সারা জীবন সুস্থ থাকার উপায় I শরীর সুস্থ রাখার মন্ত্র

সুস্থতা স্বাভাবিক, অসুস্থতা অস্বাভাবিক। যদিও অনেকে মনে করেন সারা জীবন সুস্থ থাকা এবং সুস্থ থাকার উপায় মেনে চলা বেশ কঠিন কাজ। এই কথাটি মোটেও সত্যি নয়। জীবন যাপন পদ্ধতি পরির্বরতনের মাধ্যমে, আমরা প্রত্যেকেই সুস্বাস্থের অধিকার হতে পারি। তাই সারা জীবন সুস্থ থাকার জন্য- যে পদক্ষেপ গুলো আপনাকে গ্রহণ করতে হবে তা আমি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার  করতে চলেছি।


Related Post: কিভাবে কিডনি ভাল রাখবেন


একজন প্রপ্ত বয়স্ক মানুষের দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। আর একজন শিশুর কমপক্ষে ১-২ লিটার পানি পান করতে হবে। কারণ আমরা জানি, এই পানি শরীরের তাপমাএা স্বাভাবিক রাখে, ত্বক পরিস্কার করে, টক্সিন দূর করে। সেইজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা ত্বকের সুস্থতার জন্য নামি দামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর চেয়েও পানি পানের গুরুত্ব দিতে বলেছেন। কিডনিকে সুস্থ রাখা এবং ক্ষুধা নিয় আরও শত উপকার রয়েছে পরিমিত নিরাপদ পানি পানের। তাই সুস্থতার জন্য চুমুকে চুমুকে পানি পান করুন।

তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের ১ম করণীয় হচ্ছে- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা।

একটি গবেষনায় দেখা গেছে যারা সকালে নাস্তা না করে একেবারে দুপুরে খাবার গ্রহণ করে তারা খুব দ্রুত মুটিয়ে যান। কেননা সকালের নাস্তা বাদ দেওয়ার কারণে সবাই দুপুরে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করে। সকালে নাস্তা পর্ব বাদ দিলে এসিডিটি, অতিরিক্ত ক্ষুধা, স্মতি শক্তি কমে যাওয়াসহ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এসব ক্ষতিকর দিক না জানার কারণে আমরা সকালের নাস্তাকে তেমন গুরুত্ব দেই না অথচ সুস্বাস্থের জন্য সকালের নাস্তার কোন বিকল্প নেই। তাই সকালে পুষ্টিকর ফলমূল দিয়ে পেট ফুরে খাবার গ্রহণ করুন।

তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের ২য় করণীয় হচ্ছে- প্রতিদিন সকালে নাস্তা করা।

আমরা একেবারে অনেক খাবার খাই, খেতে খেতে গলা পর্যন্ত খাবার দিয়ে ভরিয়ে ফেলি। এটি সুস্বাস্থের পথে অন্তরায়। একে বারে অনেক খাবের না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার গ্রহণ করুন। এভাবে মেটাবলিজামও ভালো  কাজ করে। তাই একেবারে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে সারাদিন খান। তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ থাকার জন্য আমদের ৩য় করণীয় হচ্ছে- অল্প অল্প করে সারাদিন খাওয়া।

আমদের খাবার গ্রহণে কোন নির্দিষ্ট টাইম টেবিল থাকেনা। যখন ইচ্ছে হল তখনি আমরা খাবার খেতে বসে যাই। অথচ এটি ভুল একটি চর্চা। আমদের উচিত প্রতিদিন সকাল ৭.০০-৮.৩০ এর মধ্যে সকালের নাস্তা, ১.০০-২.০০টার মধ্যে দুপুরের খাবার, ৫.০০-৬.০০ টার মধ্যে বিকালের নাস্তা এবং ৮.০০-৯.০০ টার মধ্যে রাতের খাবার গ্রহণ করা। তাহলে আমরা শারীরিকভাবে ফিট এবং সুস্থ থাকতে পারবো। তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের ৪র্থ করণীয় হচ্ছে- সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করা।

প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম সুস্থতার পথে আপনাকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। তাই প্রতিদিন ব্যায়াম করুন, ব্যায়ামের উপকারীতা অনেক। যত ধরনের ব্যায়াম আছে তার মধ্যে যোগ ব্যায়ামের উপকারীতা বেশি। যোগ ব্যায়ামে দেহের ক্ষয় হয় না, ফলে ক্ষয় পূরণের জন্য বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। তাই সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম করুন, ব্যায়ামের মধ্যে যোগ ব্যায়াম ভালো।

তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের ৫ম করণীয় হচ্ছে- ব্যায়াম করা।

কিছু ঝুকিপূর্ন অভ্যাস আছে যেগুলো প্রানঘাতি, মহামারি এবং দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করে। স্বল্প মেয়াদে এই অভ্যাসগুলোর অনেক সময় কোন লক্ষন না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো বিরাট ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, সিগারেটকে না বলা, মাদক গ্রহণ থেকে দূরে থাকা, বাইরে খাবার না খওয়া, এবং বিশুদ্ধ পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তখন আমদের সুস্থ থাকা খুব সহজ হয়ে যাবে।

তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ থাকার জন্য আমদের ৬ষ্ট করণীয় হচ্ছে- ঝুকিপূর্ন অভ্যাস ত্যাগ করে ভাল অভ্যাস গড়ে তোলা।


Youtube Video: সারা জীবন সুস্থ থাকার উপায়


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন