ব্রেক আপ এর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

আবেগীয় সম্পর্কের নাম ভালবাসা। ভালবাসার পূর্ণ আনন্দ যারা পান তারাই এর প্রতি মোহাচ্ছন্ন হয়ে যান। নিজের যে কোন প্রয়োজন উজাড় করে প্রিয়জনের মন রক্ষা করে চলতে চান। কিন্তু সব সুখ, সব আনন্দ, সব ভালবাসা স্থায়ী হয় না। সম্পর্কের শুরুতে প্রেমিক বা প্রেমিকা কেউই খুব দুর্বল থাকেন না। আমি তাকে না পেলে বাচবো না- এমন চিন্তাও কারো থাকে না। কারণ সম্পর্কের শুরুতে প্রেমিক-প্রেমিকাকে নিয়ে আমাদের মাথায় কোন তথ্য, স্মৃতি, প্রতিশ্রুতি থাকে না। কিন্তু যত দিন গড়ায়, তত প্রেমিক-প্রেমিকেরা একজন আরেকজনকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করে। যত বেশিক্ষন, বেশিবার, আমরা প্রেমিক-প্রেমিকাকে নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকি, তত এসব চিন্তা ভাবনা আমাদের সাবকন্সাস মাইন্ডে সংরক্ষিত হয়ে যায় এবং একটা সময় আমরা স্বতস্ফূর্তভাবে অভ্যস্ত হয়ে যাই প্রেমিক-প্রেমিকার কথা চিন্তা করতে। আমাদের ডিফল্ট ভাবনায় তখন প্রেমিক-প্রেমিকার কথা অটো চলে আসে। পছন্দের মানুষটি এখন কি করছে, তার কোন অসুবিধা হয়েছে কিনা অথবা দুজনের একত্রে কাটানো রোমান্টিক কোন দৃশ্য বা যৌন চিন্তা করতে থাকি। যেহেতু এই প্রেমের সাথে আবেগীয় কিছু বিষয় জড়িত তাই এসব চিন্তাভাবনা আমাদের চুম্বকের মত টানতে থাকে। গড়ে প্রতিদিন ৪/৬ ঘন্টা আমরা আমাদের প্রেমিক বা প্রেমিকার কথা ভেবেই কাটিয়ে দেই।


Related Post: সম্পর্কে সন্দেহ বা জেলাসির মূল কারণ এবং করনীয়


বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে দেখেছেন- এসব চিন্তা ভাবনার কারণেই কেউ প্রেমাসক্ত হয়ে যায়, মোহাচ্ছন্ন হয়ে যায়। যার চিন্তার পরিমান বেশি, সে তত বেশি আবেগ এবং মানসিকভাবে দুর্বল থাকে তার পার্টনারের প্রতি। এক মূহুর্তের জন্য সে তার পার্টনার ছাড়া চিন্তা করতে পারে না কিন্তু সব প্রেমিক বা প্রেমিকারাই সমান সিরিয়াস থাকে না সম্পর্ক নিয়ে। কেউ কেউ হয়ত টাইম পাস, ঘোরাঘুরি, ফূর্তি এসব করছেন সেই সাথে নিজের কাজ কর্মও ঠিক রাখছেন। রাত-দিন অন্যকে নিয়ে ভাবার এতো টাইম তাদের নাই। তাদের Motto হল- Why so serious man?

তাই কখনো যৌক্তিক কারণে, কখনো অযৌক্তিক কারণে- প্রেমিক বা প্রেমিকা যে কেউই সম্পর্কচ্ছেদ করতে পারে, ব্রেকআপ করে ফেলতে চাইতে পারে। পরকীয়া, মনমালিন্য, মন-মানসিকতার মিল না হওয়া, বিশ্বাসের ঘাটতিসহ অন্য একাধিক কারণে ব্রেক-আপ হতে পারে। যে সমস্যার কারণেই এই ব্রেক-আপ হোক না কেন, কখনো প্রেমিক বা প্রেমিকা উভয়েই, কখন কোন একজন কষ্ট পেয়ে থাকেন বা ভেঙ্গে পড়তে পারেন। তো কারণে বা অকারনে, ভালবাসায় অথবা ঘৃনায় যদি সম্পর্ক নষ্টই হয়ে যায়, যদি ব্রেক আপই হয়ে যায় তাহলে ব্রেক আপের এই কষ্ট থেকে, এর সাময়িক ধকল থেকে কিভাবে মুক্ত হবেন তা আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি।

সলিউশন নম্বর-১ মন থেকে মেনে নিন ব্রেক আপ হয়েছে।

আমাদের যখন ব্রেক আপ হয় আমরা তো প্রথম কদিন সেটা মেনেই নিতে চাইনা যে আমাদের ব্রেক আপ হয়েছে। ব্রেক আপ হওয়ার পরেও আমরা নিজের মনকে বোঝাতে পারি না বরং বোঝাতে গেলে মন আরো তেড়ে উঠে, কথা শুনতে চায় না। নতুন এই সত্যকে কে সে সত্য বলে মানতেই চায় না। কি করেই বা মানবে? এত স্মৃতি, এত এত প্রতিশ্রুতি- কিভাবে সব ভুলে যাওয়া সম্ভব? কোন ভাবেই না।

হ্যা, মনকে বোঝানো খুব কঠিন একটি কাজ। তার সাথে জোরাজুরি করা যায় না, তাকে বোঝাতে হবে তার প্রক্রিয়ায়, খুব ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে। মনের নিজস্ব একটি ভাষা আছে, সেই ভাষায় তাকে বলতে হব- মনরে মন, আমি তো তোর বন্ধু, আমাকে তুই একটু বোঝ, যা হবার হয়ে গেসে, বরং ভালই হয়েছে, বাদ দে এসব তুই জীবনে খুব ভাল কিছু করতে পারবি এবং এরকম আরো ভাল, যোগ্য মেয়ে তোর পিছনে পিছনে ঘুরতে থাকবে। এভাবে আসতে আসতে বোঝালে মন আসতে আসতে বুজবে। তবে মনকে টাইম দিতে হবে এই কথা টুকুন শোনার জন্য। যদি মন থেকে মেনে নিতে পারি তাহলে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে ভোলায় প্রক্রিয়াতে আমরা প্রবেশ করি, মন শান্ত হয়, আসতে আসতে মনের জড় কমতে থাকে। তাই মন থেকে মেনে নিন আপনার ব্রেক আপ হয়েছে। এই সম্পর্কটি শেষ হয়েছে, হাতছানি দিয়ে ডাকছে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা।

সলিউশন নম্বর-২ যোগাযোগের সকল মাধ্যম অফ করে দিন।

ব্রেক আপের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপের অন্যতম কঠিন একটি অংশ হল- মেয়েটির সাথে সমস্ত প্রকার যোগাযোগ অফ করে দেওয়া। যে যে মাধ্যমে- আপনার মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসএপ, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপ চ্যাট, স্কাইপি, ইমো ইত্যাদিতে সে কানেকট ছিল সে সব কিছু থেকে মেয়েটিকে ব্লক করে দিন। খুবই ভাল হয় যদি আপনি আপনার সিম টি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন। তাহলে আপনার এবং তার মধ্যে পুনরায় কথা হওয়ার যোগাযোগ হওয়ার আর চান্স থাকবে না। আর হ্যা মনে রাখবেন, একবার যখন ফাটল ধরেছে, সে ফাটলে যত জোড়া দিতে চাইবো আমরা সেটা ফাটলই থেকে যাবে। যে মেয়ে-ছেলে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেসে, সে মেয়ে-ছেলে আমাদের আবার ছেড়ে চলে যেতে পারে। তাই যোগাযোগ বন্ধ করার ব্যাপারে দৃহ প্রতিজ্ঞ হোন, সিদ্ধান্তে অটল থাকুন।

সলিউশন নম্বর-৩ সব স্মৃতিগুলো মুছে ফেলুন

প্রিয় মানুষটির পাঠানো সব মেসেজ অতি যত্নে তুলে পাঠানো ছবি, প্রতি দেখায় দেয়া ছোট ছোট উপহার সামর্থ্য ভাল হলে থ্রি-পিস, ফোর পিস অথবা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। মানুষটির সাথে ঘরতে যাওয়া প্রতিটি জায়গা, সব কিছু এখনো স্পষ্ট আমাদের মনে অথচ সেই মানুষটি আগের মত স্পষ্ট নয়, ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে। তাই যেখানে প্রিয় এই মানুষটির কোন অস্তিত্ব নেই সেখানে তার এতো সব স্মৃতি মনে রেখে কি করবো আমরা? ব্রেক আপের নিদারুণ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের যত দ্রুত সম্ভব প্রেমিক/ প্রেমিকার সকল প্রকার স্মৃতি মুছে ফেলতে হবে। যত দ্রুত আমরা এসব স্মৃতি মুছে দিব, ফেলে দিব বা নষ্ট করে দিব ততো দ্রুত তাকে ভোলা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে।

সলিউশন নম্বর-৪ রিলেশনের কথা জানে বা জিজ্ঞাসা করতে পারে এমন সবার সাথে যোগাযোগ অফ করে দিন।

জীবনের সবচেয়ে আবেগীয় যন্ত্রনা থেকে মুকতি পাওয়ার জন্য আমাদের বেশ জোরেসোরেই পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু মাত্র প্রেমিক বা প্রেমিকাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টার পরেও এমন কিছু ফাঁদ আছে যে ফাঁদগুলো বন্ধ না করলে কখনোই ঐসব জঘিন্য বিষয়গুলো ভুলতে পারবেন না। তাই রিলেশন চলা অবস্থায় যাদের যাদের সাথী পরিচিত হয়েছেন বা যেসব বন্ধু, আন্মীয় বা সহযোগী আছেন তাদের সবার সাথে যোগাযোগ অফ করে ফেলুন। এসব পরিচিতরা প্রায় আপনার প্রেমিক-প্রেমিকার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে আপনার রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারে। তাই এসব আগাছা পরিষ্কার করে ফেলুন। তাহলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আমাদের দিকে আসতে থাকবে। ব্রেক আপের যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে সামলাতে পারবো।

সলিউশন নম্বর-৫ মোবাইল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন

সম্পর্কে যদি একবার ফাটল ধরে, বিশ্বাস যদি একবার নষ্ট হয় তাহলে সে সম্পর্ক রেখে বা সে সম্পর্কে থেকে কোন লাভ নেই। আবার যদি প্রেমিক বা প্রেমিকা ক্রমাগত ব্ল্যাক মেইল করে যায়- কোন কিছুর জন্য প্রেসারাইজ করে অথবা অন্য এক বা একাধিক কারনে ব্রেক আপ হয়ে যেতে পারে। যদি কেউ আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চায় তাহলে কেন আমরা তার পিছনে পড়ে থাকবো? নিজের সেলফ ইস্টিম নষ্ট করবো?

তাই এই সম্পর্কের শেষ হওয়া পর্যন্ত, সকল প্রকার ক্ষতিকর আবেগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আপনার দরকার নির্দিষ্ট ওই মানুষটির অর্থাৎ যাকে ভুলতে হবে তার সাথে দীর্ঘ দিন সকল প্রকার যোগাযোগ অফ করা এবং অন্য দরকারি কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। তাহলেই সম্ভব সে সব খারাপ স্মৃতি ভুলে গিয়ে নিজেকে সামলে নেয়া। আর সেজন্য সমস্ত প্রকার ইলেকট্রিনিক ডিভাইস- মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ইত্যাদি থেকে বিরত থাওক্তে হবে। তাহলে আপনার পক্ষে ব্রেক আপ এর যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হওয়া পসিবল হবে।

সলিউশন নম্বর-৬ সমস্ত প্রকার চিন্তা ভাবনা অফ করে দিন।

ব্রেক আপের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যদি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলতে বলে, তাহলে আমি একটি পরামর্শ দিব- যাকে ভুলতে চান তার বিষয়ে সমস্ত প্রকার চিন্তা ভাবনা অফ করে দিন। যে কোন চিন্তা ভাবনা ভাল বা মন্দ যাই হোক সে সব ভাবনা বন্ধ করে দিন। তাহলে ধীরে ধীরে সম্ভব হবে ব্রেক আপের সমস্ত যন্ত্রণা ভুলে যাওয়ার। তাই পারমানেন্টালি কাউওকে ভুলতে হলে তার বিষয়ে কথা বলা, চিন্তা ভাবনা অফ করে দিন। যদি মস্তিষ্ক থেকে চিন্তা ভাবনা অফ করতে পারেন, তাহলে বাস্তবে তাকে ভুলে যাওয়া হবে কেবল সময়ের ব্যাপার।

এই ৬টি টিপস যদি ভাল করে মেনে চলতে পারেন, তাহলে শুধু প্রেমিক প্রেমিকাই নয় যে কাউকে ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে জীবন শুরু করতে পারবেন। যদি সত্যিই আপনি এমন বিদ্রুপ পরিস্থিতিতে পড়ে থাকেন তাহলে আমার দোয়া রইল আপনি আপনারা যাতে এই যন্ত্রনা থেকে, গজব থেকে মুক্ত হতে পারেন। পরম করুণাময় আপনার সহায় হোক।


Related Post: কেমন মেয়েকে বিয়ে করবেন


নিচে কমেন্টস বক্সে আর্টিকেল বিষয়ে মতামত দিন

শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার বন্ধুদের এই আর্টিকেল বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন