: কিভাবে সুখী হওয়া যায়


এই ভুলের কারনে তাকে বলতে হয়- যা চাই ভুল করে চাই, যা পাই তা চাই না। আর এটাই হচ্ছে সাধারন মানুষের জীবন। কারন সাধারন মানুষ সবসময় ভুল করে চায় এবং যা সে পায় কিছু সময় পরে বুঝতে পারে যে, এটা সে চায় নি, এটা তাঁর চাওয়ার মধ্যে পড়ছে না।

এ প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দীন হোজ্জার চমৎকার একটি গল্প আছে- একবার হোজ্জাকে দেখা গেল রাস্তার পাশে বাতির নিচে ঘাসের ওপর কী যেন খুঁজছে! সে সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল হোজ্জার এক পরিচিত জন। হোজ্জাকে কিছু একটা খোঁজাখুঁজি করতে দেখে সেও লেগে গেল খোঁজায়। কিছুক্ষণ পর এল আরেকজন, তারপর আরেকজন। এভাবে এক সময় খোঁজাখুঁজির এই চেষ্টায় জুটে গেল রীতিমতো একটা দল! কিন্তু অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও যখন কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা তখন একজন প্রশ্ন করে বসল, আচ্ছা হোজ্জা! আমরা কী খুঁজছি বল তো?

হোজ্জা বলল, একটা সোনার মোহর।

“সোনার মোহর!” একসাথে বলে উঠল উপস্থিত সবাই। দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে আবার খুঁজতে লাগল সবাই। কিন্তু তারপরও যখন পাওয়া যাচ্ছে না, একজনের মনে প্রশ্ন জাগল- আচ্ছা, সোনার মোহর তো কোন ছোট জিনিস না, এত খোঁজাখুঁজি করেও কেন এটা পাওয়া যাবেনা! সে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা হোজ্জা, বলোতো, মোহরটা তুমি ঠিক কোথায় হারিয়েছ?

হোজ্জা বলল, ইয়েমানে, মোহরটা হারিয়েছি ঐ দূরে, পাহাড়ের নিচে অন্ধকারে, যখন আমি সে পথ দিয়ে আসছিলাম।

মোহর হারিয়েছো ঐ পাহাড়ের নিচে! আর তুমি খুঁজছো এখানে!

কী করব বল- হোজ্জা বলল, ওখানে যে ঘুটঘুটে অন্ধকার! এতো অন্ধকারে কি কখনো কিছু খুঁজে পাওয়া যায়! কিন্তু দেখ, এখানে কত আলো। সেজন্যেই এখানে খুঁজছি।

এই গল্পের মত আমরাও সুখ খুঁজি ভুল জায়গায়। আমরা সুখ খুঁজি চাকচিক্যের মধ্যে, ফেসবুক প্রোফাইলের মধ্যে, বিলাসী পন্যের মধ্যে। নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইল ঝকঝকে করার জন্য যতটুকু সময় আমরা ব্যয় করি ততোটুকুন সময় আমরা নিজের শরীর আর স্বাস্থ্যের জন্য ব্যয় করি না।

যত ফুটানি করতে পারি, যত অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারি, যত অপচয় করতে পারি, তত আমরা মনে করি আমাদের স্ট্যাটাস বাড়ল।

কখনও মালা শাড়ীতে, কখনো কালা শাড়ীতে, কখনো ধলা শাড়ীতে আবার কখনো আমদানি করা শাড়ীতে, কখনোবা জামদানি শাড়ীতে আমরা সুখ খুঁজি। কখনো আফটার শেভ লোশন কালেকশনে, কখনো বিভিন্ন ব্রেন্ডের সেন্টের কম্বিনেশনে আমরা সুখ খুঁজি। অথচ আমরা এটাই বুঝিনা যে শরীর থেকে সুগন্ধি বের হলেও আমাদের মনে কোন সুগন্ধি থাকে না।

আমরা ধরতেই পারি না যে, মহামূল্যবান সুখ আসলে আমাদের মধ্যেই বিরাজমান। তাই সুখী হতে হলে- আমাদের যাত্রাটা শুরু করতে হবে ভেতরের দিক থেকে, সুখের অনুরনন তৈরি করতে হবে আমাদের মনে। কিন্তু আমরা বরাবরই এর উল্টোটা করি, আমরা সুখ খুঁজি বাইরে, যে কারনে আমরা সুখী হতে পারি না।

তাই বাইরের চাকচিক্যের মধ্যে সুখ না খুঁজে ভেতরের দিক দিয়ে মানে মনের দিক থেকে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুন। কেননা সুখের আসল ঠিকানাই হচ্ছে মন।

নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন